ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি

66

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ক্রীড়া কর্মকর্তাসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। রাজধানীর একটি ছাপাখানার এক কর্মচারীও প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত।
শুধু ডিভাইস নয়, ছাপা প্রশ্নপত্রও এই প্রেস কর্মচারীর মাধ্যমে ফাঁস হয়েছে। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, এসএসসি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা ও শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে একাধিক চক্রের জড়িত থাকার কথা জানতে পেরেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। গত অক্টোবরে ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার আগের রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে সংঘবদ্ধ চক্র কী করে প্রশ্ন ফাঁস করে আসছে। কারা এই চক্রের সদস্য। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে এ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। এদের মধ্যে ১৩ জন প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। অভিযুক্তদের মোবাইল ফোনে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতির প্রমাণ সংরক্ষিত আছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। মোবাইল ফোন কলের ডিটেইলস রেকর্ড রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ধারাবাহিক তদন্তে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ জালিয়াতিতে জড়িত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক চক্রকে শনাক্ত করতে পেরেছে। মেডিক্যাল ও নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতিতে জড়িতদেরও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে পুলিশ মনে করে।
শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে অনেকের এই অধিকার হরণ করা হচ্ছিল। টাকার বিনিময়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কিনে অনেক দুর্বল শিক্ষার্থীও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত এই শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করে অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। অন্যদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যাপারে নিজেদের কোনো দুর্বলতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার দিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল। এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত সবাই দেশ ও জাতির শত্রু। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। এসব জালিয়াত চক্রের সব সদস্যকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হোক। তাদের কঠোর শাস্তিই আমাদের কাম্য।