রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

40

বাংলাদেশ-মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তি (দাপ্তরিক পরিভাষায় অ্যারেঞ্জমেন্ট) সই হয়েছে গত ২৩ নভেম্বর। কথা ছিল, চুক্তি সইয়ের তিন সপ্তাহের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডাব্লিউজি) গঠন করা হবে।
নির্ধারিত সময়ে সেটি না হলেও এ বিষয়ে সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে। গত মঙ্গলবার ঢাকায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রসচিবদের নেতৃত্বে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আলোচনা করে গ্রুপের আকার ও কর্মপরিধি ঠিক করেছেন। এ বিষয়ে একটি সমঝোতাও সই হয়েছে।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পররাষ্ট্রসচিবের নেতৃত্বে প্রতিটি দেশের ১৫ জন সদস্য যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপে থাকবেন। আগামি ২২ জানুয়ারির মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরুর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার জন্য কাজ করবে জেডাব্লিউজি। প্রত্যাবাসন চুক্তির আলোকে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে ফিরে যাওয়া এবং তাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেবে এ গ্রুপ। পরিচয় যাচাই কাঠামো, সময়সীমা নির্ধারণ, পরিবহন ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের গ্রহণ প্রক্রিয়া চালু ও যোগাযোগের বিষয়ও তাদের কর্মপরিধির মধ্যে রয়েছে। দুই দেশের সরকারকেই ত্রৈমাসিক অগ্রগতি প্রতিবেদন দেবে জেডাব্লিউজি। প্রত্যাবাসনের বিভিন্ন ধাপে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা ও আগ্রহী বিভিন্ন পক্ষের সহযোগিতা নেবে তারা।
জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের সহায়তা দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী বিভিন্ন পক্ষ (দেশ ও সংস্থা) রয়েছে। তারা এরইমধ্যে সহায়তা দিতে শুরু করেছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ২০ শয্যার একটি ফিল্ড হাসপাতাল চালু করেছে। ৩০ লাখ প্যাকেট খাবার স্যালাইন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৪ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ৯ কোটি ডলারের বেশি অর্থ-সহায়তা দিয়েছে তারা। বাংলাদেশে সফররত তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার বোঝা লাঘবে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার অঙ্গীকার করেছেন। যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রয়োজনে এসব দেশ ও আরো কিছু সংস্থার সহায়তা নিতে পারবে।
জেডাব্লিউজির কাঠামো ও পরিধি নির্ধারণের বিষয়টি অবশ্যই আশাব্যঞ্জক। তবে মিয়ানমারের মানসিকতা ও আচরণ নিয়ে সংশয়ের যথেষ্ট অবকাশ এখনো রয়ে গেছে। প্রত্যাবাসন চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে যখন আলোচনা চলছে তখনো মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হচ্ছে রোহিঙ্গারা। বাংলাদেশে তাদের আসা অব্যাহত রয়েছে। চুক্তি সইয়ের পরও প্রচুর রোহিঙ্গাকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী হত্যা করেছে বলে আন্তর্জাতিক মহলের অভিযোগ। ফলে জেডাব্লিউজি নিয়ে মিয়ানমারের টালবাহানার শঙ্কা সংগত কারণেই দেখা দেয়। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনবিষয়ক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দৃঢ়চিত্ত থাকবে বলে আশা করি। কাজটি সময়মতো সম্পন্ন করতে সংহত কূটনৈতিক তৎপরতার বিকল্প নেই।