স্মার্টকার্ড পাবেন সব ভোটার

131

সবুজ সিলেট ডেস্ক ::

স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্টকার্ড) পাবেন সব ভোটার। বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ানোয় প্রকল্পের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সরকার এখানে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একইসঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। কারণ, আগামী ৩১ ডিসেম্বর দাতা সংস্থার সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চুক্তি শেষ হচ্ছে। এরআগে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নয় কোটি ভোটারের স্মার্টকার্ড দেওয়ার চুক্তি থাকলেও ফ্রান্সের ওবার্থু টেকনোলজি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এখন সরকার ১০ কোটি ৬০ লাখ ভোটারকে এ কার্ড দেবেন।

জানতে চাইলে আইডিয়া প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও এনআইডির ডিজি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম জানান, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চলতি মাসেই চুক্তি শেষ হচ্ছে। তবে প্রকল্প না থাকলেও এখানকার জনবল টিকিয়ে রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা রয়েছে। ইতোমধ্যে সরকার এক বছর মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছে। এখন শুধু দরকার আনুষ্ঠানিকতা। কারণ মেয়াদ বাড়ানোয় সরকারের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে না। বরং বিভিন্নভাবে স্মার্টকার্ড প্রকল্পে ৪০১ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। এরমধ্যে ব্যাংক গ্যারান্টির ১২৩ কোটি, ওবার্থর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১৪৩ কোটি, রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ৯৫ কোটি এবং নিজস্ব উদ্যোগে কার্ড মুদ্রণ ও বিতরণের কারণে ৪৬ কোটি টাকা। এছাড়া প্রকল্পে প্রায় সাড়ে এক হাজার ২০০ দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। ওইসব টাকা থেকে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হবে। এরপরও সরকার প্রকল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে টাকা খরচ ও মেয়াদ বৃদ্ধির সম্মতি দেওয়ায় অনেক জটিলতার অবসান হতে যাচ্ছে।

স্মার্টকার্ড প্রকল্পের এক কর্মকর্তা বলেন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জানিয়ে দেয় স্মার্টকার্ড প্রকল্পে দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক থাকছে না। চিঠিতে একের অধিক কোনো প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি তাদের পলিসির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। দাতা সংস্থার ওই সিদ্ধান্তের আগেই সরকারকে এ প্রকল্পে যুক্ত রাখতে তৎপরতা শুরু হয়। তবে সেটি ছিল অনিশ্চিত। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ানোর অনিশ্চয়তাটা আরো বেড়ে যায়। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছার কারণে প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হচ্ছে। এখন সরকারি অর্থায়নে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগের (এনআইডি) তত্ত্বাবধানে স্মার্টকার্ড দেওয়া হবে ভোটারদের। আগে নয় কোটি ভোটারকে এ আধুনিক কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। বর্তমানে বাকি এক কোটি ১৭ লাখ এবং এবারের হালানাগাদে যুক্ত হওয়া ৪২ লাখ নতুন ভোটারকে স্মার্টকার্ডের আওতায় এনে সব ভোটারকে এ কার্ড দেওয়া হবে। অর্থাৎ আগামী ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ১০ কোটি ৬০ লাখ ভোটার পাবেন স্মার্টকার্ড।

এরআগে ফ্রান্সের ওবার্থু টেকনোলজির প্রায় ৮০০ কোটি টাকার চুক্তি হয়। এর আওতায় দেশের নয় কোটি ভোটারকে স্মার্টকার্ড দেওয়ার কথা ছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটির স্বেচ্ছাচারিতা ও কাজে গাফিলতির কারণে পুরো বিতরণ কার্যক্রমটি ভেঙে পড়ে। এরআগে তাদের সহযোগিতা করার জন্য কয়েক দফা চুক্তির মেয়াদ বাড়ায় স্মার্টকার্ড কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের এ মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি দুর্বলতা নিয়ে নেয়। পরে কর্তৃপক্ষ কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে গত জুলাইয়ে ওবার্থর মেয়াদ হালনাগাদ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া। ফ্রান্সের এ প্রতিষ্ঠানটিকে বিদায় জানিয়ে আইডিয়া কর্তৃপক্ষ নিজেদের উদ্যোগে স্মার্টকার্ড মুদ্রণ ও বিতরণ শুরু করে।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের মে মাসে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে প্রায় ২০ কোটি ডলারের চুক্তি সই করে সরকার। এ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার ৩৭৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) ঋণ এক হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। দশমিক ৭৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জে পাওয়া এ ঋণ বাংলাদেশকে ৪০ বছরের মধ্যে শোধ করতে হবে। এর মধ্যে প্রথম ১০ বছর কোনো সুদ দিতে হবে না। বিশ্বব্যাংকের ঋণসহায়তায় এ প্রকল্পের অধীনে ২০১১ সালের জুলাই থেকে ২০১৬ সালের জুনের মধ্যে নয় কোটি ভোটারের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দেওয়ার কথা ছিল। পরে প্রকল্পের মেয়াদ দেড় বছর বাড়িয়ে চলতি ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে।