দেশে আগাম নির্বাচনের কোন সম্ভাবনা নেই : প্রধানমন্ত্রী

11

নিউজ ডেস্ক ::
প্রধানমন্ত্রী শেখে হাসিনা বলেছেন, দেশে আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোন সম্ভাবনা নেই। সরকারের এমন কোনো দৈন্যদশা হয়নি যে আগাম নির্বাচন দিতে হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে আসবে। এবার আর তারা ভুল করবে না। আগামী নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার কোনো প্রয়োজন নেই। এর আগে সদ্য সমাপ্ত কম্বোডিয়া সফর নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় গণভবনের সংবাদ এই সম্মেলন শুরু এবং শেষ হয় সন্ধ্যা ৫টা ১০ মিনিটে। প্রায় এক ঘণ্টার সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং শেষে অধিকাংশ সময়ই তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্য ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারাও এই সময় উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভি তা সরাসরি সম্প্রচার করে। মূলত: কম্বোডিয়া সফর সম্পর্কে বিভিন্ন দিক তুলে ধরতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, গণতান্ত্রিক একটি দেশে যে দলগুলো গণতন্ত্র চর্চা করে সেই সব দলের নির্বাচনে আসা কর্তব্য। তবে কে নির্বাচনে আসবে আর কে নির্বাচনে আসবে না সে ব্যাপারে সরকারের কিছু করণীয় নেই। বিএনপিকে নির্বাচনে আনা নিয়ে সরকারের করণীয় বিষয়ে বারবার প্রশ্ন না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘বিএনপিকে নির্বাচনে আনা নিয়ে যদি আপনাদের এতই আগ্রহ থাকে তাহলে তেলের টিন, ঘিয়ের টিন নিয়ে সেখানে যান। আমি অপাত্রে ঘি ঢালি না। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাকে কেন ক্ষমা করবে, আমি কি করেছি? বরং উল্টো উনারই মাফ চাওয়া দরকার। তিনি বলেন, এই সফরে বেশ কিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। কম্বোডিয়ার একটি সড়ক বঙ্গবন্ধুর নামে করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আগামী নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার কোনো উদ্যোগ নেবে কি না জানতে চাওয়া হলে প্রধানমন্ত্রী উল্টো প্রশ্ন করেন, বরণ ডালা পাঠাতে হবে? একবার তার (বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া) সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে আমন্ত্রণ জানিয়ে ঝাড়ি খেয়েছি, অপমানিত হয়েছি, আর ঝাড়ি খাওয়ার-অপমানিত হওয়ার ইচ্ছে নেই। যাদের মধ্যে ভদ্রতা জ্ঞান নেই, তাদের সঙ্গে আলোচনার ইচ্ছে নেই। সাংবাদিকের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, এই ধরনের ছোটলোকিপনা যারা করে, তাদের সঙ্গে আলোচনা করার কথা বলেন কোন মুখে। আমার ওপর আপনারা এত জুলুম করেন কেন? কোন দল নির্বাচন করবে কোন দল নির্বাচন করবে না তা তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। এখানে আমাদের কি করার আছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমানকে মেজর জেনারেল বানিয়েছেন আমার বাবা। বউ নিয়ে তিনি আসতেন। আমাদের বাসার নিচে মোড়া পেতে বসে থাকত। তাকে আপনারা বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক বলেন। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছেন, এটাই বহুদলীয় রাজনীতি? খালেদা জিয়ার সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করেছে। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া, আহসানউল্লাহ মাস্টারসহ অনেককে হত্যা করেছে। তারপরও দেশের স্বার্থে তাদের সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, এবার নির্বাচনে না এসে আগুন সন্ত্রাস করলে জনগণই জবাব দেবে। জনগণই ব্যবস্থা নেবে।
বিএনপি একটি নির্দলীয় সরকার চায়; এক্ষেত্রে তাদের নির্বাচনে আনতে সরকার প্রধান হিসেবে কোনও অবদান রাখবেন কিনা জানতে চাওয়া হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে কোনও আলোচনার উদ্যোগ নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়ে উল্টো তিনিই প্রশ্ন করেন, কার সঙ্গে আলোচনা? কিসের প্রস্তাব! একবার প্রস্তাব দিয়ে যে ঝাড়িটা খেলাম আর প্রস্তাব দেওযার ইচ্ছা নেই। তাকে আর প্রস্তাব দেওযার দরকার আাছে বলে মনে করিনা। তিনি আরও বলেন, তারা (বিএনপি) নির্বচনে আসতে চায় আসবে এটা তাদের পার্টির সিদ্ধান্ত। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। এত সাধাসাধির দরকার কি হলো; আমি বুঝতে পারলাম না।
শেখ হাসিনা বলেন, আর যাই হোক আমি প্রধানমন্ত্রী। তার ছেলে মারা গেল; আমি তার ছেলে মারা গেলে গেলাম। আমাকে ঢুকেতে দেয়নি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই সফর ২ দেশের সম্পর্ক গড়ে তুলতে গভীর ভূমিকা রাখবে। এতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও দূঢ় হবে। সম্প্রতি আমার কম্বোডিয়া সফরে দুদেশই লাভবান হবে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু তারা প্রতিবেশি দেশ; আমি চাই প্রতিবেশি দেশের সাথে সদভাব থাকুক। মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিয়েছি; কিন্তু তাদের অবশ্যই ফিরিয়ে নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। মিয়ানমার সরকার স্বীকার করেছে-একটা কমিটি করা হবে; তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। প্রসঙ্গত ৩ দিনের সরকারি সফর শেষে গত ৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার তিনি দেশে ফিরেন।