ব্যাংকিং খাতে অনিয়মে উদ্বেগ টিআইবির

37

নিউজ ডেস্ক ::
ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে বিভিন্ন অনিয়ম এবং দুর্নীতির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এ দুটি খাতের সংকট নিরসনে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

রবিবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে চলমান সংকট নিরসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা দরকার। এজন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি নিরসন পরিকল্পনাসহ একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো বিকল্প নেই।’

বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, ‘ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে লাগামহীন জালিয়াতি, দুর্নীতি ও ঋণখেলাপির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ রোধে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের একাংশ শুধু অ্যাডহকভিত্তিক পদক্ষেপে লিপ্ত থাকেনি, বরং মূল সমস্যা উপেক্ষা করে অপরিণামদর্শিতা ও দৃশ্যমান অসহায়ত্বের মাধ্যমে অভূতপূর্ব অরাজকতা ও আস্থার সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে।’

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন খাতের পাশাপাশি ফারমার্স ব্যাংক ও এনআরবিসি ব্যাংকের মতো ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যাংকে সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি কিছু পদক্ষেপ নিলেও অনিয়মের অন্তর্নিহিত সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটন করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে অনিয়ম লাগামহীন হয়েছে। একইসঙ্গে আমানতকারীসহ দেশবাসীর মাঝে দুশ্চিন্তা ও আস্থার সংকট বেড়েই চলেছে।’

সম্প্রতি কোম্পানি আইন সংশোধন করে বেসরকারি ব্যাংকিং খাতে অনিয়ন্ত্রিত ও জবাবদিহিহীন পরিবারতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় টিআইবির বিবৃতিতে।

টিআইবি মনে করে, ‘অবৈধ উপায়ে ত্বরিত মুনাফা ও সম্পদলোভী স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও চক্রকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা দরকার। শাস্তি না দিলে এ খাতে আইন অমান্য করার চলমান বেপরোয়া ধারা রোধ করা যাবে না।’

ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের দক্ষতা, সক্ষমতা, কর্মপরিধি বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় আধুনিকায়ন নিশ্চিতের ওপর টিআইবি গুরুত্ব দিয়েছে।

এছাড়া নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেন কোনো প্রকার চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে না হয় ও ভয়-ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্ব পালন করতে পারে; সে পরিবেশ নিশ্চিতে সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও সৎসাহস থাকতে হবে বলে মনে করে টিআইবি। এর পাশাপাশি অন্যান্য আইনি ও নীতিকাঠামো এবং পরিবীক্ষণ ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে অ্যাডহকভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ বন্ধ করতে হবে। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবারতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ সহায়ক সংশোধিত আইনি ধারা বাতিলেরও দাবি জানায় টিআইবি।