আমরা কি রাসূল সা:-এর উম্মত

44

আনসার আব্mdinaবাসী:
মুসলিম বিশ্ব ও বিশ্ব মুসলিম নেতাদের অবস্থা দেখে হৃদয়ে রক্তের অশ্র“ ঝরছে। প্যারিস ঘটনার পর তো সাধারণভাবে তাদের মনোভাব বলা বাহুল্য হৃদয়কে তবিত করে দিয়েছে। আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শানে প্রকাশ্যে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপকারী ও বেয়াদবিপূর্ণ আচরণকারীদের বিরুদ্ধে পুরো মুসলিম বিশ্বে কথা বলার কেউ নেই বরং উল্টো বেয়াদবি আচরণমূলক অবমাননাকারীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করা হচ্ছে। প্যারিস ঘটনার পর তো অবমাননাকর ধৃষ্টতা প্রদর্শনকারীরা নিজেদের ঘৃণ্য কৃতকর্মসহ আরো খোলাখুলি সামনে এসে পড়েছে। বড় বড় মুসলিম দেশ ও বড় বড় মুসলিম শাসক অনেক রয়েছেন, অথচ এমন কেউ নেই যে, তিনি এ সমস্যা নিয়ে পশ্চিমাদের সাথে গুরুত্বের সাথে আলোচনা করবেন এবং এমন এক কার্যকর পদপে নেবেন, যা দ্বারা ইসলামের বিরুদ্ধে এই নোংরা ষড়যন্ত্রের পরিসমাপ্তি ঘটানো যেতে পারে। আমরা তো দেড় শ’ কোটিরও বেশি মুসলমান রয়েছি, অথচ শার্লি এবদু ও তার মতো অন্য পত্রপত্রিকা যা কিছু করে যাচ্ছে তার বিরুদ্ধে না আছে কোনো মিলিয়ন মার্চ, না আছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে কূটনৈতিক প্রতিবাদ। উল্টো তাদের প্রতি সমবেদনা ও সহানুভূতি প্রকাশ করা হচ্ছে। অন্যদের প্রতি কী অভিযোগ করব, দুঃখ তো নিজেদের নিয়ে, যারা মতা রাখা সত্ত্বেও সেই পবিত্র মহান ব্যক্তিত্বের সম্মান রায় নীরব দর্শক হয়ে বসে রয়েছে। অথচ তিনি এমন মহান ব্যক্তি, যাঁর প্রতি আমাদের ভালোবাসা আমাদের নিজেদের জীবন, নিজেদের বাবা-মা ও সন্তানের জীবন এবং সম্পদের চেয়ে বেশি হওয়া কুরআন-হাদিস মোতাবেক অবশ্যই জরুরি। আখেরাতে আমরা তো আল্লাহর আদেশে নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শাফায়াতের মুখাপেী হবো। কিন্তু আমাদের চালচলন যখন এমন হবে, তখন আমরা কিভাবে তাঁর কাছে দরখাস্ত করব যে, আল্লাহর কাছে আমাদের প্রতি দয়া ও আমাদের গুনাহ মাফের সুপারিশ করুন? বুখারির একটি হাদিস মোতাবেক যখন কিয়ামতের দিন আসবে এবং মানুষ চরম পেরেশান ও ভীতসন্ত্রস্ত হবে, তখন তারা হজরত আদম আ:-এর কাছে গিয়ে দরখাস্ত করবে, আল্লাহ তায়ালার কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। হজরত আদম আ: বলবেন, আমি এটা করতে পারব না। তিনি মানুষদের বলবেন, তোমরা হজরত ইবরাহিম আ:-এর কাছে যাও। তিনি আল্লাহর খলিল ও বন্ধু। যখন পেরেশানগ্রস্ত মানুষ হজরত ইবরাহিম আ:-এর কাছে যাবে এবং একই দরখাস্ত করবে, তখন তিনিও তাদের বলবেন, আমি এমনটা করতে পারব না। তিনি তাদের বলবেন, তোমরা হজরত মূসা আ:-এর কাছে যাও। তিনি কালিমুল্লাহ, আল্লাহর সাথে কথা বলতেন। হজরত মূসা আ:ও মানুষদের বলবেন, আমি এমনটা করতে পারব না। তিনি তাদের হজরত ঈসা আ:-এর কাছে যেতে বলবেন। হজরত ঈসা আ:ও বলবেন, আমি এটা করতে পারব না। তিনি তাদের বলবেন, শাফায়াতের জন্য হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে যাও। লোকেরা যখন দরখাস্ত নিয়ে তাঁর কাছে যাবে; তখন তিনি বলবেন, হ্যাঁ, আমি সুপারিশ করব। কেননা আমি আল্লাহ তায়ালার কাছে শাফায়াতের অনুমতি চাইব। আল্লাহ তায়ালা আমাকে এর অনুমতি দেবেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ তায়ালা এক বিশেষ ধরনের ‘হামদ’ বা প্রশংসাসংবলিত বাক্য প্রদান করবেন, যা পাঠ করে তিনি সেজদায় পড়ে যাবেন। আল্লাহ তায়ালা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলবেন, হে মুহাম্মাদ, মাথা ওঠান, বলুন, আপনি কী বলতে চান? আপনার কথা শোনা হবে। চান, আপনাকে দেয়া হবে। শাফায়াত করুন, আপনার শাফায়াত কবুল করা হবে। এ ঘোষণার ভিত্তিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলবেন, ইয়া রাব্বি, উম্মাতি উম্মাতি ও আমার রব, আমার উম্মতের ওপর দয়া করুন। তখন আল্লাহ তায়ালা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলবেন, যান, যার অন্তরে যবের দানা পরিমাণও ঈমান আছে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে আসুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুনরায় সেজদায় পড়ে যাবেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে আবার বলবেন, যার অন্তরে সরিষা পরিমাণও ঈমান আছে, তাকে বের করে নিয়ে আসুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুনরায় সেজদায় পড়ে যাবেন। এবার আল্লাহ তায়ালা তাঁকে বলবেন, যার অন্তরে সরিষার দানা অপো ুদ্রাণুুদ্র পরিমাণও ঈমান আছে, তাকে বের করে নিয়ে আসুন। তাকেও আল্লাহর আদেশে জাহান্নাম থেকে বের করে আনা হবে।
যে মহান ব্যক্তি চৌদ্দ শ’ বছর আগে আমাদের জন্য দিনরাত কেঁদেছেন, যিনি আমাদের আখেরাত সাজানোর জন্য সব রকমের কষ্ট ভোগ করেছেন, সারা রাত জেগে আমাদের হেদায়াত ও আখেরাতের সফলতার জন্য দোয়া করেছেন, যিনি আল্লাহর আদেশে আখেরাতে আমাদের মার একমাত্র ভরসা হবেন, আজ সেই মহান পূতপবিত্র ব্যক্তিকে অবমাননা করা হচ্ছে, আর আমরা নীরব দর্শকের মতো বসে রয়েছি। এ বড় দুঃখ ও আফসোসের কথা। আমি গুলি-বন্দুকের কথা বলছি না। মুসলিম বিশ্বের শাসক ও নেতাদের কাছে আমার আবেদন শুধু এতটুকু যে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের এমন পথ অবলম্বন করুন, যার দ্বারা আমরা পশ্চিমাদের বাধ্য করতে পারি যে, তারা যেন আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে ধৃষ্টতাপূর্ণ অবমাননাকর আচরণ পরিত্যাগ করে। আর প্রায় সব মুসলিম দেশেরই এই একই অবস্থা। মিডিয়ার অবস্থাও খারাপ। শোয়েব মালিক-সানিয়া মির্জার বিয়ে কিংবা ইমরান খান ও রেহাম খানের বন্ধন, কোনো নায়ক-নায়িকার বিবাহবার্ষিকী বা জন্মদিন অথবা অন্য কোনো বিনোদন মিডিয়ার কাছে এমন কাজের জন্য সময়ের কোনো অভাব নেই। কিন্তু আফসোস! প্যারিস ঘটনার পর উন্মোচিত এ পরিস্থিতির ওপর না কোনো টকশো হলো, না কোনো সংবাদ বিশ্লেষণ হলো। মুসলমানদের জোরালো ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জন্য তৈরি করতে শাসকগোষ্ঠী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি মিডিয়া ও উলামায়ে কেরামের বিশাল দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, সব কিছু দেখেশুনে মনে হচ্ছে, যেন কিছুই হয়নি। ও আমার রব, আমরা কোন মুখে আখেরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে গিয়ে দাঁড়াব?