ফের সক্রিয় কোম্পানীগঞ্জের উৎমা এলাকার পাথরখেকোরা

93

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি ::
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী মাঝেরগাঁও, বরম সিদ্দিকপুর, বিজয় পাড়–য়া, কামালবস্তি, উৎমা ছড়া, নাপিত খাল, কুলি বস্তি, মনিপুরী বস্তি এবং বনপূর গ্রামকে পাথর খেকোরা গিলে খাচ্ছে। এক সময় সবুজে ঘেরা গ্রামে আজ বড় বড় গর্ত করে তোলা হচ্ছে অবৈধ ভাবে পাথর। হুমকির মুখে জনপদ, অনেককে বাধ্য করা হচ্ছে বিক্রি করে দিতে বেচে থাকার এক মাত্র সম্বল বাপ দাদার ভিটে। আবার অনেক খানেই আছে দখলের অভিযোগ। পাথর খেকোদের থাবায় আজ হুমকির মুখে স্কুল, মন্দির, মসজিদ ও আশে-পাশের গ্রামের একমাত্র যোগাযোগের সড়কটি। এসব ধ্বংস লীলায় এলাকা পরিণত হচ্ছে বড় বড় গর্তে। সেসব গর্তে প্রতিদিন প্রাণের ঝুকি নিয়ে কাজ করছে কয়েক শত পাথর শ্রমিক। যেকোন সমায় আবার ব্যাপক প্রাণহানীর ঘটনা হতে পাড়ে বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের যোগসাজসে বিলিন হচ্ছে এই জনপদ।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাঝেরগাওঁ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনদিকেই রয়েছে বড় বড় গর্র্ত। যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরণের দূর্ঘটনা। কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা সেখানে ঝুকি নিয়ে লেখাপড়া করছে । মাঝেরগাওঁ সরকারী রাস্তার পাশেই রয়েছে বেশ ক’টি বড় বড় পাথরের গর্ত। সেখানে নুতন করে আরও গর্ত করা হচ্ছে। এমনকি সেখানে কৃষি জমি খনন করে তোলা হচ্ছে পাথর। কৃষি জমির মাটি অপসারণ করতে ব্যাবহার করা হচ্ছে এস্কেবেটর নামের আধুনিক দানব যন্ত্র। এ ছাড়াও মাঝেরগাওঁ গ্রামের ভিতরে মন্দির এর চার পাশেই রয়েছে বিশাল গর্ত। এখানে মনিপুরী সম্প্রদায়ের বসবাস থাকলেও এখন তা হুমকির মুখে পড়েছে। একই অবস্থা বিজয় পাড়–য়া, বরম সিদ্দিকপুর বনগাওঁসহ আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের। সেখানে গ্রামের ভিতরে সীমান্ত ঘেষা মানুষের বসত বাড়ির সাথেই রয়েছে বড় বড় গর্ত। যে কোন সময় তা ধসে ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, প্রথমে পাথর খেকো দল একটি জায়গা কিনে পাথর তোলার পর জায়গা আবার মালিক নিয়ে যাবেন এই শর্তে। বড় গর্ত করে যখন পাথর তোলা হয় তখন পাশের জমি এমনিই ধসে পড়ে। তখন পাশের জমির মালিককেও বাধ্য হয়ে নিজের জমি বিক্রি করতে হয়, তা নাহলে জমি দখল করে নিয়ে যায় পাথর খেকো দল। এভাবেই পাথর খেকোদল একের পর এক গ্রাম বিলিন করে দিচ্ছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে দেখানো হয় নানা ভয়ভীতি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক বাসিন্দা বলেন, আমাদের গ্রাম দুটিকে কালাইরাগের মত বিলিন করে দেয়া হচ্ছে। পাথর খেকোদের হাতে আজ মসজিদও নিরাপদ নয়। প্রাণ সংকটে আজ এই এলাকার মানুষ।
স্থানীয় আরেকটি সূত্র দাবি করছে, উত্তর রনিখাই ইউনিয়ন বিএনপি এর সাধারণ সম্পাদক ফিরুজ মিয়ার নিয়নন্ত্রনে চলে এসব ধ্বংসলিলা। তার কাছে আজ অসহায় স্থানীয়রা। কেউ কিছু বলার সাহস পায়না তার বিরুদ্ধে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে তার উঠ বসা বলে সে এলাকায় দাবি করে পরিবেশ ধ্বংস করে যাচ্ছে। সরকারি রাস্তার পাশে কৃষিজমিতে গর্ত করে তুলছে পাথর।
তারা আরও দাবি করেন, উৎমা এলাকায় প্রতিটি গর্ত থেকে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা ফিরুজ মিয়াকে দিতে হয়। তা না হলে তাকে হামলা মামলার ভয় দেখানো হয় এবং উৎমা জিরো পয়েন্ট এলাকায় তার নিয়ন্ত্রনে বিলিন হচ্ছে পাথর। স্থানীয়রা আইন প্রযোগকারী সংস্থা ও সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
এ ব্যাপারে ফিরোজ মিয়া প্রথমে উৎমা এলাকায় তার কোয়ারী রয়েছে বলেন, পরে তিনি জানান, সেখানে তার একটি ট্রাক রয়েছে কিন্তু কোয়ারী নিয়ন্ত্রনের সাথে জড়িত নয় বলে তিনি দাবি করেন।
এ নিয়ে বেলার বিভাগীয় সমন্বয়ক এডভোকেট শাহ শাহেদা জানান, উৎমা এলাকায় লীজ এলাকার বাহিরে ও যন্ত্র দিয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তলনের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা না নেয়ার ফলে অবৈধভাবে পাথর তুলতে আরও অনেকে উৎসাহিত হচ্ছে। এছাড়াও সেখানে প্রশাসনের মনিটরিং এর অভাব রয়েছে এটি আদালতের নজরে আনা হবে বলে জানান তিনি।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সফিকুর রহমান খাঁন জানান, সেখানে পরিবেশ বিরোধী কাজ চলে থাকলে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে।
এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল লাইছ জানান, সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।