‘র‌্যাগিং’য়ের অভিযোগে জাবিতে ১৩ শিক্ষার্থী শোকজ

27

নিউজ ডেস্ক ::
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) চারুকলা বিভাগের ৪৬ ব্যাচের এক শিক্ষার্থীর করা ‘শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন’র অভিযোগে একই বিভাগের ৪৪ ব্যাচের ১৩ শিক্ষার্থীকে শোকজ করেছে বিভাগটি। ওই শিক্ষার্থীদেরকে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। সোমবার চারুকলা বিভাগের সভাপতি এম এম ময়েজ উদ্দীন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে ৪৬ ব্যাচের ওই শিক্ষার্থী প্রক্টর ও বিভাগীয় সভাপতি বরাবর করা এক অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করে, গত ২২ নভেম্বর অভিযুক্ত চারুকলা বিভাগের ৫ সিনিয়র শিক্ষার্থী ওই শিক্ষার্থীকে পুরাতন কলা ভবনের পিছনে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে পার্শ্ববর্তী এক গর্তে নামতে বলে। তবে নামতে রাজী না হওয়ায় তাকে মারধর করে অভিযুক্তরা। ঘটনার পরে তাকে ফেলে রেখে তারা চলে যায়। এ সময় অভিযুক্তরা তাকে প্রাণনাশেরও হুমকি দেয়। এছাড়া অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন তাকে যৌন হেনস্তা করে বলে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেছে অভিযোগকারী।
৪৬ ব্যাচের ওই শিক্ষার্থীর করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৩ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান চারুকলা বিভাগের সভাপতি এম এম ময়েজ উদ্দীন। তিনি বলেন, একটি অভিযোগ পত্র পেয়েছি। সেখানে র‌্যাগিংয়ের শিকার এক শিক্ষার্থী বিচার চেয়েছে। এ ঘটনায় বিভাগের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা ৪৪ ব্যাচের ১৩ শিক্ষার্থীকে ৩০ তারিখের মধ্যে কারণ দর্শানোর চিঠি দিয়েছে।
এদিকে ৪৬ ব্যাচের ওই শিক্ষার্থীর করা ‘মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের’ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার প্রক্টর বরাবর পাল্টা লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ৪৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ পত্রে উল্লেখ রয়েছে, অভিযুক্ত প্রথম বর্ষের ওই শিক্ষার্থী গত ২২ নভেম্বর পুরাতন কলা ভবনের সামনে ক্লাস চলাকালীন ৪৪ ব্যাচের কয়েক মেয়ে শিক্ষার্থীর সাথে অশালীন অঙ্গভঙ্গি ও আপত্তিকর দৃষ্টিভঙ্গি মাধ্যমে উত্যক্ত করে। পরে ওই শিক্ষার্থীকে ডেকে পাঠান তারা। তবে সে তাদের সাথেও অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। এছাড়া অভিযোগ পত্রে অভিযুক্তকে ‘মাদকাসক্ত’ ও বিভিন্ন সময়ে মেয়েদের সাথে ‘অসৌজন্যমূলক আচরণ’ করে বলে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, বিভাগীয়ভাবে বিষয়টির তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।