বাংলাদেশকে পোপের সমর্থন

20

তিন দিনের সফর শেষে পোপ ফ্রান্সিস ঢাকা ছেড়েছেন গত শনিবার বিকেলে। তিন দিনই ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন তিনি।
তাঁর এই সফর নানা কারণে ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ৩০ বছর পর এটি ছিল খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কোনো প্রধান ধর্মগুরুর প্রথম সফর। ১৯৭০ সালে পোপ ষষ্ঠ পল, ১৯৮৬ সালে পোপ দ্বিতীয় জন পলের পর তিনিই তৃতীয় পোপ, যিনি বাংলাদেশ সফর করলেন। অন্যদিকে সময়টি ছিল বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জাতিগত নিধনযজ্ঞের শিকার তিন মাসে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এ ঘটনায় মিয়ানমার বিশ্বব্যাপী নিন্দিত ও বাংলাদেশ প্রশংসিত হয়েছেÑএমন একটি সময়ে পোপ ফ্রান্সিস বাংলাদেশ সফর করেছেন। একদিকে তিনি ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রপ্রধান, অন্যদিকে রোমান ক্যাথলিক গির্জার মহামহিম ও সর্বজনীন যাজক। আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে তাঁর উপস্থিতি একধরনের তীর্থযাত্রা। ১৯৮৬ সালে পোপ দ্বিতীয় জন পল বিমান থেকে নেমে বাংলাদেশের মাটি চুম্বন করে বলেছিলেন, ‘আমি বাংলাদেশের জনগণের আত্মার কাছে একজন তীর্থযাত্রী হিসেবে এসেছি। ’ পোপ ফ্রান্সিসের বক্তৃতায়ও বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রশংসা ঝরেছে। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ হলো আন্ত ধর্ম ও ঐকতানের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ’ বাংলাদেশের জাতির জনকের কথা উল্লেখ করে পোপ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন এবং এই আদর্শ সংবিধানে যুক্ত করার কথা বলেছিলেন। তিনি আধুনিক, বহুত্ববাদী এবং অংশগ্রহণমূলক একটি সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে প্রতিটি মানুষ ও জাঁতি মুক্তভাবে শান্তি ও নিরাপত্তার মধ্যে বসবাস করতে পারবে। যেখানে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং সমান অধিকার থাকবে। ’ বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সহাবস্থানের প্রশংসা করেন পোপ।
রোহিঙ্গা সংকটের মধ্যে পোপের বাংলাদেশ সফর ঘিরে বিশ্বসম্প্রদায়েরও দৃষ্টি ছিল। পোপ ফ্রান্সিস বাংলাদেশে আসার আগে মিয়ানমার সফর করেন। সেখানে নিপীড়নের সমালোচনা করলেও রোহিঙ্গাদের নাম উচ্চারণ না করায় সমালোচনা হচ্ছিল তাঁর। বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসার পর বঙ্গভবনের অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় মিয়ানমারের নিপীড়িত জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশ্ববাসীকে এই সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। পরদিন তিনি তিনটি রোহিঙ্গা পরিবারের ১৬ সদস্যের কাছ থেকে তাদের দুর্দশার কথা শুনে আর নিজেকে সংযত রাখতে পারেননি। আবেগময় হয়ে তিনি উচ্চারণ করেন রোহিঙ্গা শব্দটি। মিয়ানমার সফরে কেন রোহিঙ্গা শব্দটি এড়িয়ে গেলেন, তার একটি ব্যাখ্যাও দিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস। তিনি মনে করেন, রোহিঙ্গা শব্দটি এড়িয়ে গেলেও আলোচনার পথ বন্ধ না করে দিয়ে দেশটির সরকার ও সামরিক বাহিনীর কাছে তিনি আসল বার্তাটি ঠিকই পৌঁছে দিতে পেরেছেন। পোপের এই মূল্যবান বার্তা বিশ্বসম্প্রদায়কে পৌঁছে দিতে হবে। শান্তির দূত পোপের বার্তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সহমর্মিতা লাভে সহায়ক হবে বলে আমরা মনে করি।