দর্শক হৃদয়ে দাগ কেটেছে ‘হালদা’

54

বিনোদন ডেস্ক ::

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র ‘হালদা’। আর এই হালদা নদীর পাড়ে বাস করা মাছ ধরায় নিয়োজিত মানুষদের জীবনযাত্রা নিয়েই নির্মিত হয়েছে সিনেমা। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় নির্মিত এ চলচ্চিত্র ঘিরে দর্শকদের মাঝে বিপুল আগ্রহ দেখা গেছে। তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ছবিটির নাম ‘হালদা’। এ বছরের বহুল প্রতীক্ষিত এই চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে শুক্রবার। ছবিটি মুক্তির পর সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে রীতিমতো উত্তেজনা পরিলক্ষিত হয়।

ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাহিদ হাসান, নুসরাত ইমরোজ তিশা, মোশাররফ করিম, ফজলুর রহমান বাবুসহ অনেকে। তৌকীর আহমেদ পরিচালিত পঞ্চম ছবি এটি, যা তিনি অনেক যত্ন করে এবং দর্শকদের চাহিদা মাথায় রেখেই নির্মাণ করেছেন। দর্শকরা ছবিটি দেখে এর গল্প ও নির্মাণশৈলী সব কিছুরই ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ২ ঘণ্টা ১৭ মিনিটের হালদা ছবিটি দর্শকদের মন ছুঁয়ে গেছে।

মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র নিয়ে নির্মিত তৌকীর আহমেদের এই ছবি দর্শক হৃদয়ে দাগ কাটবেই। কারণ ‘হালদা’ ছবির প্রতিটি দৃশ্যকে মনে হবে ফেসবুকের কাভার পিকচার। নদীতীরবর্তী মানুষের জীবনের বাস্তব গল্প দেখানো হয়েছে এতে। নদীমাতৃক ছবি হলেও পরিচালক গল্পে শুধু নদীর মধ্যেই থেমে থাকেননি। তিনি দেখিয়েছেন প্রেম, দ্বন্দ্ব, ভালোবাসা, সংঘাত এবং একটি নদীর নীরব কান্নাকে- যা দর্শকের মনকে ছুঁয়ে যাওয়ার মতো।

ছবিতে হাসু চরিত্রে অভিনয় করা তিশার জীবনের কষ্টকে পরিচালক সমান্তরালভাবে নদীর কষ্টের সঙ্গে এগিয়ে নিয়েছেন। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় নির্মিত হলেও ছবিটির মধ্যে ছিল না কোনো ভাষার জটিলতা। তিশা ছাড়াও মোশাররফ করিম, জাহিদ হাসান ও ফজলুর রহমান বাবুর অভিনয় মুগ্ধ করবে দর্শকদের। মোট কথা প্রকৃতি ও মানুষ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছেন চরিত্রের গভীরে। মোশাররফ করিম ও তিশা- দুজন মানুষের পাওয়া, না-পাওয়ার বেদনার সঙ্গে যোগ করেছেন ভালোবাসার অর্থ। ছবিটিতে আরো অভিনয় করেছেন রুনা খান, দিলারা জামান, মোমেনা চৌধুরী।

আজাদ বুলবুলের গল্প থেকে ছবিটির চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন পরিচালক নিজেই। সংগীত পরিচালনা করেছেন পিন্টু ঘোষ। দেশের প্রায় ৯০টি প্রেক্ষাগৃহে শুক্রবার ১ ডিসেম্বর মুক্তি পেয়েছে ছবিটি।