রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বাড়বে

33
বিশেষ সংবাদদাতা : rnবিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়বে। শুধু তাই নয়, এই সুযোগে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে খেলাপি ঋণ মওকুফ ও ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য চাপও আসবে। বর্তমানে দেশের অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে পুরো ব্যাংকিং খাতে বিপর্র্যয় নেমে আসবে।

গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং বিভাগে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও বিশেষায়িত ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও শীর্ষ নির্বাহীদের সাথে ব্যাংকিং সচিবদের বৈঠকে বিভিন্ন সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তারা এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডিদের পাশাপাশি গতকাল সকাল থেকে ব্যাংকিং বিভাগের আওতায় ৩০টি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার শীর্ষ নির্বাহীদের সাথেও বৈঠক করেন ব্যাংকিং সচিব। এর মধ্যে বীমা ও পুঁজিবাজার সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানও ছিল।

বৈঠকের বিষয়ে ব্যাংকিং সচিব ড. এম আসলাম আলম এই প্রতিবেদক গতকাল বিকেলে বলেন, ব্যাংকিং খাতের অভ্যন্তরীণ কমপ্লায়েন্স, অটোমেশন, ও খেলাপি ঋণ কমানোর বিষয়ে আমরা সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছি। একই সাথে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ‘পুরস্কার ও শাস্তি’ প্রথা চালু করার কথা বলেছি। আশা করা যাচ্ছে, এতে করে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাত একটি ভালো অবস্থায় চলে আসবে। তিনি বলেন, গত বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার কমে গেছে। কিন্তু বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়বে বলে শঙ্কা ব্যক্ত করেছেন ব্যাংকাররা।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্যাংকিং খাতে গত বছরে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই এক বছরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৯ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা। গত বছরের ডিসেম্বরে এসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ১৫৬ কোটি টাকায়। আলোচ্য সময় পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে বিতরণ করা মোট ঋণের ৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ খেলাপি হয়ে গেছে। ২০১৩ সালে মোট বিতরণ করা ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৯ শতাংশ। এক বছরের হিসাবে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বেসিক ব্যাংকের। এক বছরে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৫ হাজার ৭২ কোটি টাকা।

 

এ সময়ে সরকারি চারটি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে সরকারি চার ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। সরকারি ব্যাংকগুলো ব্যাপক হারে খেলাপি ঋণ নবায়ন করে এর পরিমাণ কমাতে সম হয়েছে। গত ডিসেম্বরে সোনালীর ৮ হাজার ২২৪ কোটি, জনতার ৩ হাজার ২৮৪ কোটি, অগ্রণীর ৩ হাজার ৭০৬ কোটি এবং রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা।

সোনালী ও বেসিকের খেলাপি ঋণের প্রতি দৃষ্টি আকর্র্ষণ করা হলে ব্যাংকিং সচিব বলেন, গত এক বছরে ব্যাংক দু’টির পরিস্থিতি আগে চেয়ে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কিন্তু এর আগে এ ব্যাংকে যে ঘটনা ঘটে গেছে তার জন্য ব্যাংক দুটোর সার্বিক উন্নতি কত দিনে ঘটবে তা বলা দুষ্কর।