নগরীর ফুটপাত দখলকারী আরো ৫ জন কারাগারে

42

স্টাফ রিপোর্টার
সিলেট নগরীর ফুটপাত দখলদার ৫ জনকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত। গতকাল বুধবার মঙ্গলবার দুপুরে ঐ ৫ জন আদালতে আত্মসমর্পনপূর্বক জামিন আবেদন করেন। তাদের জামিন আবেদন শুণানী শেষে সিলেটের মূখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক সাইফুজ্জামান হিরো তাদেরকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন বলে জানিয়েছেন সিলেটের মূখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বেঞ্চ সহকারী আইয়ুব আলী ও আদালতের লকাপ ইনচার্জ এএসআই শফিকুল ইসলাম।
কারাগারে প্রেরণকৃত ফুটপাত দখলদার ৫ জন হলেন, মহানগর হকার্স কল্যান সমবায় সমিতির সহ-সভাপতি মৃত ইমাম উদ্দিনের ছেলে আতিয়ার রহমান, আলফু মিয়ার ছেলে শফিক আহমদ, মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে আবুল বাশার, আব্দুর রহমানের ছেলে আব্দুল আহাদ, মহানগর হকার্স কল্যান সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৃত আাব্দুল হালিমের ছেলে খোকন ইসলাম। এর আগে পুলিশের খাঁচায় আটকা পড়েন হকার্স লীগ নেতা রকিব আলী। তিনি সিলেট মহানগর হকার্স কল্যাণ সমবায় সমিতির সভাপতির পদে রয়েছেন।
গত রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর বন্দর বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌসুল হোসেন। তিনি আরো জানান, রকিবকে গ্রেফতারের পরের দিন আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। তিনি বর্তমানে কারাগারে আটক আছেন।
গত ১৮ অক্টোবর সিলেট মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতের বিচারক সাইফুজ্জামান হিরো হকার্স সমিতির সভাপতি রকিব আলীসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এ মামলায় এ পর্যন্ত ৭ জন কারাগারে আটক রযেছে। বাকিরা এখনও ধরাছোয়ার বাইরে।
জানা যায়, আদালতের নির্দেশে ১৬ অক্টোবর সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও কোতোয়ালি থানার ওসি গৌছুল হোসেন ফুটপাত দখলকারীদেও আশ্রয়দাতা হিসেবে ৩৮ জনের তালিকা আদালতে জমা দেন। সেই তালিকা অসম্পূর্ণ হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। এই তালিকার জমা দেওয়ার পর আদালত ২৬ জনের বিরুদ্ধে সিআর মামলা নথিভুক্ত করেন। এরপর এদের বিরুদ্ধে আদালত পরোয়ানা জারি করেন বলে জানান এই আদালতের এপিপি মাহফুজুর রহমান।
হকার্স লীগ নেতা রকিব আলী ছাড়াও পরোয়ানা জারি করা হয়- মহানগর হকার্স কল্যান সমবায় সমিতির সহ-সভাপতি আতিয়ার রহমান, শফিক আহমদ, আবুল বাশার, রুহুল আমিন রুবেল, মখলেসুর রহমান, আব্দুল আহাদ, সাধারণ সম্পাদক খোকন ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক রুমন আহমদ, জিন্দাবাজার অটোরিক্সা স্ট্যান্ডের আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক ইসলাম উদ্দিন, শফিক উদ্দিন, সদস্য সচিব ইফসুফ আলী, মধুবন পয়েন্ট ইমা/লেগুনা স্ট্যান্ডের সভাপতি সোহাগ মিয়া, সহ-সভাপতি মো. আদিল, সম্পাদক মো. কবির মিয়া, অর্থ সম্পাদক মো. বাবুল মিয়া, রংমহল ট্ওায়ার অটোরিকশা/সিএনজি স্ট্যান্ডের সভাপতি আজমল হোসেন, সহ-সভাপতি মুরাদ হোসেন, ধোপাদিঘির পাড় ইমা/লেগুনা স্ট্যান্ডের সভাপতি সাহাবউদ্দিন সাবু, সহ-সভাপতি ফয়জুল মিয়া, কার্যকরী সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক বদরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর নুর হিরণ, কোষাধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ ও অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন আম্বরখানা-সালুটিকর শাখার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য তেরা মিয়ার বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ মে ফুটপাত দখলকারীদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে সিলেট সিটি মেয়রকে নির্দেশ দেন মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত। এ ক্ষেত্রে মেয়রকে সহযোগিতার জন্য কোতোয়ালি থানার ওসিকেও নির্দেশ দেন আদালত। এ নির্দেশের প্রেক্ষিতে গত ৩০ মে নগরীর ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে সিসিক। এ বৈঠকের পর গত ১ জুন থেকে নগরীর বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার ও চৌহাট্টা এলাকায় ফুটপাতে অবৈধ দখলকারীদের উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে সিসিক। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই সে অভিযানে ভাটা পড়লে অবৈধ দখলদাররা ফিরে আসে।
এদিকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও ফুটপাত দখলকারী ও তাদের মদদদাতাদের তালিকা সংবলিত প্রতিবেদন জমা দিতে গড়িমসি করে সিসিক। গত ৮ জুন মেয়র প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় চেয়ে আদালতে আবেদন করলে তাকে এক মাসের সময় দেওয়া হয়। এর পর আরও তিন মাস অতিবাহিত হলেও মেয়র প্রতিবেদন দাখিল করেননি। একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনপ্রতিনিধি হয়েও কেন আদালতের আদেশ মেনে প্রতিবেদন দাখিল করছেন না, তার ব্যাখ্যা দিতে গত ৭ অক্টোবর তাকে আদালতে তলব করা হয়। এতে ১৬ অক্টোবর আদালতে স্বশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরো। এই নির্দেশের পর তালিকা নিয়ে আদালতে হাজির হন মেয়র।