কালু চাচার চিঠি- এমপি সংসদ নির্বাচন ও ভোটের কথা

74

এ.কে.এম শামছুল হক রেনু ::

এ নিবন্ধটি লেখার আগেভাগে প্রেরক কালু চাচা, এই মর্মে একটি চিঠি পেলাম। তাতে বর্তমান সংসদ সদস্য, ভোটারবিহীন দশম সংসদ, একাদশ সংসদ নির্বাচন, বর্তমান সংসদের বিরোধী দল, ভোটাধিকার হরণ, নির্বাচনী এলাকায় সংসদ সদস্যদের উন্নয়ন, টিআর, কাবিখা, কাবিটা, জিআর বিতরণ, এলাকার বেকারদের চাকরি, সহায়ক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি সম্পর্কে অনেক কথা। যার আদ্যোপান্ত এ নিবন্ধের সংক্ষিপ্ত পরিসরে সম্মানিত পাঠকদের নিকট উপস্থাপন সম্ভব না হলেও চিঠির আলোকে কিছু কথা এ নিবন্ধে উল্লেখ করা হল।

বিজ্ঞজনদের মতানুসারে ইতিহাস সময় ও কর্মের গতানুগতিক দলিল ও অ্যাভিড্যান্স। যাকে পাস কাটিয়ে যাওয়া কারো পক্ষে সম্ভব নয়। তদোপরি ইতিহাসকে অস্বীকার, বাস্তব পরিণতি ও কারো জন্যেই সুখকর হয়না। যার ভুরি ভুরি অকাট্য পরিণতির দৃশ্যপট ইতিহাসেই স্থান পেয়েছে। নমরুদ, ফেরাউন, ইয়াজির থেকে শুরু করে যার যতটুকু পাওয়ার ততটুকুই ইতিহাসে স্থান পেয়েছে। বাস্তবিক অর্থে ইতিহাস সময় ও কালের ডকুমেন্ট ও অ্যাভিড্যান্সও বটে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর ভোটারবিহীন সংসদ নির্বাচনে ১৫৪ জন বিনা ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য (Member of parliament) এবং বর্তমান সংসদের খাংসারপা ও জি হুজুর মার্কা বিরোধী দলের কথা অস্বীকার করার মতো কোন কিছুই অবশিষ্ট না থাকারই কথা। বর্তমান দশম সংসদের প্রায় চার বছরের মধ্যে সংসদের বিরোধী দলকে পার্লামেন্টে দেশ, জাতি, জনগণ ও উন্নয়নের ব্যাপারে তেমন কিছু বলতে দেখা না গেলেও সব সময় মিডিয়াতে হাঁ জয় যুক্ত হয়েছে বলে টেবিল চাপড়িয়ে উল্লাস করার দৃশ্যপট কারা দৃষ্টিকে এড়িয়ে যায়নি। তারপরও বিরোধী দল থেকে দুইজন প্রতিমন্ত্রী, একজন মন্ত্রী এবং দলের চেয়ারম্যান ও মন্ত্রীর মর্যাদায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিদেশ দূত হিসেবে অলংকিত। সংসদের এ ধরণের বিরোধী দলকে অনেকেই রসিকতা করে সপ্তম আশ্চর্যের পর (Seven wounders in the world) অষ্টম আশ্চর্য বলেও উপহাস করে থাকে। যা কোন সংসদের বিরোধী দলের জন্য এ রসিকতা ও টাইটেল দুঃখজনকই বটে।

বর্তমান সংসদ নির্বাচনের এখনো প্রায় ১২/১৩ মাস সামনে থাকলেও এখনই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ১৪ দলীয় মহাজোট, ২০ দলীয় জোটসহ দেশের বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নির্বাচনের আগাম জনসংযোগ হিসেবে জনগণের দোড় গোড়ায় যাওয়া আসা, হাত মেলানো পর্বসহ তাদের সুখ দুঃখের কথা জানতে শুরু করে দিয়েছে। ইতোমধ্যে বর্তমান ভোটার বিহীন সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি অনেক নতুন মুখকেও জনগণের কাছে যেতে দেখা যাচ্ছে।

কালু চাচা তার চিঠিতে কোন নির্বাচনী এলাকার কথা উল্লেখ না করে বলেছেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে আগাম দলীয় মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দাবীদার বর্তমান সংসদের একজন রানিং এমপি এলাকায় সালাম বিনিময় করে হাত মিলিয়ে সুখ দুঃখের কথা শেষ করতে না করতেই আগাম ভোটের প্রত্যাশা করে থাকে। তাকে কালু চাচা মাননীয় সংসদ সদস্য সম্বোধন করে কিছু প্রশ্ন করেছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। তিনি নাকি বলেছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী নির্বাচনের পর একদিনও আপনার চেহারা মোবারক এলাকায় দেখা যায়নি। এমনকি কোনদিনই আপনার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন, বেকার যুবকদের চাকরির সমস্যাসহ কোন ব্যাপারেই সংসদ অধিবেশনে দুরবীন দিয়ে দেখা না গেলেও দেরীতে হলেও এসেছেন বলে আপনাকে খোশ আমদেদ ও মোবারক বাদ। শুনা যায় আপনি ট্যাক্স বিহীন পাজারো গাড়ী দিয়ে প্রায় সময়ই উপজেলা, থানা এবং জেলা সদরে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও ত্রাণ পুনর্বাসন কার্যালয় টিআর, কাবিখা ও জিআর এর ব্যাপারে নাকি আসেন এবং ঢাকায় চলে যান। এলাকার জনগণের কাছে যেমনি চার বছরের মধ্যে আসার প্রয়োজন হয়নি তেমনি আসার সময় ও সুযোগও হয়নি। তারপর প্রশ্ন রেখে কালু চাচা এসপি সাহেবকে নাকি বলেছেন, বিশেষ কোন প্রয়োজনে আমার মতো অনেকেই ঢাকায় গিয়ে ২/৩ দিন হোটেলে থেকেও আপনার সাথে সাক্ষাৎ তো দুরের কথা, কোথায় আছেন, তাও জানতে পারেনি। আপনার তথাকথিত ৭ নং এপিএসের কাছ থেকে জানা যায়, আপনি নাকি বঙ্গভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনেক কাজে ব্যস্ত। আপনার সাথে আগামী ১৫ দিনেও নাকি সাক্ষাতের সুযোগ নেই। তারপর কালু চাচাসহ নির্বাচনী এলাকার আরো অনেকেই নাকি এমপি সাহেবের দেখা সাক্ষাৎ না পেয়েই ব্যথা ভরা ক্লান্ত মন নিয়ে রিক্ত ভাবে বাড়ীতে চলে আসে। তারপর এলাকায় এসে জানতে পারেন এসপি সাহেব কোথায় আছেন, তা নাকি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পিআইও সবচেয়ে ভালো বলতে পারবেন। কালু চাচা সহ অনেকেই পিআইও সাহেবের স্মরণাপন্ন হলে তিনি নাকি বলেছেন, টিআর, কাবিখা, কাবিটা, জিআর সংক্রান্ত বরাদ্দ থাকলে এমপি স্যার প্রায় সময়েই উপজেলায় আসা যাওয়া করেন। তাছাড়া প্রয়োজনে ঢাকায় গিয়ে স্যারের কাজ করিয়ে আনি। এমপি স্যার বর্তমানে কোথায় আছেন জানিনা। যদিও পিআইও সাহেবের নাকি সবই জানার কথা।

এত কিছুর পরও কালু চাচা এমপি সাহেবকে কাছে পেয়ে নাকি আরো বলেছিলেন, যদি কোন কিছু মনে না করেন তবে বিনয়ের সাথে কিছু প্রশ্ন করতে চাই। শুনা যায়, সরকার প্রত্যেক এমপিকে এলাকার রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজ, সেতু, হাট বাজার, মসজিদ, মন্দির, কবরখানা, শ্মশান কলা, ঈদের মাঠ এলাকায় অন্যান্য উন্নয়নের ব্যাপারে নাকি আর্থিক বরাদ্দ, থোক বরাদ্দ, টেস্ট রিলিফ (টিআর), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা), কাজের বিনিময়ে টাকা, (কাবিটা) অসহায়দের জন্য খয়রাতি সাহায্য (জিআর) সহ অনেক অর্থের যোগান দিয়েছেন। এ ব্যাপারে আপনার কাছ থেকে জানলে এলাকার লোকজন খুবই আনন্দিত হবে। আপনি এমপি হওয়ার পর উন্নয়নের জন্য যত টাকা পেয়েছেন, টিআর, কাবিখা, কাবিটা, জিআর ও থোক বরাদ্দ হিসেবে যা পেয়েছেন, তা আপনার আগাম ভোট চাওয়া হাঁসি মুখের বিলবোর্ড, ফেস্টুন ও পোস্টারের সাথে সংযোগ করে প্রদর্শন করলে যেমনি সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে তেমনি আপনার ইমেজও অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। তদোপরি আগামী দিনে আপনার ভোট পাওয়ার পথ আরো সুগম হবে। আর ফলে যদি কোন অন্তর্দন্ধ বা গ্র“পিং থাকে তাহাও দেখা দরকার। তা না হলে এলাকায় মানুষের ভোগান্তি হয়ে থাকে। যদি এসব কিছু না করেন, আর যদি সুষ্টু নির্বাচন হয় এবং জনগণ নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার সুযোগ পায় তবে এটা আর নাই বা বললাম। তারপর কালু চাচা লেখেন যদি এখনো আত্মসংশোধন না হন তবে অতীত ও বর্তমান অনেক এমপির মতো, আপনি যেমনি দুদকের চক্ষুশুল হবেন, তেমনি আপনার নির্বাচনী এলাকার জনগণ ও দলের কাছে হেয় হওয়ার সম্ভাবনাকেও একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। কালু চাচা লিখেছেন, যদি দেশে একাদশ সংসদ নির্বাচন হয় তবে কোন দলই গম খেকো, দুর্নীতিবাজ ও জনবিমুখদের কে আর দলীয় মনোনয়ন দিয়ে এর দুর্নামের ভাগীদার হতে চায়না। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেশ কয়েকবার বলেছেন, দুর্র্নীতিবাজ, টিআর, কাবিখা ও উন্নয়নের অর্থ আত্মসাৎকারীদের আর মনোনয়ন দেয়া হবে না। প্রতিটি এমপির আমলনামা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট রয়েছে।

কালু চাচা লেখেন শুনা যায় বিএনপির দুঃসময়ে যারা দলের হাল ধরেনি, তাদের কেও নাকি বিএনপির হাই কমান্ড দলীয় মনোনয়ন দিবে না। ওয়ান ইলেভেন থেকে নিয়ে এ পর্যন্ত সবকিছু নাকি দলের চেয়ারপার্সনের নিকট সুরক্ষিত রয়েছে। এসব ব্যাপারেও দলের মহাসচিব বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উচ্চারণ করেছেন।

তারপর কালু চাচা লেখেন প্রতিদিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখা যায়, একাদশ নির্বাচনে আগ্রহী দলের প্রার্থী তালিকায় বিভিন্ন দলের অনেক ভালো লোকের নাম প্রকাশিত হচ্ছে। যদি দলে ভালো লোক পাওয়া যায় তবে একাদশ নির্বাচনে ভালো

লোক ও দূর্নীতি বিমুখদেরকেই দলীয় মনোনয়ন দেয়ার কথা। কালু চাচা নির্বাচনী এলাকার এমপিকে উল্লেখ করে লেখেছেন মাননীয় এমপি সাহেব আপনার যেমন ভোট চাওয়ার অধিকার রয়েছে, তেমনি আমারও যাকে খুশি তাকে ভোট দেয়া বা না দেয়ার গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। আর যদি ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আগেই আমার বা অন্য কারো ভোট দেয়া হয়ে যায়, সেটা যেমন অগণতান্ত্রিক, বেলেল্লাপনা তেমনি এসব কিছু হাইজ্যাক ও ছিনতাই হওয়ারই নামান্তর। আর ভোট প্রদান করলেও যদি অজ্ঞাত কারণে ভোট কাউন্টে না আসে তবে কবির কন্ঠে বলতে হবে, আষাঢ়ে নামিল ঢল, খালে আর বিলে, মনু মিঞা মারে মাছ নিয়ে যায় চিলে। তারপর ব্যালট পেপার ছিনতাই ও ভোটের বাক্স ছিনতাই তাতো বহুদিন ধরে মামুলি ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারী মাসের ২৮ তারিখে ৯০ দিনের মধ্যে সাংবিধানিক ধারা বাহিকতায় একাদশ সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। সম্প্রতি সিইসি গণমাধ্যমকে বলেছেন যদি ২০১৮ সালের মার্চের মধ্যে নির্বাচন হয় তাতেও নির্বাচন কমিশন নির্বাচন করতে প্রস্তুত। এ বক্তব্যের যথার্থতা নাকি কালু চাচা বুঝতে পারেননি। বর্তমান সরকার অধীনে নির্বাচনে না গিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে বিএনপি যে কথা বলছে তা সমাধান না করে নির্বাচন কিভাবে অনুষ্ঠিত হবে তা জানতেই কালু চাচা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন। দশম সংসদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে কেহ না গেলেও ১৫৪ জন এমপি হয়েছেন। একাদশ নির্বাচনের ব্যাপারে সরকারের মন্ত্রী, এমপি এবং অপরদিকে বিএনপিসহ অপরাপর দলের নেতৃবর্গ যেভাবে উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বলছে, তা যদি এমনিভাবে চলতে থাকে তবে তাতে নির্বাচন কোন পথে হবে বা হবে না বা আবারো দশম সংসদের মতই হয় কীনা তা নিয়েও কালু চাচা সংশয় সন্দেহের কথা লেখেছেন। সকল দলের অংশ গ্রহণের মাধ্যমে যাতে সুন্দর, সুষ্টু, স্বচ্ছ, অবাধ ও কোন প্রকার হস্তক্ষেপ ছাড়া নির্বাচন যেমন গণতন্ত্রের প্রসার তেমনি গ্রহণযোগ্য পার্লামেন্টের জন্য নবদিগন্তের দিশারী।

কালু চাচা লেখেছেন, বর্তমান সংসদের বিরোধী দল দেশ ও বহির্বিশ্বে যেমনি সমালোচিত তেমনি অনেক এমপি, মন্ত্রীরাও কম আলোচিত, সমালোচিত নহে। বর্তমান সংসদ সদস্যরা নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের জন্য যে বরাদ্দ ও অনুদান পেয়েছেন, তা যদি জনসমক্ষে প্রকাশ করেন, তা যেমনি এমপি, মন্ত্রী ও সরকারের ভাবমুর্তিকে বিকশিত করবে, আর তা না হলে পাকিস্তানের লুঠপাট, সীমাহীন দুর্নীতি ও বৈষম্যের কারণে “সোনার বাংলা শ্মশান কেন” এমন চালচিত্র কেহ তোলে ধরে এমপিদের গোমড় ফাঁক হওয়াটাও অসম্ভব কিছু নহে। তদোপরি “দুদক” যদি সংসদ সদস্যদের ব্যাপারে এলাকা ভিত্তিক বিগত চার বছর সময় কালের চালচিত্র প্রকাশ করে তবে বর্তমান অনেক সংসদ সদস্যের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা, আগাম ভোট চাওয়া তো পরের কথা দলের মনোনয়ন পাওয়াটাই দুস্কর ও অসম্ভব হওয়ার কথা।

কালু চাচা আরো লেখেছেন, মুসলমানরা যেমনি পবিত্র হজ্ব পালন করতে গিয়ে সর্বশক্তিমান আল্লাহ রাব্বুল আল আমীনের দরবারে তওবা করে কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে হিন্দুরা যেমনি গঙ্গায় øান, মথুরায় তীর্থস্থানে গিয়ে ভগবানের কাছে কৃতকর্মের ক্ষমা চেয়ে আরোধনা করে এবং বৌদ্ধরা যেমনি গয়াতে গিয়ে কৃতকর্মের জন্য মুক্তি চায় তেমনি দুর্নীতিবাজ যে কোন পর্যায়ের এমপি ও যে কোন দলের রাজনীতিকদের জনগণ ও ভোটারদের নিকট ছহি শুদ্ধ হতে হলে কৃতকর্মের জবাবই ভোট চাওয়ার অধিকার রাখে। আর ব্যতিক্রম হলে নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসবে ততই কালু চাচার চিঠির মতো আরো অনেকেরই কলম সম্প্রসারিত হলে এমপি, মন্ত্রী ও যে কোন দলের নেতাদের হয়তো কিছু বলার সুযোগ নাও থাকতে পারে। তাই সময় থাকতেই কৃতকর্মের জবাবদিহীতাকেই কালু চাচার দৃষ্টিতে অনেকেই বুদ্ধিমানের সমাধান বলে মনে করে থাকেন। তাই কথায় বলে ঞরসব ধহফ ঃরফব ধিরঃ ভড়ৎ হড়হব অর্থাৎ সময় ও নদীর স্রোত যেমনি কারো জন্য অপেক্ষা করেন তেমনি ইতিহাসের নির্মমতা কাহাকেও ক্ষমা করেনি। বিধির সর্বশেষ প্যারায় কালু চাচা আগাম ভোট প্রার্থী সংসদ সদস্যের আমলনামা সংশোধনের আশাবাদ ও ২১ ডিসেম্বর রসিক নির্বাচনের হাল হকিকত দেখার প্রত্যাশা ব্যাক্ত করে চিঠির ইতি টানেন।

এ.কে.এম শামছুল হক রেনু
লেখক কলামিষ্ট