মেয়র আনিসুল হকের কুলখানি ৬ ডিসেম্বর

68

নিউজ ডেস্ক ::

সদ্যপ্রয়াত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হকের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শনিবার শেষ বিকেলে বনানী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। এর আগে আর্মি স্টেডিয়ামে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পুরো স্টেডিয়ামে ছিল উপচে পড়া ভিড়। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানায়। এদিকে ৬ ডিসেম্বর বুধবার গুলশানের আজাদ মসজিদে বাদ আসর তার কুলখানি অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে গতকাল শনিবার বেলা একটায় আনিসুল হকের মরদেহ বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের উড়োজাহাজটি (বিজি ০০২) হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

তখন বিমানবন্দরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, তার ছোট ভাই সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মো. শফিউল হকসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। মেয়রের একান্ত সচিব আবরাউল হাসান গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, মেয়রের মরদেহের সঙ্গে দেশে এসেছেন তার স্ত্রী রুবানা হক, ছেলে নাভিদুল হক, দুই মেয়ে ওয়ামিক উমায়রা ও তানিশা ফারিয়াম্যান হক।

বিমানবন্দর থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বনানীর বাসভবনে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গিয়ে মেয়রের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। এছাড়া বিভিন্ন দলের নেতারাও প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান। এরপর প্রয়াত এই মেয়রের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় আর্মি স্টেডিয়ামে। সেখানকার ৪টি ফটক দিয়ে হাজারো মানুষ সারিবদ্ধভাবে স্টেডিয়ামে ঢোকেন। সেখানে ছিল উপচে পড়া ভিড়। বাইরেও ছিল সাধারণ মানুষের ঢল।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের পক্ষে সামরিক সচিব মেজর জেনারেল সরোয়ার হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদিন, স্পিকার শিরীন শারমিনের পক্ষে ক্যাপ্টেন মোশতাক আহমেদ, আওয়ামী লীগের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন এবং সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এছাড়া বিজিএমইএ, এফবিসিসিআই, বিকেএমইএসহ সর্বস্তরের মানুষ তার প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।

প্রসঙ্গত গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে মারা যান মেয়র আনিসুল হক। এর আগে ২৯ জুলাই ব্যক্তিগত সফরে সপরিবার যুক্তরাজ্যে যান মেয়র আনিসুল হক। অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১৩ আগস্ট তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে মস্তিষ্কের প্রদাহজনিত রোগ ‘সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস’ শনাক্ত করেন চিকিৎসকেরা। এরপর তাকে দীর্ঘদিন আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। একপর্যায়ে মেয়রের শারীরিক পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তার কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র খুলে নেওয়া হয়। কিন্তু গত মঙ্গলবার মেয়রের পরিবারের একজন সদস্য বলেন, রক্তে সংক্রমণ ধরা পড়ায় তাকে আবার আইসিইউতে নেওয়া হয়। এরপর তার ফুসফুসও আক্রান্ত হন তিনি।