তাহিরপুরে ১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাজের লোপাট!

23

তাহিরপুর প্রতিনিধি ::
তাহিরপুর উপজেলায় ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে ১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের ১৬ লক্ষ টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। বরাদ্ধ পাওয়া সবকটি বিদ্যালয়ে নামমাত্র কাজ ও ক্ষেত্র বিশেষ হোয়াইট ওয়াস (চুনকাম) কাজ করেই বিল ভাউচার জমা দিয়ে বরাদ্ধের টাকা উত্তোলন করে নেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণকুল, মেঞ্জারগাও, মাহমুদপুর, মানিকখিলাসহ একাধিক বিদ্যালয় গিয়ে দেখা যায় অধিকাংশ বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামতের কোন কাজই হয়নি। চুনের মধ্যে পিরিটন মিশিয়ে নামমাত্র ওয়াশ করা হয়েছে। তবে অধিকাংশ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবী তারা সম্পুর্ণ টাকার কাজ করিয়েই টাকা উত্তোলন করছেন।
এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি মিলে লোক দেখানো কাজ করে শিক্ষা অফিসকে ম্যানেজ করে টাকা উত্তোলন করে ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছেন।
সম্প্রতি এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলা বালিজুড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণকূল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মুরশেদা বেগমের সাথে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ ওয়ারিং ও চুনকাম করে মেরামত কাজের সমাপ্তি করেছেন তিনি। বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবন নির্মানের সময় বিদ্যুৎ লাইন করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনারা বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আলীনূর মিয়ার সাথে কথা বলতে পারেন।
কমিটির সাবেক সভাপতি আলীনূর মিয়া বলেন, কাজ যে পরিমানই হোক আমরা তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে আলোচনা করেই করেছি। বর্তমান সভাপতি শাহরিয়ার আলম বলেন, আমার জানামতে বিদ্যালয়ে শুধুমাত্র চুনকাম করা হয়েছে। বিদ্যালয় ভবনটি নির্মানের সময়ে ওয়ারিং এর কাজ করা ছিল।
একই অবস্থার কথা জানালেন বাদাঘাট ইউনিয়নের ইউনুছপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্যাচম্যান্ট এলাকার বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য দ্বীন ইসলাম তিনি জানান, বিদ্যালয়ে মেরামতের কোন কাজই হয়নি। চুনকাম হয়েছে তাও লোক দেখানো।
উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের তেলিগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজাহারুল ইসলাম বলেন, উত্তোলিত টাকা দিয়ে তিনি বিদ্যালয়ে সিড়ির কাজ করিয়েছেন। বিদ্যালয় এলাকার বাসিন্দা রঞ্জু পাল জানান, সিড়িটি বিদ্যালয়ে আগেই ছিল, পুরাতন সিড়িটি মেরামত করতে হাজার দশেক টাকা লাগতে পারে। একই অবস্থা বিরাজমান উপজেলার উক্তিয়ারগাঁও, রসুলপুর, বাঁশতলা, চানপুর, লোহাজুড়ি, মধুয়ারচর, লক্ষীপুর, লাউড়ের গড়, মাহমুদপুর, পিরিজপুর, মেঞ্জারগাঁও, মানিগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
সূত্র জানায়, ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য বিভিন্ন বিদ্যালয় টাকা বরাদ্ধ পেলেও যথা সময়ে কাজা না করিয়ে সবাই বসে থাকেন জুন মাসের অপেক্ষায়। চলতি বছর জুন মাসে উপজেলা শিক্ষা অফিসার হঠাৎ বদলি হয়ে চলে যান চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায়। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও প্রধান শিক্ষকগন শত ভাগ কাজ করেছেন দাবী করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছ থেকে বিলের সমুদয় টাকা নিয়ে যান।
এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলার সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিল ভাউচার জমাকালীন সময় আমার বদলির কাগজপত্র চলে আসে। তখন আমি ব্যস্ত থাকায় তদারকির সময় পাইনি।
বর্তমান উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস বলেন, এগুলো দেখার দায়িত্ব আমার নয়, যিনি বিল দিয়ে গেছেন তার বিষয়।