পাবলিক থেকে মুখ ফিরিয়ে প্রাইভেটে ঝুঁকছে বিদেশি শিক্ষার্থীরা

97

সবুজ সিলেট ডেস্ক ::
দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বিদেশি শিক্ষার্থীরা। তার পরিবর্তে এসব শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে। এ কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে ইচ্ছুক বিদেশিদের ভর্তি সংখ্যা গত কয়েক বছরে কমে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) এক বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।

ইউজিসির বার্ষিক প্রতিবেদন-২০১৬ এর পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে দেশের ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১৯টিতে মাত্র ৩৫৫ বিদেশি শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করেছে। অন্যদিকে ৯০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করছে ১৯২৭ জন বিদেশি শিক্ষার্থী।

২০১০ সালের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এ সময় দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থী ছিল ৩৫৯ জন, ২০১১ সালে তা কমে দাঁড়ায় ২১০ জনে। আবার ২০১২ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৫২৫ জনে, ২০১৩ সালে প্রায় দুইশত শিক্ষার্থী কমে ৩২৬ জনে দাঁড়ায়। ২০১৪ সালে বেড়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৩২ জনে, ২০১৫ সালে অন্তত দেড়শ বেড়ে দাঁড়ায় ৫৯৩ জন। সর্বশেষ ২০১৬ তে শিক্ষার্থী কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫৫ জনে। অর্থাৎ ছয় বছর আগে ২০১০ সালে যা ছিল তার চেয়ে চারজন কম শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করেছে ২০১৬ সালে।

এদিকে, ২০১৫ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী ছিল এক হাজার ৫৪৮ জন। ২০১৬ সালে এসে ৩৭৯ শিক্ষার্থী বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯২৭ জনে।

ইউজিসির প্রতিবেদনে আরো দেখা গেছে, প্রতিবছরই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যাপক ডিজিটালাইজেশন হয়েছে। ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা তথ্য ও প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে উচ্চশিক্ষার কোর্স-কারিকুলাম, সিলেবাস ইত্যাদি দেখে বাংলাদেশে পড়তে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।

২০১৬ সালে বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী এসেছে মিসর থেকে। তাদের ৩৪ জনের মধ্যে ৩৩ জনই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। এছাড়া ইউনাইটেড আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে এসেছে ৩২, ফিলিপাইনের ৩১, মিয়ানমারের ৩০ জন। আর জিম্বাবুয়ে, জাম্বিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, গিরিসন, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তান এবং ভরত থেকেও পড়াশোনা করতে বাংলাদেশে এসেছে শিক্ষার্থীরা। সব থেকে কম শিক্ষার্থী ভারত থেকে এসেছে। মাত্র একজন। বেশ কয়েকটি উন্নত দেশ (যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, চীন, কানাডা, ইত্যাদি) থেকে শিক্ষার্থীরা পড়তে এসেছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহের কারণ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সহ-সভাপতি ও ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরী বলেন, দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনায় খরচ কম, আফ্রিকান দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের আবহাওয়া-পরিবেশ অনেক ভালো। এছাড়া উচ্চ শিক্ষার মান নিশ্চিতে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

এ বিষয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য তেমন প্রচার করা হয় না। এছাড়া বেশিরভাগ দেশে উচ্চশিক্ষার চেয়ে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রতি জোর দেয়া হচ্ছে। এ কারণেও তারা উচ্চশিক্ষা নিতে বাংলাদেশে আর আসছে না। যারা আসছে তারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে।