আধুনিক পদ্ধতিতে হাঁস-মুরগি ও গাবদিপশু পালনের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

86

আইডিয়া-এসডিসি-সমষ্টি প্রকল্পের উদ্যোগে, কেয়ার বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় এবং এসডিসি এর অর্থায়নে গোয়াইনঘাট উপজেলার কৃষি অফিস-এর হলরুমে দুই দিনব্যাপী হাঁস পালনের সাথে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সেবা প্রদানকারী (এলএসপি)-গণের কারিগরি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
আইডিয়া-এসডিসি-সমষ্টি প্রকল্পের প্রকল্প কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া এর সার্বিক তত্তাবধানে প্রশিক্ষণে রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: বিপ্লব কুমার দে।

প্রশিক্ষণে আরো উপস্থিত ছিলেন সমষ্টি প্রকল্পের কেয়ার বাংলাদেশের সিলেট রিজিওন্যাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার আব্দুল মালেক খাঁন। ডা: বিপ্লব কুমার দে বলেন, হাঁসের ডিম উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রথমেই হাঁসের জাত নির্বাচনের বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য হাঁসের জাত হল- খাকি কেম্বল, জিনডং অথবা ইন্ডিয়ান রানার। অন্যদিকে মাংস উৎপাদনের জন্য মাসকোরী (চীনা হাঁস) এবং ডিম ও মাংস উভয়ের জন্য পিকিং জাতের হাঁস নির্বাচন করতে হবে।
হাঁসের বিভিন্ন রোগের বিষয় আলোচনা করতে গিয়ে তিনি ভাইরাস জনিত রোগ ডাক প্লেগ ও ডাক কলেরার কথা উল্লেখ করেন। ডাক প্লেগের ভ্যাকসিন হাঁসের বুকের মাংসে যদি সম্ভব না হয় তবে রানের মাংসে এবং ডাক কলেরার ভ্যাকসিন চামড়ার নিচে দিতে হয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে দুটি ভ্যাকসিন দিতে হলে দুটি ভ্যাকসিনের মাঝে সময়ের ব্যবধান হবে ৭দিন।

গাভীর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি আলোচনাকালে তিনি বলেন, গাভীকে প্রতিদিন গোসল করাতে হবে। গাভীকে শীতের দিনে বেলা ১১-১২টার দিকে এবং গরমের দিকে সকালের দিকে গোসল করাতে হবে। বিদেশী জাতের গরুকে দিনে ২বার গোসল করানো দরকার। গাভীকে বছরে ৩বার কৃমিনাশক ঔষধ খাওয়াতে হবে। গাভীর খুড়া রোগ হলে আক্রান্ত স্থান পটাশ দিয়ে দিনে দুইবার ধুঁতে হবে, গোয়ালে এবং যেখানে গরু রাখা হয় সেখানে চুন প্রয়োগ করতে হবে এক্ষেত্রে ৫০লিটার পানির সাথে ৫কেজি চুন মিশ্রিত করে ছিটিয়ে দিতে হবে। এভাবে প্রতিমাসে খামারে চুন প্রয়োগ করতে পারলে অনেক রোগের হাত থেকে গাভীকে রক্ষা করা যাবে। খুড়া রোগে আক্রান্ত গাভীর দুধ গাভীর বাচ্চাকে খাওয়াতে হলে গরম করে খাওয়াতে হবে তা নাহলে গাভীর বাচ্চা এ রোগে সংক্রামিত হবে।

রিজিওন্যাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার আব্দুল মালেক খাঁন বলেন, আমরা হাঁস পালনের ক্ষেত্রে যেমন নিয়মিত ভ্যাকসিন দেইনা, অন্যদিকে কোন রোগাক্রান্ত হাঁস মারা গেলে তা আমরা পানিতে ফেলে দেই। এতেদেখা যায় সেই হাঁস পঁচে যখন পোক হয় তখন সেই পোকাগুলো অন্য হাঁস খেয়ে মারা যায়। হাঁস মারা গেলে উচিত মাটির নিচে পুঁতে ফেলা। ছাগলের পিপিআর ভ্যাকসিন প্রয়োগের পদ্ধতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, যে ছাগলের বয়স তিন মাসের উপরে সেই ছাগলকে এ ভ্যাকসিন দিতে হবে তবে তিন মাসের কমবয়সী ছাগলকে দেওয়া যাবে না। পিপিআর ভ্যকাসিন দেওয়ার ০৭ দিন পূর্বে ছাগলকে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে।

ভেটেরিনারী সার্জন ডা: গোলাম মোহম্মদ মেহেদী বলেন, গরুর গ্যাস হলে খাবার সোডা ৫০ গ্রাম, আদা ২৫ গ্রাম, লবন ০১চিমটি আধা লিটার পানির সাথে মিশ্রিত করে খাওয়ালে গরু পেটের গ্যাসরোগ কমে যাবে। ছাগল ও ভেরার জন্য উক্ত মিশ্রণের ৫ ভাগের ১ ভাগ খাওয়াতে হবে। উক্ত প্রশিক্ষণে আরো উপস্থিত ছিলেন শৈলেন্দ্র দেবনাথ, আব্দুল গফ্ফার, জগন্নাথ বিশ্বাস, ফয়েজ আহমদ, মুজিবর রহমান প্রমূখ।-বিজ্ঞপ্তি