বিবিসির প্রতিবেদন : রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানো নিয়ে উদ্বিগ্ন ব্রিটিশ এমপিরা

26

নিউজ ডেস্ক ::

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ এমপিরা। কারণ, তারা মনে করেন—এখনো মিয়ানমার, যা বার্মা নামেও পরিচিত দেশটিতে সেনাবাহিনীর ধর্ষণ আর যৌন সহিংসতা অব্যাহত থাকায় তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়নি।

ব্রিটিশ কমন্স ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কমিটি বলছে, এটা পরিষ্কার যে, বার্মার (মিয়ানমার) সেনাবাহিনী ধর্ষণ আর যৌন সহিংসতাকে যুদ্ধের একটি অস্ত্রের মতো ব্যবহার করছে। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও তারা মনে করে।

রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। দেশটিতে সাম্প্রতিক সহিংসতা শুরু হওয়ার পর সাড়ে ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। যাকে জাতিগত নির্মূল অভিযান বলে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘ এবং যুক্তরাষ্ট্র। যদিও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দাবি, তারা শুধু রোহিঙ্গা জঙ্গিদের বিরুদ্ধেই অভিযান চালাচ্ছে, সাধারণ মানুষজনের বিরুদ্ধে নয়।

সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্য পার্লামেন্টের এই আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটি বলছে, সেখানে বিশাল মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্মার কর্মকাণ্ড লাখ লাখ মানুষের জন্য মানবিক বিপর্যয় নিয়ে এসেছে, তেমনি বিশ্বকে ত্রাণ সহায়তা হিসাবে প্রতিবছর হাজার কোটি টাকার ব্যয় তৈরি করেছে। কিন্তু এই ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। উগ্রপন্থী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার জন্য ওই এলাকা বারুদের একটি স্তূপ হয়ে আছে আছে।

কমিটি বলছে, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রথাগত নেতৃত্ব ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, কিন্তু রোহিঙ্গা ফেরতের ব্যাপারে তাদের মতামতের অভাবের বিষয়টি আমাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। বার্মায় বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা বা অন্য সংখ্যালঘুদের ফেরতের ব্যাপারে অতীত অভিজ্ঞতা আস্থাজনক নয়।

যে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর কথা বলা হয়েছে, তারা কি স্বেচ্ছায় যাবেন, কোথায় তারা যাবে, তাদের সুরক্ষার কি হবে—এসব বিষয় এখনো পরিষ্কার নয় বলে ব্রিটিশ এমপিরা মনে করেন। যা তাদের সবচেয়ে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। রোহিঙ্গারা যাতে নিজেদের জীবনযাত্রা গড়ে তুলতে পারে আর স্বনির্ভর হয়ে উঠতে পারে, সেজন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার বলে ব্রিটিশ এই কমিটি পরামর্শ দিয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ব্রিটিশ চিকিৎসক : রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় শিশুদের মধ্যে ডিপথেরিয়া ছড়িয়ে পড়ায় ব্রিটিশ চিকিৎসকদের একটি টিম এসেছে। এরমধ্যেই টিমটি এসে ক্যাম্পগুলোয় কাজ শুরু করেছেন। বাংলাদেশ সরকারের রোহিঙ্গাদের মাঝে টিকা কর্মসূচিতে দুই মিলিয়ন পাউন্ড সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য।