বুধ-বৃহস্পতিবার দুই দিন হরতাল বাড়ল

26

ঢাকা : অচিরেই দিনের বেলাতেও সকল সরকারি অফিস বন্ধ করে দিতে সরকার বাধ্য হবে বলে মন্তব্য করে বুধবার সকাল ছয়টা থেকে শুক্রবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টা হরতালের সময় বাড়িয়েছে ২০ দলীয় জোট। আগের ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার সকাল ছয়টায় চলমান হরতাল শেষ হওয়ার কথা ছিল।dd
বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ এক বিবৃতিতে বলেন, ২০ দলীয় জোটের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও সকল রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে এবং এখন পর্যন্ত অবৈধ সরকার গণদাবি মেনে না নেয়ায় ২৪ ঘন্টার হরতাল দেওয়া হল। চলমান অবরোধ কর্মসূচির পাশাপাশি পূণরায় বুধবার সকাল ৬ টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬ টা পর্যন্ত দেশব্যাপী চলমান সর্বাত্মক হরতাল কর্মসূচি বর্ধিত করা হলো।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাত ৯ টার পর মহাসড়কে বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণার মধ্য দিয়ে প্রকারান্তে সরকারের অস্তিত্বহীনতাকেই স্বীকার করে নেয়া হলো। অচিরেই সরকার দিনের বেলাতেও সকল সরকারী অফিস বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে। আওয়ামী সরকার অবৈধ ক্ষমতা পাকাপোক্ত অসৎ উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়েই তারা জনপ্রশাসন, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিকে বেআইনীভাবে বিরোধী দল দমনে সকল নিষ্ঠুর প্রক্রিয়ায় এগুচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, ইতোমধ্যে দলীয়করণ, কুক্ষিগত বিচার ব্যবস্থা ও দলীয় মনোভাবাপন্ন বিচারকদের মাধ্যমে বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে ওপর বিচারিক নির্যাতনের মহড়া চালানো হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী চলমান রাজনৈতিক সংকটকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ নামে অভিহিত করেছেন। মূলত: পঞ্চদশ সংশোধনীর পক্ষে শেখ হাসিনার একক সিদ্ধান্ত ও ক্ষমতা চিরস্থায়ীকরণে তার উগ্র বাসনাই কথিত মানবসৃষ্ট দুর্যোগের উৎপত্তির কারণ এবং সেজন্য তিনি ও তার দল দায়ী বলে সালাহ উদ্দিন দবি করেন।
প্রকৃত অর্থে ক্ষমতা চিরস্থায়ীকরণে আওয়ামী উগ্র বাসনাই চলমান রাজনৈতিক সংকটের মূল কারণ। জনগণের প্রবল শক্তির কাছে নতি স্বীকার করা ছাড়া আওয়ামী অবৈধ সরকারের কোন গত্যন্তর নেই। রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারিরা এখন তাদের পতনের প্রহর গুণছে।
নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের গণদাবিতে ২০ দলীয় জোটের আন্দোলন চলছে। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এ আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্য নিয়ে আওয়ামী সরকার নিজেরাই সহিংস ঘটনা ঘটিয়ে বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপানোর অপকৌশল অবলম্বন করছে।
এসময় কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করার জন্য বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীকে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে উদ্বাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
গণদাবির বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকে পিছপা হবেনা ২০ দলীয় জোট বলে বিএনপির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে।