কে-ফোর্স কন্যা ‘বেবী মোশাররফ’ একটি অনন্য নাম, একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র

96

॥ এম. কে. দোলন বিশ্বাস ॥

আজকের নিবন্ধটির মূলত একজন আলোকিত মানুষের সমাজ সেবায় সাধারণ জারির অসাধারণ গল্পের অবতারনা। সেকারণেই নিবন্ধটির সূচনা থেকে শুরু করে উপসংহারে রয়েছে সফলতার জয়জকার। যার নামজুড়ে জড়িয়ে আছে শিশু, নিষ্পাপ, কমলমতি ইত্যাদি নিষ্কন্টক স্বতন্ত্র শব্দাবলির এক ঢালী সরল অর্থ।
পাঠকদের উদ্দেশ্যে জানান দিতে চাই, এমন একজন আলোকিত মানুষের সফলতার গল্প। যিনি শহরে বেড়ে উঠলেও পিতৃভূমি এলাকার মানুষের কথা ভুলে থাকতে পারেননি। যে কারণে শহরের আলিসান জীবন ছেড়ে দিয়ে পিতৃভূমি মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে হাল ধরেছেন। তার নামের প্রধান অর্থ ‘শিশু’ হলেও তিনি আজ শুধু শিশুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং তিনি লেখক থেকে শুরু করে জননী, অভিভাবক ও জাতীয় সংসদ সদস্য, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্যানেল স্পিকারও বটে। তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে স্বাধীনতাযুদ্ধ বিষয়ে স্মৃতি চারণমূলক কলাম লেখাসহ এবং ট-শোতে অংশ নেন। সংসারও সামলাতে হয় এই খ্যাতিমান নারীকে। করতে হয় অভিভাবকত্বও। জামালপুরের যমুনা-ব্রহ্মপুত্র নদী ভাঙন কবলিত ইসলামপুর উপজেলার পৌর এলাকার মোশাররফগঞ্জ গ্রামে জন্ম গ্রহণকারী আলোকিত ওই মানুষটির নাম কাগজ-কলমে মাহজাবিন খালেদ। তবে বেবী মোশাররফ নামেই তিনি সমধিক পরিচিত।
আলোকিত সমাজ গড়তে সেবাধর্মী রাজনীতির প্রয়োজন। প্রাণহীন রাজনীতি দিয়ে জাতির উন্নতি সম্ভব নয়। বাংলাদেশের চলমান রাজনীতিতে নজর দিলে এটাই প্রতিয়মান হয় যে, প্রাণহীন রাজনীতির কারণে আজ সমাজের মূল্যবোধ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই প্রয়োজন রাজনীতির কারিকুলাম বদলানো। এতে করে হাজারো সমস্যার সমাধান হতে পারে। তা না হলে সর্বোচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও আলোকিত মানুষ হওয়া যাবে না। আলোকিত মানুষ গড়তে হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধস¤পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠা করতে যেমন প্রয়োজন, তেমন সেবাধর্মী রাজনীতিরও গুরুত্ব রয়েছে অপরীসিম।
বিপ্লবের মহান ব্রত নিয়ে পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ আগমন করেন। ওই সব গুণধর ব্যক্তিরা একদিকে যেমন মানুষ, দেশ ও সমাজের জন্য স্বপ্নের পসরার ফেরি করেন। অন্যদিকে একটা জাতিকে রক্ষা, উন্নতির দিকে এগিয়ে নেওয়া, জাতিকে সম্ভাবনার স্বপ্নও দেখান তাঁরা। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ শুধু স্বপ্নই বুনেন না, স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন করে দেশ সেবায় আদর্শের এক অন্যন্য নিদর্শনও স্থাপন করেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন ২ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার ও কে-ফোর্সের অধিনায়ক বীর উত্তম মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফের কন্যা মাহজাবিন খালেদ তেমন আদর্শ নিদর্শনকারীদের একজন। একদিকে তিনি যেমন একজন আত্মবিশ্বাসী, তেমন একজন অসাধারণ মানুষও বটে। সেবা নামের আলোকবর্তিকা হাতে নিয়ে সমাজের সর্বস্তরে দীর্ঘদিন ধরে নিরলস ভাবে কাজ করে চলেছেন তিনি। অর্থবিত্ত অহঙ্কার আর বিবেক দৈন্যতায় অনিয়ম-দুর্নীতির কাছে কখনো হার মেনে আদর্শ জলাঞ্জলি দেননি তিনি। বরং যেখানেই ¯পর্শ করেছেন তিনি, সেখানেই নিয়মের যুদ্ধে বিজয় হয়ে অসামান্য সাফল্যর নিদর্শন স্থাপন করেছেন। বলাবাহুল্য যে, মাহজাবিন খালেদের আদর্শকর্ম এক মহতী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তিনি বর্তমানে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৩১৮ জামালপুর-১৮ আসনের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনিত সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদের প্যানেল স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিরও সদস্য।
সফল মানুষ মাত্রই হাজার মানুষের মধ্যে বিশেষ মানুষ। বিশেষ মানুষরা সাধারণের চেয়ে এমন কিছু ভিন্নতা অর্জন করেন। যার ফলে তাঁরা সফল হয়ে ওঠেন। তাঁদের ওই সফলতার পেছনে যে শুধু বিশেষ মেধা বা প্রতিভাই মূল কারণ তা কিন্তু নয়। এসব গুণের সাথে যোগ হয়েছে ত্যাগ, প্রচেষ্টা, পরিশ্রম, আত্মনিয়োগ। তাঁদের যে কোনো সফলতার গল্পগুলো আমাদের জীবনেও ফেলতে পারে ইতিবাচক প্রভাব। তেমনই একজন আলোকিত মানুষ মাহজাবিন খালেদ। তার ডাক নাম বেবী। কাগজ-কলমে মাহজাবিন খালেদ। এলাকাবাসী দাদা নামের ‘মোশাররফ’ অংশটি মিলিয়ে তাঁকে বেবী মোশাররফ নামে ডাকেন। তিনি নিজেও বেবী মোশাররফ নামেই পরিচয় দিতে অবস্থ।
সাংবাদিকতার পেশোর দায়িত্ববোধ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর লিডারদের কর্তৃক অপ্রত্যাশিত অনিয়ম-দুর্নীতির খবর লিখতে গিয়েই উঠে আসে এই সফল মানুষটির সৎকর্মের গল্প। আমরা মনে করি, রাজনীতিকে আয়-রোজগারের মাধ্যম মনে না করে সেবাকর্মে ব্রতী হয়ে রাজনৈতিকরা যদি আন্তরিকভাবে সমাজ সেবায় মনোনিবেশ করেন, তবেই রাজনীতি হয়ে উঠবে মানবতার সমাধানের অন্যতম হাতিয়ার।
আমার এ মন্তব্যকে উড়িয়ে দিয়ে কোনো পাঠক যদি ভেবে থাকেন যে, রাজা যদি প্রজাদের প্রতি ‘বেখেয়াল’ থাকে আর সেই সাথে প্রজাদের যত ‘বেকাম’ গুলোকে ‘কাম’ মনে করেন, তখনও কি ওইসব রাজা দিয়ে ভালো কিছু আশা করা যায়?
রাজা যদি সৎকাজে আন্তরিক হয়। তবে ‘বেখেয়াল’ প্রজা ‘খেয়াল’ হয়ে যায় এটা অস্বাবিক নয়।’ যেমনটি ঘটেছে মাহজাবিন খালেদের দেশ তথা সমাজসেবায়। আমার এ নিবন্ধন পড়ে পাঠক হয়তো বারবার আমাকে বলতে চেয়েছেন, যেখানে রাজনীতিতে দলীয়করণ, আত্মীয়করণ, ইজমবাজি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ইাতোকার অপ্রত্যাশিত ঘটনা অহরহভাবে ঘটছে, সেখানে মাহজাবিন খালেদের ‘দেশপ্রেম’ এমন কি-বা তেলেজমাতিতে মানবতার সমাধানে পরিণত হবে।
আমি ওইসব পাঠকদের শুধু এতটুকুই বলতে চাই, দেশের সর্বোচ্চ সিঁড়িতে মাহজাবিন খালেদের দেশপ্রেমের আলো দ্রুত ছড়িয়ে না পড়লেও ধীরে ধীরে সেই আলোয় আলোকিত হয়ে উঠছে মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন ২ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার ও কে ফোর্সের অধিনায়ক ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর নিহত মাহজাবিন খালেদের বাবা বীর উত্তম মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফের স্বপ্নের ‘সমৃদ্ধির বাংলাদেশ’।
মাহজাবিন খালেদ এমন একজন মানুষ, যাঁর মধ্যে জ্ঞানের ব্যাপ্তি, মূল্যবোধের বিকাশ, জীবনের উৎকর্ষ, আত্মমর্যাদার মহিমা, সাংগঠনিক দক্ষতা, মহৎ সব গুণ ছড়িয়ে তাঁর পায়ের নখ থেকে মাথার চুলে। সৎ জীবনের আলোয় তিনি যেমন আলোকিত, তেমনই তিনি আলোকিত করেছেন অন্যদেরকেও। মাহজাবিন খালেদের ব্যক্তিত্বের প্রায় সব দিক সমন্বিত হয়েছে আলোকিত জীবনের সংগঠক সত্তায়। তাঁর কর্ম বিশেষ করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক অন্যন্য স্পর্শে স্পর্শিত হয়েছে। তিনি অনুভব করেছেন সৎ জীবনের, সৎকর্মের। বুঝতে পেরেছেন তিনি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রয়োজন হবে অসংখ্য উচ্চায়ত মানুষের। প্রয়োজন হবে আলোকিত মানুষের। আলোকিত মানুষের কাছে কেবল মিলবে আলোকিত জীবন। তাই ‘আলোকিত জীবন গড়বো’ ব্রত নিয়ে এ দেশের রাজনীতিতে একটা আন্দোলনের অগ্রযাত্রী হিসেবে প্রায় এক দশক ধরে তিনি সংগ্রামশীল রয়েছেন।
যমুনা-ব্রহ্মপুত্র ভাঙন কবলিত পিতৃভূমি জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল মাহজাবিন খালেদের প্রচেষ্ঠায় আলোকিত হচ্ছে একটু একটু করে, তবে সময় খুব সল্প। মাত্র আট বছর আগে যমুনা-ব্রহ্মপুত্র বিধৌত ইসলামপুরের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে হাল ধরেন তিনি। সল্প সময়ে বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতের মুখে নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে এলাকার উন্নয়নে যেমন তিনি ভূমিকা রাখছেন। ঠিক তেমনই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এ উপজেলা শাখাটি এখন সুপ্রতিষ্ঠিত ও সাংগাঠনিক ভাবে শক্তিশালী করতেও তিনি সচেষ্ঠ রয়েছেন।
জানা গেছে, মাহজাবিন খালেদ ১৯৬৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর জন্ম গ্রহণ করেন। হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৯৮৩ সালে এসএসসি এবং ১৯৮৫ সালে এইচএসসি পাশ করেন। ১৯৮৯ সালে ভারতের দার্জিলিংয়ে অবস্থিত ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটির লরেটো কলেজ থেকে জিওগ্রাফিতে বিএ পাশ করেছেন তিনি।
পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডিং কমিটি ফর ফরেন অ্যাফেয়ার্সের মেম্বার হিসেবে তিনি দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের দক্ষতা বাড়াতে ইতোমধ্যে ডেলিগেট টিমের সাথে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হিসেবেও বিভিন্ন দেশে গিয়েছেন।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধের প্রসঙ্গে বৈশ্বিক সচেতনতা বাড়াতেও কাজ করছেন মাহজাবিন খালেদ। জাতিসংঘের সাধারণ পষিদের অধিবেশনে বাংলাদেশি ডেলিগেটদের অংশ হিসেবে চাইল্ড রাইটস ককাস ও ক্লাইমেট পার্লামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মাহজাবিন খালেদ এমপি গত ২০১৬ সালের ২৩ নভেম্বর জাতিসংঘের ৭১তম অধিবেশনের বিভিন্ন কমিটির কার্যক্রমে অংশগ্রহণ উপলক্ষে সরকারি সফরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘে নিরাপত্তা পরিষদে ‘পানি, শান্তি ও নিরাপত্তা’র উপর এক উন্মুক্ত বিতর্কে (ওপেন ডিবেট) অংশগ্রহণ করেন। এতে তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন- জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে নদীবাহিত নিম্ন ব-দ্বীপের দেশ হিসেবে আমরা সর্বদাই সুপেয় পানির সহজ লভ্যতার চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছি। বিশেষ করে খরা মৌসুমে এটি আমাদের জন্য বড় একটি সংকট। পানিসম্পদ জাতিসংঘের শান্তি, নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং উন্নয়নমূলক কাজের তিনটি স্তম্ভের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করে সমগ্র মানবতার জন্য একটি ‘পানি নিরাপদ বিশ্ব’ গড়ে তুলতে বাংলাদেশ সর্বদাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যে কোনো প্রচেষ্টায় সামনে থেকে ভূমিকা রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মর্মে এমপি মাহজাবিন খালেদ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মাহজাবিন খালেদ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়ার পর থেকে কখনো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর সঙ্গী হিসেবে বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন। আবার কখনো রাষ্ট্রীয় সফরে বিদেশে গিয়েছেন। বাংলাদেশের বৈশ্বিক উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং গণতন্ত্র বিকাশে তাঁর অবদান অপরিসীম। তাঁর দূরদৃষ্টি, এবং জনকল্যাণমুখী চিন্তা-চেতনা বৈশ্বিক সম্পর্ক বিমুখ মানুষকে নতুন ভাবে উজ্জীবিত করেছে। তিনি একদিকে যেমন বৈশ্বিক দূরদৃষ্টি এক বিস্ময়কর সাফল্য দেখিয়ে দেশ-বিদেশে ঈর্ষণীয় হয়েছেন। অপর দিকে জনসেবায় বিচক্ষণতা ও নেতৃত্বের দৃঢ়তায় তিনি পিতৃভূমি ইসলামপুর উপজেলাকে এক নতুনরূপে গড়ে তুলার অবিরাম প্রয়াস চালাচ্ছেন। একাধিক গ্রুপে বিভক্ত স্থানীয় আওয়ামী লীগকে তিনি ইতোমধ্যে সু-সংগঠিত করতেও সক্ষম হয়েছেন। যার ফলশ্রুতিতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধার দৃষ্টিতে মাহজাবিন খালেদ তাদের ‘কন্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত। আজ বলার অপেক্ষা রাখে না যে, তৃর্ণমূলে যেমন তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তাঁর নাম উচ্চারিত হচ্ছে। মাহজাবিন খালেদের দূরদর্শীতায় বৈশ্বিক সম্পর্কে গুরত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ১৬ কোটি মানুষের এই বাংলাদেশ।
মাহজাবিন খালেদ এমপি হওয়ার পর থেকে নিজ উপজেলা ইসলামপুরের বিভিন্ন ইউনিয়নসহ যমুনার পশ্চিম পাড়ে দুর্গম চরাঞ্চলে বাল্যবিয়ে রোধ ও জঙ্গি বিরোধী আলোচনা সভা করে আসছেন তিনি। নিয়মিত করে চলেছেন সরকারের উন্নয়নের বিভিন্ন কর্মকান্ড নিয়ে জেলার বিভিন্ন গ্রামে উঠান বৈঠকও। সাধ্যমত করছেন মসজিদ ও মন্দিও সংষ্কারের জন্য আর্থিক সহায়তা। আর্থিক সাহায্য করেন জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার হতদরিদ্রদের। নিজ দল আওয়ামী লীগকে সু-সংগঠিত করতে কর্মী সমাবেশও করে চলেছেন। মাহ্জাবিন খালেদ বিভিন্ন সময় তার বক্তব্যে তুলে ধরেন- ‘নৌকা শান্তি দেবে, নৌকা উন্নতি দেবে, নৌকা সমৃদ্ধি দেবে, নৌকা বাংলাদেশের মুক্তি এনে দেবে।’
মাহজাবিন খালেদ সংসদ সদস্যের বাইরে সেবামূলক সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জরুরী প্রয়োজনে যাতে রক্ত সংগ্রহ করতে পারেন সেই জন্যে ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ ইসলামপুর পৌর শহরে তাঁর নিজ বাসভবনে শহীদ মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ স্মৃতি পরিষদ ব্লাড ব্যাংকের উদ্বোধন করেন তিনি। দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্বখ্যাত ইসলামপুরের কাঁসাশিল্পকে ধ্বংসের দ্বারপান্ত থেকে উদ্ধার করতে তার ঐচ্ছিক তহবিল থেকে প্রথম বারের মতো আর্থিক সাহায্য করে ঐতিহ্যবাহী ওই কাঁসাশিল্পকে পূনরুদ্ধারের ভূমিকার কথা ভুলার মতো নয়।
কর্মজীবনে বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করার সুবাদে তিনি জাতীয় স্বার্থে সমকালীন বিষয়াদি, ইন্টারফেইথ ইস্যুজ, পিস, ইকোনমি, মানবাধিকার, আইনের শাসন, এবং সোচ্চার থেকেছেন প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার নিয়ে।
এমন আরো অনেক উন্নয়ন কাজে মাহজাবিন খালেদ জড়িত। আসলেই মাহজাবিন খালেদ শুধু একজন সংরক্ষিত আসনের এমপি নয়। বরং কখনো তিনি ভূমিকা রাখেন- একজন আদর্শ মায়ের। কখনো ভূমিকা রাখেন- একজন মমতাময়ী বোনের। আবার কখনো ভূমিকা রাখেন- একজন শক্তিমান অভিভাবকের। বাস্তবিক পক্ষেই তিনি একজ আদর্শ দেশসেবক।
তাঁর মতো অভিজ্ঞ, সৎ ও নিষ্ঠাবান জনসেবক-রাজনৈতিক বিরল। তাঁর সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক না থাকলেও সাংবাদিকতা পেশার সুবাদে আমি তাঁকে মহৎ প্রাণের মানুষ হিসেবে নিজস্ব সক্রিয়তায় আবিস্কার করতে হয়তো ভুল করিনি। রাজনৈতিক সংকটে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা যে রাখতে পারেন, সেটা শত ভাগ সত্য না হলেও কিঞ্চিত সন্দেহের অবকাশও আবার নেই। এ রকম একজন দেশপ্রেমিকের কৃতজ্ঞতা স্বীকার না করাটাই হবে জ্ঞান পাপীদের হীন কাজের একটি।
পরিশেষে বলতে চাই, আমাদের চারপাশে এখন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আলোকিত মানুষের সময়ের দাবি। আলোকিত মানুষের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ুক, প্রতি বছরই বাড়ুক। মাহজাবিন খালেদ বেবী মোশাররফের মতো অসংখ্য আলোকিত জীবনের ছোঁয়ায় ও সৎকর্মের আলোয় আলোকিত হোক রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের লাল-সবুজের ‘বাংলাদেশ’। বাস্তবিক পক্ষেই কে-ফোর্স কন্যা মাহজাবিন খালেদ বেবী মোশাররফ রাজনীতিতে একটি অনন্য নাম, একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকুক প্রাণের মানুষ হয়ে। নামে নয়, তিনি উদ্ভাসিত হোক সু-কর্মে। এমনটাই আমাদের সব সময় কাম্য।

(এম. কে. দোলন বিশ্বাস, দৈনিক সংবাদের সাবেক সহ-সম্পাদক )