বেনজির হত্যার রহস্য আড়াল করল পাকিস্তান

32

আন্তর্জাতিক ডেস্ক::  নির্বাসন থেকে দেশে ফেরার পরপর ২০০৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর বেনজির ভুট্টোকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পাকিস্তানের প্রথম এই নারী প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুর এক দশক পেরোল বুধবার। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের ১০ বছর পর এখনো পুরোপুরি রহস্য উদ্ধার হয়নি। হত্যার তদন্ত নিয়ে দেখা দিয়েছে ধুয়াশা। মনে হচ্ছে, বেনজির হত্যার তদন্ত আড়ালে সব ধরনের জোগাড়যন্ত্র করেছে পাকিস্তান। বিবিসির অনুসন্ধানে এমন তথ্যই উঠে আসে।

গণমাধ্যমটি জানায়, বেনজিরের ওপর আত্মঘাতী হামলা চালানো কিশোরের নাম বিলাল। রাওয়ালপিন্ডিতে এক নির্বাচনী জনসভার পর বেনজির ভুট্টো যখন তার গাড়ির কাছে গিয়ে জনতার উদ্দেশে হাত নাড়ছিলেন, তখন বিলাল তাকে গুলি করে এবং পরে আত্মঘাতী হামলা চালায়।

বিলালকে যারা বেনজির ভুট্টোর কাছাকাছি পৌঁছাতে সাহায্য করেছিল, এমন দুজনকে ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে সেনা তল্লাশিচৌকিতে মারা হয়। আরেক সহযোগী যে আত্মঘাতী জ্যাকেট সরবরাহ করেছিল, তাকেও ২০১০ সালের ১৩ মে দেশটির দুর্গম এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয়।

এছাড়া বেনজির হত্যার আগে তার দেহরক্ষী শাহেনশাহের সন্দেহজনক অঙ্গভঙ্গি ছিল। মোবাইলে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি হাতের আঙুল দিয়ে গলার দিকে কিছু ইশারা করছেন। এই দেহরক্ষীকেও ২০০৮ সালে করাচীতে তার বাসার সামনে মারা হয়। এই মামলার রাষ্ট্রীয় আইনজীবী চৌধুরী জুলফিকারকে ২০১৩ সালে ইসলামাবাদে রাস্তায় গুলি করে হত্যা করা হয়।

এদিকে বেনজিরের মৃত্যুর জন্য পারভেজ মোশাররফকে অনেকে দায়ী করেন। তার পরিবারেরও একই সন্দেহ। হত্যার এক দশক পর সাবেক পারভেজ মোশাররফ মনে করছেন, রাষ্ট্রযন্ত্রের একটি অংশের তালেবানের সঙ্গে যোগাযোগ থাকতে পারে বেনজিরকে হত্যার জন্য।

বেনজিরের আইনজীবীরা বলছেন, ২০০৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মোশাররফ ওয়াশিংটনে অবস্থানরত বেনজির ভুট্টোকে ফোন করেছিলেন। ফোনালাপের পর বেনজির বলেছিলেন, ‘সে (মোশাররফ) আমাকে হুমকি দিয়েছে। সে আমাকে পাকিস্তানে না যাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছে।’