স্কুলছাত্রীকে চুল টেনে ট্রাকের নিচে ফেলে হত্যা

570

নিউজ ডেস্ক ::
চালক না পাষণ্ড! অন্তত এই ঘটনায় সবাই ট্রাকচালককে এসব খারাপ বিশেষণ ছাপিয়ে ‘জানোয়ার’ বলছেন। কারণ, তার খামখেয়ালীতে চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা গেছে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মিনু। ঘটনাটি বুধবার আড়াইটার দিকে মাগুরা সদর উপজেলার কামারপাড়া গ্রামে। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় সড়কের পাশ দিয়ে হাঁটতে থাকা মিনুর চুল ধরে ‘উত্ত্যক্তকারী’ চলন্ত ট্রাক থেকে চালক টান দেন। এতে সে চাকার নিচে পিষ্ঠ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

মিনু মাগুরার রাঘবদাইড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ও শালিখা উপজেলার সর্বসাংদা গ্রামের শহর আলীর মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মিনু সদর উপজেলার কামারপাড়া গ্রামে তার বড় বোনের বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করতো। দুপুরে পরীক্ষা শেষে সহপাঠী ফাতেমার সঙ্গে সে স্কুল থেকে ফিরছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা বালুর ট্রাকের নিচে পড়ে তার মৃত্যু হয়। বান্ধবী ফাতেমা, মিনুর দুলা ভাই ইউসুফ শেখসহ স্থানীয়রা জানান, বালুর ট্রাকের চালক তাদের অতিক্রম করার সময় হাত বাড়িয়ে মিনুর মাথার চুল ধরে টান দেন। এতে সে ট্রাকের নিচে পড়ে যায়। চালক ট্রাকের গতিরোধ না করায় চাকায় পিষ্ঠ হয়ে ঘটনাস্থলেই মিনু মারা যায়।

পরে এলাকাবাসী ধাওয়া করে ট্রাকটি (যশোর-ট-১২১৩) ধরে ফেলে। তবে চালক পালিয়ে গেছে।

মিনুর ভগ্নিপতি ইউসুফ বলেন, কয়েকদিন ধরে সদরের কামারপাড়া-অড়ুয়াপাড়া সড়ক নির্মাণ কাজ চলছিল। সেই পথ দিয়ে স্কুলে যাওয়া-আসা করত মিনু। সড়ক কাজের জন্য বালু বহনকারী ট্রাকের এক ড্রাইভার মিনুকে প্রতিদিন উত্ত্যক্ত করত। বুধবার স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় ওই ট্রাক ড্রাইভার মিনুকে চুল ধরে টেনে রাস্তায় ফেলে দেয়। পরে মিুনকে ট্রাকচাপা দিয়ে চলে যায়।

স্থানীয়দের সহায়তায় মেয়েটিকে মাগুরা সদর হাসপাতালে আনা নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান ইউসুফ।

ওই ট্রাক চালকের নাম জানাতে না পারলেও এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন ‍স্কুলছাত্রীর ভগ্নিপতি।

মিনুর পরিবারের পক্ষ থেকে ট্রাকচালকের শাস্তির দাবি জানালেও এ বিষয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সদর থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন।

মাগুরার অতিরিক্তি পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, মেয়েটির লাশ উদ্ধারের পর মর্গে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু, কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি জানান, পুলিশ ট্রাকটি আটক করেছে। ট্রাকের মালিক ও ঠিকাদারের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের কাছ থেকে ট্রাক চালকের নাম-পরিচয় জেনে আটকের চেষ্টা চলছে।