স্বাগত নির্বাচনের বছর

19

স্বাগত নতুন বছর ২০১৮। কালের অন্তহীন যাত্রায় শুরু হলো আরেকটি নতুন বছর। এর সাথে মহাকালের গর্ভে হারিয়ে গেল ২০১৭। ৩১ডিসেম্বর রাত ১২টা ১মিনিটে বাংলাদেশেসহ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ বরণ করে নিয়েছে নতুন বছরকে। ১ জানুয়ারি ভোরে সূর্যোদয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হলো নতুন দিনের। এভাবে নতুন আরও একটি বছরে পদার্পণ করলো মানব সভ্যতা। সারাবিশ্বে উদযাপিত হচ্ছে নববর্ষ। এ অতীতের সফলতা-ব্যর্থতাকে বিবেচনায় রেখে ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য এখন আমাদের সামনে তাকানোর দিন, দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে যাবার দিন।

নতুন বছর অর্থাৎ ২০১৮ সাল হবে বাংলাদেশের জন্য নির্বাচনের বছর। বছরের শেষ দিকে গিয়ে হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এটা সরকার গঠন বা সরকার বদলের নির্বাচন বলেই বেশি পরিচিত। ফলে ওই নির্বাচন নিয়ে এখন থেকেই আগ্রহ, কৌতূহল এবং প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে বলেছে তারা অবশ্য নির্বাচনে অংশ নেবে, তবে নির্বাচন হতে হবে অবাধ ও নিরপেক্ষ। বিএনপি একাই এ মত পোষণ করে এমন নয়, তাদের সহযোগী অন্যান্য দলেরও অভিমত একই।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিএনপির এই দাবিকে গ্রহণ করবে না বলে স্পষ্ট বলে দিয়েছে। দাবি তো মানবেই না এমনকি এসব বিষয় নিয়ে তারা বিএনপির সাথে কোনো আলোচনা করতেও রাজি নয়। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দিয়ে বলেছেন, নির্বাচন পরিচালনা তো সরকার করে না, নির্বাচন কমিশন করে। তাদের অধীনেই নির্বাচন হবে। সে ক্ষেত্রে তারা কেন সরকার থেকে সরে দাঁড়াবে। নির্বাচন সহায়ক সরকার প্রশ্নে দেশের প্রধান দুই দলের অবস্থান উত্তর ও দক্ষিণে। তাদের এক মেরুতে আসতে সংলাপে যোগ দিতেও ক্ষমতাসীনেরা নারাজ। নির্বাচন সহায়ক সরকার প্রশ্নে আওয়ামী লীগের অবস্থান সম্পর্কে বলা হচ্ছে যে এ ক্ষেত্রে তারা সংবিধানের বাইরে যাবে না। সব মিলিয়ে আগামী বছর জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে উত্তপ্ত থাকবে রাজনৈতিক অঙ্গন।

জাতীয় নির্বাচন বাদেও নতুন বছরের শুরু থেকেই দেশে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করবে। ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হকের অকাল মৃত্যুর কারণে শূন্য হওয়া মেয়র পদে নির্বাচন হতে হবে ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখের মধ্যে। নির্বাচন কমিশন সে লক্ষ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও নড়াচড়া শুরু করেছেন। তবে কিছু আইনি জটিলতায় ঢাকা উত্তর সিটির নির্বাচন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও কেউ কেউ করছেন। জাতীয় নির্বাচনের আগে ঢাকা উত্তর সিটির নির্বাচন নিয়ে প্রধান বা বড় রাজনৈতিক দলগুলোর খুব বেশি আগ্রহ না থাকার কথাই শোনা যাচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটির নির্বাচনের ফলাফল জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে বলে অনেকের ধারণা। তাই এই নির্বাচনে গিয়ে ভাগ্য পরীক্ষার ঝুঁকি নিতে নাকি প্রায় সবারই অনীহা। তবে কোনো ঝামেলা যদি না হয় এবং নির্বাচন কমিশন যদি তফসিল ঘোষণা করে তাহলে রাজনৈতিক দলগুলো পিছিয়ে থাকবে না।

ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনের পর বছরের মাঝামাঝি সময় আরো কয়েকটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হওয়ার কথা। রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তোড়জোড়ও শুরু হয়ে যাবে। আগের বার এই সিটি কর্পোরেশনগুলোতে আওয়ামী লীগ হেরে গিয়েছিল। তারপর জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়।

এছাড়াও নতুন ২০১৮ সালটি নানা কারণেই বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। প্রথমত, দ্রব্যমূল্য সরকার কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করে- তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দ্বিতীয়ত, ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট শুকনো মৌসুমের মধ্যেই মেরামত করতে সরকার পারছে কি না- তা বছর শুরু থেকে সবাই লক্ষ্য করবে।

৫টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে কী হবে- তাও এ বছরই দেখা যাবে। তবে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বছরটি কতটা টানটান উত্তেজনায় যাবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা থাকবে কিনা ইত্যাদি বছর শেষেই দেখা যাবে, নির্ধারিতও হবে। সে কারণে ২০১৮ সালটি বাংলাদেশের জন্য অনেক বেশি প্রতীক্ষা ও প্রত্যাশার বছর হয়ে থাকছে। সবাই আশা করছে বছরটি ভালোভাবে কাটানো আর ভালো নির্বাচন শেষে একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ পরিচালনার নেতৃত্বকে জাতি নির্বাচিত করবে।