দুই নারী বৈমানিকের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়

32

সবুজ সিলেট ডেস্ক ::

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দেশের হয়ে প্রথম দুই নারী পাইলট – নাইমা হক ও তামান্না-ই-লুৎফী
কঙ্গোতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দুর্গম ও ভিন্ন পরিবেশের কাজকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দুই নারী পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট নাইমা হক এবং তামান্না-ই-লুৎফী। নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সফলভাবে মিশন শেষ করে দেশে ফিরে আসবেন বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। হেলিকপ্টারে ওঠার আগে পাইলট নাইমা ও তামান্না গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে বিমানবাহিনীর ঘাঁটি বাশার-এ উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন।

মিশনে বিমানবাহিনীর আরো নারী সদস্য থাকলেও এই প্রথমবারের মতো দুই নারী পাইলট নাইমা হক এবং তামান্না-ই লুৎফী কঙ্গোতে শান্তিরক্ষা মিশনে যোগ দিতে আগামী বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) রাতে বাংলাদেশ ছেড়ে যাবেন। সেখান তারা থাকবেন এক বছর। কঙ্গোতে হেলিকপ্টারের পাইলট হিসেবে শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যদের কাজে সহায়তা করবেন তারা।

আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘পেশাগতজীবনে বৈমানিক হিসেবে তাদের এই সাফল্য বিমানবাহিনী এবং বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনীর উড্ডয়নের ক্ষেত্রে এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।’ আরো বলা হয়, ‘দেশের গন্ডি পেরিয়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের যোগদান বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা করেছে।’

নাইমা ও তামান্না বেল-২০৬ হেলিকপ্টারে ৬৫ ঘণ্টা উড্ডয়নের প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন করার পর বিমানবাহিনীর বিভিন্ন হেলিকপ্টার স্কোয়াড্রনে দায়িত্ব পালন করেন। তারা ২০৬ হেলিকপ্টার কনভারশন কোর্স, এমআই-১৭, এমআই-১৭১ এবং এমআই-১৭১ এসএইচ হেলিকপ্টার প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করেছেন। উভয়ে ভারত থেকে অ্যাভিয়েশন মেডিসিনে প্রশিক্ষণ নেন। তারা দুজনই পার্বত্য চট্টগ্রামে অপারেশনস উত্তরণে অপারেশনাল পাইলট হিসেবে দায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন।

এই দুই সামরিক বৈমানিক ২০১৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর যশোরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ঘাঁটি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান এ সলো টেস্টের সফলতার মাধ্যমে সামরিক পাইলট হিসেবে স্বীকৃতি পান। নাইমা হক ও তামান্না-ই-লুৎফী দুজনই চান আরও অনেক মেয়ে বিমানবাহিনীতে যোগদান করুক।

কঙ্গোতে যাওয়ার বিষয়ে নাইমা ও তামান্না দুজনই রোমাঞ্চিত। বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য এটা বড় অর্জন। এই দুজনকে দেখে অনেক পরিবার তাদের মেয়ের বৈমানিক হওয়ার স্বপ্নপূরণ করতে উদ্যোগী হবে বলে তারা মনে করেন।