বিদায়ী বছরে ১০৭ জন হিন্দু হত্যা, ৩১ জন গুম: জাতীয় হিন্দু মহাজোট

70

সবুজ সিলেট ডেস্ক
বিদায়ী ২০১৭ সালে কমপক্ষে ১০৭ হিন্দু ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিকে হত্যা ও ৩১ জনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট (বিজেএইচএম)। এ ছাড়া ২৩ জন হিন্দুকে জোর করে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে বলেও দাবি করে সংগঠনটি।

৬ জানুয়ারি শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা বলা হয়।

হিন্দু সংগঠনগুলোর জাতীয় মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক পলাশ কান্তি দে ‘১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন’ শিরোনামে এই সংক্রান্ত এক পরিসংখ্যান প্রতিবেদন সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর ৭৮২ জন হিন্দুকে জোর করে বা হুমকি দিয়ে দেশ ত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।

পলাশ বলেন, গেল বছরে ২৫ জন হিন্দু নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং ২৩৫টি মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত বছরে ৬ হাজার ৪৭৪টি হিন্দু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় সাম্প্রদায়িক প্রশ্নের উদাহরণ টেনে পলাশ বলেন, রংপুরে হিন্দুদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা ছাড়াও ময়মনসিংহে স্থানীয় প্রভাবশালীরা এক হিন্দু পরিবারকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।

বিজেএইচএমের সভাপতি প্রভাস চন্দ্র রায় সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সরকার, হিন্দু মহাজোট ও হিন্দু সমাজ সম্মিলিতভাবে কাজ করার কারণে গত বছর নির্যাতনের সংখ্যা কমেছে। যদিও হত্যা ও গুমের ঘটনা এখনও আশঙ্কাজনক।

তিনি দাবি করেন, এই নির্যাতনের পেছনে প্রশাসনের নীরব ভূমিকা ও ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের প্রভাব কাজ করেছে। যা দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি।

তিনি অভিযোগ করেন, পৃথিবীর আর কোনো দেশে বাংলাদেশের মতো নির্বাচনের সময় সংখ্যালঘুদের এমন নির্যাতন হয় না। সেসময় তিনি আসন্ন নির্বাচনে হিন্দুদের হত্যার ঘটনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করনে।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের প্রচেষ্ঠায় খুব দ্রুত সংখ্যালঘু নির্যাতন শূন্যের কোঠায় চলে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রভাস চন্দ্র।