জৈন্তাপুরে সংঘর্ষে নিহত হোসেনের দাফন সম্পন্ন : জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ৬

17

স্টাফ রিপোর্টার ::
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার আসামপাড়ায় ফসলী জমি, কমলা বাগান ও টিলা কেটে পাথর উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত হোসেন আহমদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সোমবার বাদ আসর উপজেলার মহাইল মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। জানাজার নামাজে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ, জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদীন, ভাইস চেয়ারম্যান বশির উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি কামাল আহমদ, গোয়াইনঘাট ডিগ্রী কলেজের প্রিন্সিপাল ফজলুল হক, নিজপাট ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুর এলাহী সম্রাট, দরবস্ত ইউপি চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার, চারিকাটা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম চৌধুরী তোফায়েলসহ জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানাজায় অংশ নেন।

এর আগে গত রোববার রাত সাড়ে আটটায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত মহাইল গ্রামের মর্তুজ আলীর ছেলে হোসেন আহমদের (৩৫) মৃত্যু হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। ময়নাতদন্ত শেষে দুপুরে লাশ হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে দু’পক্ষের সংঘর্ষ ও আসামপাড়া এলাকায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গের দায়ে মোট ৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন জৈন্তাপুর থানার ওসি খান মোহাম্মদ মাইনুল জাকির।

জানা গেছে, পাথর উত্তোলনে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা কোয়ারীর দখলকে কেন্দ্র করে জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি কামাল আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলীর অনুসারীদের মধ্যে গত রোববার সংঘর্ষ হয়। এতে একজন নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হন।
জানা গেছে, গত ২৮ নভেম্বর সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার আসামপাড়ায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন, পরিবেশ বিনষ্টকারী বোমা মেশিন ও এক্সেভেটর ব্যবহার করে টিলা কেটে ভূমি ধ্বংস করে ভূ-গর্ভ থেকে পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। সিলেট জেলা জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এএইচ ইরশাদুল হক জনস্বার্থে সিলেটের যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে আবেদন করলে আদালত এ নিষেধাজ্ঞা দেন।