আল্লামা ফুলতলীর ইসালে সাওয়াব : বালাই হাওরে মিলনমেলা কাল

61

এহিয়া আহমদ ::
প্রখ্যাত আলেম আল্লামা আবদুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলীর ঈসালে সাওয়াব উপলক্ষে সাজ সাজ রব পড়েছে জকিগঞ্জ এলাকা। ভক্ত, মুরীদদে পদচারণায় প্রতিবছরের মতো মুখরিত হতে চলেছে ফুলতলী গ্রামের বালাই হাওর। সবধরণের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে পোঁছালেও এখন অপেক্ষা শুধু ভক্তগনের মিলনমেলার।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত ওলীয়ে কামিল শামসুল উলামা হযরত আল্লামা আবদুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর ১০তম ইন্তেকাল বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আগামীকাল সোমবার সিলেটের জকিগঞ্জের রতনগঞ্জস্থ ফুলতলী ছাহেববাড়ি সংলগ্ন বালাই হাওরে অনুষ্ঠিত হবে ঈসালে সওয়াব মাহফিল। এই ঈসালে সওয়াব উপলক্ষ্যে মাহফিলের জন্য সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে প্রায় শেষ হয়েছে।
জকিগঞ্জের মধ্যে স্বনামধন্য হাওর হলো বালাই হাওর। মাহফিলকে কেন্দ্র করে বালাই হাওরে তৈরি হয় বিশাল বড় একটি প্যান্ডেল এবং সুদৃশ্য বড় একটি মঞ্চ। মঞ্চের দুইপাশে রয়েছে দুটি বড় মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর। মাহফিলে আগত মেহমানদের জন্য প্রতিবছরের ন্যায় এবারোও খাবারের জন্য বিশাল আয়োজন করা হয়েছে। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য প্রত্যেকবারের ন্যায় একই স্থানে তৈরি করা হয়েছে নির্ধারিত মাঠ। বিশেষ সুবিধার্তে মাহফিলের প্রয়োজনিয় দিঙ্নির্দেশনা সম্বলিত লিফলেট ইতোপূর্বে সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলে বিতরণ করা হয়েছে। ছাহেববাড়ির প্রবেশ পথে টানানো হয়েছে মাহফিলের দিঙ্নির্দেশনা সম্বলিত মানচিত্র। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকবে পুলিশ বাহিনী। পাশাপাশি সার্বিক শৃঙ্খলার জন্য প্রস্তুত হয়েছে প্রায় হাজার খানেক স্বেচ্ছাসেবক।
বিশ্বস্থ একটি সূত্র জানায়, প্রতিবছরের মতো এবারোও নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে ফুলতলী ছাহেব বাড়ী। বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে, সিসি টিভি ক্যামেরার আওতাধীন থাকবে পুরো এলাকাজুড়ে। ঈসালে সাওয়াব মাহফিল আয়োজক কমিটির হাজারো স্বেচ্ছাসেবকের পাশাপাশি গ্রাম পুলিশ ও আনসার বিডিপির সদস্য মোতায়েন করা হবে।
মাহফিল সূত্র জানায়, কার, মাইক্রোবাস, বাস-মিনিবাস, পাজারো-জিপ হাজারো গাড়ির বহরের গন্তব্য এখন ফুলতলী ছাহেব বাড়ি। প্রত্যেক বছরের মতো এবারোও থাকবে গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা। মেহমানদের জন্য খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর মাযার জিয়ারতের মাধ্যমে শুরু হবে দিনের কার্যক্রম। এরপর খতমে কুরআন ও দোয়ার মাধ্যমে শুরু হবে মূল অনুষ্ঠান। বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে খতমে বুখারী, খতমে খাজেগান, দালাইলুল খায়রাত শরীফের খতম, জিকির মাহফিল, বিষয়ভিত্তিক বয়ান ও স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা। প্রতি বছরের মতো এবারও মাহফিলে সমবেত হবেন লক্ষাধিক মানুষ। মাহফিলে দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত পীর-মাশায়িখ, আলেম-উলামা, ইসলামী শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখবেন। আছরের নামাজের শেষে ও ফজরের নামাজের শেষে থাকবে শিরনীর ব্যবস্থা। ১৫ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত ঈসালে সাওয়াব পরদিন ১৬ জানুয়ারী ফজরের নামাজ শেষে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে মাহফিল।
ছাহেব বাড়ী মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা রায়হান জানান, প্রত্যেক বছরই সবার ভালোবাসা আর একান্ত সহযোগিতায় এই মাহফিল সম্পন্ন হয়। ভক্তজনদের পদচারণায় মুখরিত হয় পুরো জকিগঞ্জ। দেশের বিভিন্নপ্রান্ত থেকে ছাহেবের ভক্তগন আসতে শুরু করেছেন। শুধু দেশে নয় দেশের বাহিরের বিভিন্নপ্রান্ত থেকে ছাহেবের ঈসালে সাওয়াব মাহফিলে যোগ দিতে দেশে চলে আসেন। গত বছরের থেকে এবার জনসাধারণের উপস্থিতি আরো বেশি হবে বলে তিনি মনে করছেন। মাহফিলে আসা লোকজন কেউ কেউ গরু, ছাগল, খাসি ও মোরগ দান করেন। আবার কেউ কেউ এতিম শিশুদের জন্যও দান করেন। তাছাড়া গত বছর সমূহের চাইতে এবার মানুষের আগমন বেশি হবে। আগত সকলকে খাওয়ানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করা হবে।
জকিগঞ্জ-বিয়ানীবাজার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাক সরকার জানান, ঈসালে সাওয়াব মাহফিল বিশাল আয়োজন, লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে, তাই পুলিশের বাড়তি নজরদারি থাকবে। মাহফিল এলাকায় ৪ শতাধিক পুলিশ সদস্য নিয়োজিত করা হবে। যানজট নিরসনে পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ রাখা হয়েছে। মেটাল ডিটেক্টর, সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। যাতে কোনো ধরণের বিশৃংখলা সৃষ্টি না হয়। নাশকতা এড়াতে কড়া সতর্ক থাকবে পুলিশ। নিরাপত্তার জন্য যা যা করা প্রয়োজন তা সবই করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জকিগঞ্জ থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান হাওলাদার জানান, বিশ্ব ইজতেমার জন্য এবার পুলিশ সদস্যদের একটি ঘাটতি রয়েছে, তবে এবার ৪০০ পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য মোতায়েন করা হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোষাকেও পুলিশ মোতায়েন করা হবে। পুরো এলাকা থাকবে সিসি টিভি ক্যামেরার আওতাধীন। বাড়তি নিরাপত্তার জন্য পুলিশের পাশাপাাশি মাহফিল আয়োজক কমিটির হাজারো স্বেচ্ছাসেবক, গ্রাম পুলিশ ও আনসার বিডিপির সদস্য থাকবে।
উল্লেখ্য, সিলেটের জকিগঞ্জে শামসুল ওলামা আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত ঈসালে সওয়াব মাহফিলে শিরনি বিতরণের সময় পদদলিত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।