৫৭ ধারা যেন অন্যরূপে ফিরে না আসে: ড. ইফতেখারুজ্জামান

11

নিউজ ডেস্ক ::
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বা অন্য কোনো আইনে কোনো আকারে যেন তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা অন্তর্ভুক্ত না হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) আয়োজিত এক সংলাপে তিনি একথা বলেন।

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল করা হবে বলে সম্প্রতি তথ্যমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংবিধানের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকারসংশ্লিষ্ট ধারাগুলো এবং স্বাক্ষরিত আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয় এমন কোনো আইন প্রণয়ন করা সরকারের উচিত নয়।

তাই ৫৭ ধারা বাতিল করে- তা ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বা অন্য কোনো আইনে কোনো আকারে অন্তর্ভুক্ত না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

টিআইবি ধানমণ্ডি কার্যালয়ে ‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০১৭’ ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাবিষয়ক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

জাতিসংঘ ঘোষিত ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উদযাপনে টিআইবির সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. গওহর রিজভী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টিআইবির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ড. এ. টি. এম. শামসুল হুদা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন টিআইবির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য এম. হাফিজউদ্দিন খান, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ও উপদেষ্টা নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের।

সংলাপে বক্তব্য রাখেন দৈনিক সমকালের নির্বাহী সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, বাংলাভিশনের বার্তা সম্পাদক শারমীন রিনভী এবং দৈনিক প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার ইফতেখার মাহমুদ।

বক্তারা বলেন, অসাধু কিছু ব্যক্তির অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে সার্বিকভাবে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়।

তারা বলেন, অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ হাতে থাকা সত্ত্বেও সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যম অনেক ক্ষেত্রে সংবাদ প্রকাশ করতে সাহস পাচ্ছেন না। দুঃখজনক এ পরিস্থিতি গণমাধ্যম, গণতন্ত্র বা রাষ্ট্রের জন্য কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না।

গওহর রিজভী বলেন, সাংবাদিকরা অনেক সাহসের সঙ্গে কাজ করছে এবং সাংবাদিকতার গুরুত্ব সমাজ ও সরকারকে বুঝতে হবে।

তিনি বলেন, দুর্নীতি থাকলে দেশ থেকে দারিদ্র্য দূর করা যায় না। আমাদের যদি দারিদ্র্য দূর করার উদ্দেশ্য থাকে, তাহলে অবশ্যই দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করতে হবে।

টিআইবি’র বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ড. এ. টি. এম. শামসুল হুদা বলেন, বর্তমানে গণমাধ্যমের মালিকানা ব্যবসায়ীদের হাতে থাকায় ব্যবসার ঝুঁকির কথা চিন্তা করে গণমাধ্যম মালিকরা অনেক সময় সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে চান না।

সংলাপ শেষে টিআইবির অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০১৭-এর বিজয়ীদের পুরস্কার দেয়া হয়।

প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার পাঁচজন সাংবাদিক ও চারজন ভিডিও চিত্রগ্রাহকসহ মোট নয়জন সাংবাদিক এ বছর টিআইবির অনুসন্ধানীমূলক সাংবাদিকতা পুরস্কার পান।