এক লাখ রোহিঙ্গার বাসস্থান হবে ভাসানচরে

42

নিউজ ডেস্ক:: নোয়াখালীর ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। যেখানে এক লাখ রোহিঙ্গাকে সাময়িক আশ্রয় দেওয়া হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে দুই হাজার ৩১২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
নোয়াখালীল ভাসানচরে এক লাখ রোহিঙ্গা আবাসনসহ ১০ হাজার ৯৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ১৪টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে একনেক।

এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১০ হাজার ৪৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৫০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল।

এ সময় পরিকল্পনা সচিব মো. জিয়াউল ইসলাম, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব মো. মফিজুল ইসলাম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা সচিব কে এম মোজ্জামেল হকসহ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যেই মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছে। আশা করছি ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে সেদেশের নাগরিকরা ফেরত যাওয়া শুরু করবে। এরপরও তারা যতদিন এখানে অবস্থান করবেন তাদের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে ভাসানচরে ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,সরকার সবসময় বাণিজ্যিক লাভ দেখে প্রকল্প হাতে নেয় না। মিয়ানমার থেকে আসা সেদেশের নাগরিকরা কষ্টে আছেন। তাদের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আশা করি আমরা নিজেদের টাকায় কাজ শুরু করলেও বিদেশীরা সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসবে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী এক বছরের মধ্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের সবগুলো পাকা রাস্তা পুর্নবাসনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এখন থেকে নতুন রাস্তা না করে পুরনো রাস্তাগুলো আবার পাকা করতে হবে। এছাড়া এখন থেকে রাস্তা তৈরির সময় দু’পাশে জলাধার এবং ধীর গতির যান চলাচলের ব্যবস্থা রাখারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

‘আশ্রয়ণ-৩ (নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানাধীন চরঈশ্বর ইউনিয়নস্থ ভাসানচরে নিজ দেশ থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত এক লাখ মিয়ানমারের নাগরিকদের আবাসন এবং দ্বীপের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ’প্রকল্পের পটভূমিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি অর্থেই এক লাখ রোহিঙ্গাকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি চলতি বছর ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের নভেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে।