সিলেট আসছেন প্রধানমন্ত্রী : রেকর্ড জনসমাগমের প্রস্তুতি আ.লীগের

165

॥ থাকবে ব্যাপক নিরাপত্তা ॥ নগর সাজছে নতুন রূপে ॥ দফায় দফায় বৈঠক

নুরুল হক শিপু ::
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে এখন বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সিলেট সফর ঘিরে এ উৎসব দেখা দিয়েছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে কন্যা শেখ হাসিনা সিলেটে আসবেন। তাঁর এ আগমন ঘিরে আগামী দু’দিনের মধ্যে পুরো শহর ছেয়ে যাবে ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড আর তোরণে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের এমন প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের আগমনে সিলেটবাসীর যেসব স্বপ্ন অপূর্ণ রয়েছে, সেগুলো আলোর মুখ দেখবে।
দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর সিলেটে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিকভাবে এটি তৃতীয় সফর। যদিও প্রধানমন্ত্রী এর মধ্যে বেশ কয়েকবার সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি করে দলীয় নেতাদের দিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ২১ জানুয়ারি সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় ভাষণ দেন। এর ঠিক ১১ মাস পর একই বছরের নভেম্বর মাসে তিনি একই স্থানে ভাষণ দেন। তবে আগের দুইবারের সফরের চেয়ে এবারের সফর ঘিরে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে প্রতিদিনই জনসভা সফলের লক্ষ্যে চলছে সভা-সমাবেশ।
প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফর উপলক্ষ্যে সবধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আর আওয়ামী লীগ নেতারা ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রচার-প্রচারণায়। প্রধানমন্ত্রীর আলিয়া মাদরাসা মাঠের জনসভায় ব্যাপক জনসমাগম ঘটাতে প্রচারণা চালাচ্ছেন তাঁরা। এই জনসভায় দুই লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটানো হবে বলে জানিয়েছেন সিলেটের আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। সে লক্ষ্যে গ্রাম, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কর্মীসভা করছেন প্রতিদিন। দলীয় সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় অব্যাহত প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দলীয় এবং প্রশাসনের সাথে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। তিনি বলেন, নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। নগরীতে ব্যাসার-পোস্টার-ফেস্টুন লাগানো চলছে। আওয়ামী লীগের জেলা ও মহানগরসহ বিভিন্ন ইউনিটের পক্ষ থেকে তোরণ পোস্টার ফেস্টুন লাগানো চলছে।
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, মাদ্রাসা মাঠে স্টেইজ, প্যান্ডেল, বিভিন্ন মোড়ে তোরণ, বিলবোর্ড নেতাকর্মীরা নিজ নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন। জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে তোরণ পোস্টার ও ফেস্টুন বানানো হচ্ছে। সর্বনিš§ ২ লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আমরা আশাবাদী। এই জনসভা জনসমুদ্রে রূপান্তরিত হবে। প্রত্যেক উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক হয়েছে। সবাই নেত্রীকে এক নজর দেখবেন বলে জনসভায় উপস্থিত হবেন। এর মূল কারণ দেশরতœ শেখ হাসিনার হাত ধরে সিলেটে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে এবং হচ্ছে।’
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, দ্বিতীয় পর্যায়ে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর তৃতীয় সিলেট সফরে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি লোক সমাগম হবে। আমরা এ লক্ষ্যে মহানগরের সকল ওয়ার্ডে প্রস্ততিসভা সম্পন্ন করেছি।
মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তোরণ, পোস্টার, ব্যানার ফেস্টুন তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে এগুলো নগরীতে লাগানো হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সিলেটে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে।’
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিলবোর্ড নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় লাগানো হবে। তবে জেলা প্রশাসন বিলবোর্ডের ব্যাপারে আমাদেরকে জানাবে। আমরা তাঁদের নির্দেশনা অনুসরণ করব। এছাড়া সিসিকের পক্ষ থেকে আলিয় মাদ্রাসার মাঠ প্রস্তুত করা, মাঠের চারপাশে রঙ করা, চৌহাট্টা থেকে রিকাবিবাজারে ডিভাইডারগুলোতে নতুনভাবে রং ও আলোকিতকরণ, নজরুল চত্বর আলোকিত ও রংকরণ, নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিষ্কার, রিকাবীবাজার, চৌহাট্টা ও শাহজালাল মাজার সড়কের ছোট ছোট খানাখন্দর ভরাট করা হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বোরহান উদ্দিন মাজারে যাওয়ার কথা ওই সড়কের যেসব স্থান ভাঙা তাও ভরাট করা হবে।’
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর এ আগমন উপলক্ষ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক নিরাপত্তার প্রস্তুতি নিয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশ। বিষয়টি নগর পুলিশের কমিশনার গোলাম কিবরিয়া নিশ্চিত করে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে পুরো নগরী নিরাপত্তার চাঁদরে ঢাকা থাকবে। আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে সবধরণের প্রস্তুতি নিয়েছি। তিনি বলেন, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে পুরো নগরী এবং জনসভাস্থলে ব্যাপক নিরাপত্তা দেওয়া হবে।’