রোহিঙ্গাদের জন্য লড়তে যাচ্ছে আল-কায়েদা: দিল্লি পুলিশ

43

নিউজ ডেস্ক:: আল কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তারের পর দিল্লি পুলিশের বিশেষ বাহিনী জানায়, দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হয়ে কাজ করছিল ওই ব্যক্তি। গ্রেপ্তারের দুইমাস পর ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে সূক্ষ্ম তদন্তের জন্য জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)-কে নির্দেশ দিয়েছে। খবর- ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর দিল্লির পূর্বাঞ্চল সাকারপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সামিউন রহমান ওরফে সুমন হক ওরফে রাজু ভাই। জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজেকে যুক্তরাজ্যের নাগরিক হিসেবে দাবি করে। সেই সঙ্গে ২০১৩ সাল থেকে আল কায়েদার সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথাও স্বীকার করে নেয় সে।

তাকে গ্রেপ্তারের দিনই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ‘বিপজ্জনক এবং জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল।

গ্রেপ্তার সামিউন রহমানের কাছ থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল, একটি ল্যাপটপ এবং মোবাইল উদ্ধার করা হয়। অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ২০০৮ সালের বিধান অনুযায়ী অস্ত্র আইনে মামলাও করা হয় তার বিরুদ্ধে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, তদন্তকারীদের কাছে তথ্য রয়েছে, ২৭ বছর বয়সী সামিউন ভারতের বিভিন্নস্থানে হামলার সঙ্গে জড়িত। গত সপ্তাহ থেকে তার বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে এনআইএ।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, ইন্টারনেটের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে তার ল্যাপটপে। এছাড়া মরক্কো, মৌরিতানিয়া, তুরস্ক, সিরিয়া, বাংলাদেশ এবং ভারতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভ্রমণ করে সে।

দিল্লি পুলিশ জানায়, সিলেটের নবীগঞ্জ, ঢাকাসহ বেশ কিছু জায়গায় সফর করেছে সামিউন। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ২০১৪ সালে বাংলাদেশে আটকও হয়েছিল সে।

সামিউনের মামলার ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এনআইএ।

এনআইএর জানায়, ২০১৭ সালের জুলাইয়ে ভারতে যায় সামিউন। তার উদ্দেশ্য ছিল, মিজোরাম ও মণিপুরে রোহিঙ্গাদের জন্য তহবিল সংগ্রহ করা এবং রাখাইন রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সেখানে প্রবেশে সহায়তা করা। রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হয়ে লড়াইয়ে সহায়তারও পরিকল্পনা ছিল তার।