পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা ২ দশমিক ৬ ডিগ্রিতে

46

সবুজ সিলেট ডেস্ক ::
শীতে কাঁপছে সারাদেশ। মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে দেশের ওপর দিয়ে। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সোমবার পঞ্চগড়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস; যা দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্র জানায়, সোমবার সকাল ৬ টায় পঞ্চগড় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে সোমবার নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর ও ডিমলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তাপমাত্রা রয়েছে ৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

রাজধানী ঢাকায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলেছে। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আরও দু-এক দিন এই শৈত্যপ্রবাহ থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দীন আহমেদ সোমবার সকালে বলেন, সৈয়দপুর ও ডিমলায় আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সারা দেশে আরও দু-এক দিন এমন পরিস্থিতি থাকবে। এরপর থেকে তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা আছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, রাজধানীসহ সারা দেশে কয়েকটি এলাকায় ৪-৬ ঘণ্টা সূর্যের কিরণ দেখা যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান বলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের কাছে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত তাপমাত্রার রেকর্ড আছে। বাংলাদেশে তাপমাত্রা এত কমে যাওয়ার নজির সেখানে আর নেই।

তিনি জানান, এর আগে ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেটাই ছিল এ যাবৎকালের সর্বনিম্ন।

২০১৩ সালের ১১ জানুয়ারি সৈয়দপুরের তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছিল; কিন্তু সম্প্রতিক অতীতে বাংলাদেশের কোথাও থার্মোমিটারের পারদ ৩ ডিগ্রির নিচে নামেনি।

তাপমাত্রা ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এলে আবহাওয়াবিদরা একে বলেন তীব্র শৈত্য প্রবাহ। আবহাওয়া অফিস বলছে, রাজশাহী, পাবনা, দিনাজপুর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের ওপর দিয়ে এখন তীব্র শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

আর শ্রীমঙ্গল ও সীতাকুণ্ড অঞ্চলসহ ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগ এবং রাজশাহী, রংপুর খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্য প্রবাহ।

সোমবার রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ থাকছে কুয়াশাচ্ছন্ন। রংপুর, দিনাজপুর, নিলফামারী, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড় এবং এর পার্শ্ববর্তী জেলায় একটু বেশি কুয়াশা থাকবে।

এ ছাড়া রংপুর বিভাগের বেশিরভাগ এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে চলে এসেছে। পাশের বিভাগ রাজশাহীর অবস্থাও একই।

রবিবার দিনাজপুর জেলায় সর্বনিম্ন ৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল কক্সবাজারের টেকনাফে ২৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে রবিবার বিকাল পর্যন্ত কুড়িগ্রামে প্রচণ্ড শীতে নবজাতকসহ ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. জাহাঙ্গির আলম জানান, রবিবার আধুনিক সদর হাসপাতালে শীতেজনিত রোগে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। রাজারহাট উপজেলায় মারা গেছেন তিনজন। মৃতদের মধ্যে গত শুক্রবার সকালে নয়ন মনি ও বৃহস্পতিবার মীম সদর হাসপাতালে মারা যায়। একই দিনে বাকি ৩ জনকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে আনা হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।