সময় এখন রোনালদোর

61

স্পোর্টস ডেস্ক ::

ইতিহাস কখনো মিথ্যা আশা জাগায় না। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ভক্তরা অন্তত এটাই বিশ্বাস করে থাকবেন একটা জায়গায়। পর্তুগিজ উইঙ্গার ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার পরের ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ কখনো হারেনি। সেভিয়ার বিপক্ষে লস ব্ল্যাঙ্কোসরা জিতবে সেটা প্রায় অনুমিতই ছিল। মাদ্রিদ জায়ান্টরাও প্রত্যাশিত জয় তুলে নিয়েছে। তাই বলে পয়েন্ট তালিকায় পাঁচে থাকা সেভিয়াকে রিয়াল এভাবে উড়িয়ে দেবে সেটা ছিল কল্পনারও অতীত। রিয়াল সেভিয়াকে চূর্ণ করল ৫-০ গোলে! জোড়া গোল করেছেন রোনালদো। ন্যাচো, ক্রুস ও হাকিমি বাকি তিনটি গোল করেছেন।

পরশু সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে পাঁচটি ব্যালন ডি’অর নিয়েই হাজির হয়েছিলেন রোনালদো। ট্রফিগুলোর প্রদর্শনীটা মূলত করেছিলেন সমর্থকদের জন্য। মাঠের লড়াইয়েও দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখালেন রিয়াল মাদ্রিদ প্রাণভোমরা। দলের পাঁচ গোলের চারটিতেই অবদান ছিল ‘সি আর সেভেনে’র। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফর্মটা অবশেষে বয়ে আনলেন লা লিগায়। লিগের তৃতীয় ও চতুর্থ গোল করেছেন, সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরো দুটি গোল। স্প্যানিশ লিগে রোনালদো গোল পাচ্ছেন না বলে সমলোচনা করেছিলেন নিন্দুকেরা, বর্ষসেরা ফুটবলার সেটার উপযুক্ত জবাব দিলেন। রোনালদোর আগুন ফর্মটাকে পুঁজি করে প্রথমার্ধেই ৫-০ গোলে এগিয়ে গেল রিয়ালও। কান্ডারির ট্রফির সংখ্যার সঙ্গে মিল রাখতেই কি না দ্বিতীয়ার্ধে আর গোলই করেনি জিনেদিন জিদানের দল!

অথচ ঘরের মাঠে সেভিয়ার বিপক্ষে টানা ১১ নম্বর জয়ের ম্যাচে দর্শক সারিতে ছিলেন অধিনায়ক সার্জিও রামোস, ডিফেন্ডার রাফায়েল ভারানে। রিয়ালের দুর্দান্ত আক্রমণভাগ রক্ষণভাগের দুই সেনার অভাবটা বুঝতেই দিল না। দাপুটে এ জয়ের ফলে ১৫ ম্যাচে রিয়ালের অর্জন দাঁড়াল ৩১ পয়েন্টে। তাদের ঠিকানা লিগ টেবিলের তিন নম্বরে। ১৫ ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে আছে সেভিয়া। দুই দলের মাঝের দলটি অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ।

রোনালদোর দারুণ পারফরম্যান্সে স্বাভাবিকভাবেই দারুণ খুশি কোচ জিদান। ছাত্রের পক্ষ হয়ে সমালোচকদের ধুয়ে দিলেন রিয়ালের ফ্রেঞ্চ কোচ। বলেছেন, ‘এটা রোনালদোর জন্য দারুণ একটা সপ্তাহ হতে পারে। আশা করছি ও ছন্দে থাকবে। কখনো কখনো ও গোল পায় না। তখন সমালোচনা করার আগে আপনাকে সতর্ক হতে হবে।’ শুধু কোচ নয়, দারুণ একটা সপ্তাহ পার করার পর সতীর্থ মার্সেলোও রোনালাদোর জন্য প্রশংসার ঝাঁপি খুলে দিয়েছেন।

রিয়ালের ব্রাজিলিয়ান লেফট ব্যাক বলেছেন, ‘আমার কাছে ক্রিশ্চিয়ানো (রোনালদো) বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। আমি ডিয়েগো ম্যারাডোনা কিংবা পেলেকে খেলতে দেখিনি। তবে এখানে ও অতুলনীয়।’ কেন পর্তুগিজ যুবরাজের সঙ্গে মার্সেলো অন্য কারোর তুলনা করতে চান না সেটা তো পরশু রাতে আরো একবার বুঝিয়ে দিয়েছেন।