মৃত্যুর পূর্বে লেখা চিরকুটে কোম্পানী এবং স্ত্রীকে দায়ি

56

ওসমানীনগর প্রতিনিধি ::
সোসাইট নোট লিখে ঔষধ কোম্পানীর এক বিক্রয় প্রতিনিধি আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যার কারণ হিসেবে সোসাইট নোটে তিনি কোম্পানী এবং স্ত্রীকে দায়ি করেছেন। গত রোববার সন্ধ্যায় ঔষুধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি আনিসুর রহমান আনিস (৩৭) বালাগঞ্জ সদরের নবী নগর এলাকার ভাড়া বাসায় সিলিং ফ্যানের সাথে রশি গলায় বেঁধে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্যে মর্গে পাঠায়। নিহত আনিস সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলায় রগুমিলি গ্রামের ইসমাইল হোসেনের পুত্র।
বালাগঞ্জ থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ৭ বছর ধরে আনিস ঔষধ কোম্পানী এসকেএফের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসাবে বালাগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ঔষধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধিদের সংগঠন ‘ফারিয়া’ নামক সংগঠনের বালাগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি এসকেএফ ঔষধ কোম্পানীর লগোযুক্ত ডায়রীতে একটি চিরকুট (সুইসাইড নোট) লিখে গেছেন। নিজ হাতে লেখা চিরকুটে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে এসকেএফ ঔষধ কোম্পানী কতৃপক্ষ ও নিজ স্ত্রীকে দায়ী করেছেন। তবে চিরকুটের লিখায় কিছুটা অসঙ্গতিও রয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে চিরকুটটি তার নিজ হাতেই লেখা। চিরকুটটি উদ্ধার করে তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন বালাগঞ্জ থানার এস আই অপু দাস গুপ্ত। মৃত্যুর কারণসহ চিরকুটে আনিস আরো লিখেছেন- ‘আমার জীবনে আমি অনেক কষ্টে ছিলাম। বালাগঞ্জে চাকরী পাওয়ার পর আমি ভাল ছিলাম না। কারণ কোম্পানীর চাপে বাহিরে প্রোডাক্ট বিক্রি করতে যেয়ে আমি সব সময় ঋনগ্রস্থ ছিলাম। তাই পারিনি পরিবারের কারো কাছে ভাল থাকতে (এর পরে আরো একটি লাইন লিখলেও লাইনটিতে অসঙ্গতি ছিল)। আমি আমার এই সিদ্ধান্ত নেয়ার পিছনে কারণ দু’টি ১। কোম্পানী ২। জীবন সঙ্গি। তাই বস (বস শব্দটি ইংরেজীতে লিখা) আপনার কাছে আমার অনুরোধ আমি আপনার কাছে কিছু টাকা ঋনী আছি। কোম্পানীর কাছ থেকে যা টাকা পাব তা দিয়ে ঋন পরিশোধ করিবেন। আমার বা-মাকে দেখার কেউ রইল না, সবাই আমাকে মাফ করে দিবেন। সব শেষে দু’টি লাইনে তিনি লিখেছেন-আমার মা-বাবাকে টাকার জন্য চাপ দিবেন না। কোম্পানীর কাছ থেকে টাকা পাওয়ার পর সব দিয়ে দিবেন’।
বালাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম জালাল উদ্দিন বলেন, ময়না তদন্ত শেষে সোমবার নিহত আনিসের পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না দেয়ায় এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছে। হাতে লিখা চিরকুটটি উদ্ধার করে তদন্ত করা হচ্ছে।