জৈন্তাপুরের আসামপাড়ায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১ : ১৪৪ ধারা জারি, সড়ক অবরোধ (আপডেট)

651

স্টাফ রিপোর্টার ::
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার আসামপাড়ায় ফসলী জমি, কমলা বাগান ও টিলা কেটে পাথর উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় একজন নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একটি চক্র গতকাল রোববার দুপুরে পাথর উত্তোলন করতে গেলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতারা বাঁধা দিলে পাথরখেকো চক্রের সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন।
এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসামপাড়া এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এদিকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর হামলার প্রতিবাদে সিলেট তামাবিল সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা।
গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। নিহত হোসেন আহমদ (৩৫) উপজেলার মহাইল গ্রামের মর্তুজ আলীর ছেলে।
জৈন্তাপুর থানার ওসি খান মোহাম্মদ মাইনুল জাকির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাত সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হোসেন আহমদের মৃত্যু হয়। এর আগে দুপুরে উপজেলার আসামপাড়ায় পাথর উত্তোলন নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষকালে অন্তত ৩০ জন আহত হন। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসামপাড়া এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এদিকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর হামলার প্রতিবাদে সিলেট তামাবিল সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, পাথর উত্তোলনে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা কোয়ারীর দখলকে কেন্দ্র করে জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি কামাল আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলীর অনুসারীদের মধ্যে কয়েকদিন ধরে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। এর জের ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এদিকে হামলার প্রতিবাদে বেলা ২টার দিকে সিলেট তামাবিল সড়ক অবরোধ করে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আশ^াসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
পাথর উত্তোলনে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা কোয়ারীর দখল নিতে গোয়াইনঘাটের বল্লাঘাট জাফলংয়ের মৃত ঝিনু লামিনের ছেলে হেনরি লামিন ও ব্লু-প্লানেট হসপিটালিটি লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আরিফুর রহমানের লোকজন আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পাথর উত্তোলন করতে নামে। খবর পেয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতারা বাঁধা দিলে অবৈধ পাথর উত্তোলনকারীরা তাদের উপর হামলা চালায়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি কামাল আহমদ বলেন, আমার মলিকানা ভূমি চিহ্নিত করার জন্য ইতোপূর্বে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত দাবী জানাই, প্রশাসন মাঠ জরিপ করার পরেও লিয়াকত আলী ও ফয়েজ আহমদ বাবরের নেতৃত্বে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে আসছে। তাদের হামলায় আহত আমাদের এক জন নিহত হয়েছে।
জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী বলেন, একটি চক্র জৈন্তাপুর এলাকায় অবৈধভাবে পাথর তুলে পরিবেশ সংকটাপন্ন করে তুলেছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে পাথরখেকোদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছি। মানববন্ধনসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেও ফল পাচ্ছি না। এছাড়া আমি গত কয়েকদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছি। এখানে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য আমার নাম ব্যবহার করা হচ্ছে।

জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌরীন করিম বলেন, আমি যোগদানের পর থেকে কোয়ারীর বিরোধ নিয়ে উভয় পক্ষের লোকজনের সাথে উপজেলা পরিষদে কয়েক দফা বৈঠক করেছি। কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। কোয়ারী এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বার্থে এবং সাধারণ শ্রমিকদের জানমালের নিরাপত্তার জন্য ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয় এবং উভয় পক্ষের লোকজন ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে পড়ে। যারা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, গত ২৮ নভেম্বর সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার আসামপাড়ায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন, পরিবেশ বিনষ্টকারী বোমা মেশিন ও এক্সেভেটর ব্যবহার করে টিলা কেটে ভূমি ধ্বংস করে ভূ-গর্ভ থেকে পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।
সিলেট জেলা জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এএইচ ইরশাদুল হক জনস্বার্থে সিলেটের যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে আবেদন করলে আদালত এ নিষেধাজ্ঞা দেন। মামলা নং-৬২/২০১৭ইং।
মামলার আদেশে বলা হয়, ‘জৈন্তাপুর উপজেলার আসামপাড়া মৌজার ১৪৫.৫৬ একর ভূমিতে বিভিন্ন মেশিনারীর সহায়তায় ও শ্রমিক নিয়োগের মাধ্যমে টিলা কেটে, গর্ত সৃষ্টি করে ভূ-প্রাকৃতিক ক্ষতি সাধনমূলক পরিবেশ বিনষ্টকারী ইত্যাদি যাবতীয় কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে আপত্তি শুনানি না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরণের পাথর উত্তোলন, টিলা কেটে প্রকৃতির জন্য যাবতীয় ক্ষতিকর কাজ হতে অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়।’