বিভাগীয় তদন্তের অন্তরালে কিছু কথা ও কিছু ভাবনা

67

এ.কে.এম শামছুল হক রেনু ::

যুগ যুগ ধরে কিছু ঘটনা সংগঠিত হলে প্রায় ক্ষেত্রেই বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়ে থাকে। কিন্তু আগেভাগেই হয়তো ভেবে দেখা হয়নি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি কতটুকু গ্রহণযোগ্য বা অগ্রহণযোগ্য। তারপরও এ সমস্ত তদন্ত কমিটি বা তদন্ত কমিশন মাসের পর মাস তদন্ত করে অনেক সময় কর্তৃপক্ষের নিকট তেমন গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য তদন্ত রিপোর্ট পেশ না করে এক সময় তা ঝুলে থাকে বা ঐধহমরহম হয়ে থাকে। যাকে অনেকেই বলে থাকে সময়ের কালক্ষেপন। ফলশ্রুতিতে অনেক সময় তদন্ত রিপোর্ট আলোর মুখ দেখতে পায়নি।

এসব কিছু তদন্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা ও আলোকপাত করলে লক্ষ্য করা যায়, সংশ্লিষ্ট বিভাগ তদন্তকালে ওই বিভাগেরই কোন দুর্জন যখন হাতে কলমে ধরা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তখন অনেক সময় সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তদন্তে দায়ীদোষী হওয়ায় তদন্ত কাজ সামনে এগিয়ে না নিয়ে মধ্যপথেই তা স্থবির হয়ে পড়ে এবং এরই প্রেক্ষাপটে অনেক সময় বিভাগীয় দায়ী দোষীদের সেই দোষ থেকে রেহাই দানের লক্ষ্যে তদন্ত কার্যক্রম যাত্রা বিরতি করে থাকে। এই প্রবনতা ব্রিটিশ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের আমলে অহরহ ঘটে যাচ্ছে বিধায় অনেকেই বিভাগীয় কোন কর্তৃপক্ষের কোন ধরণের তদন্ত কমিটির প্রতি আস্থাহীনতার কারণেই কোন লোমহর্ষক ঘটনা, অপরাধ ও দুর্নীতি সংঘটিত হওয়ার পর বিভাগীয় তদন্ত কমিটির বাইরে অনেক সময় জোরালোভাবে নিরপেক্ষ বা বিচার বিভাগীয় তদন্ত কার্যক্রম প্রত্যাশা করে থাকে।

জানা মতে কিশোরগঞ্জ জেলাধীন পাকুন্দিয়া থানার শিমুলিয়ায় ১৯৯০ সালে মেজর (অবঃ) পীর মতিউর রহমান বা মুক্তিযুদ্ধের ছদ্মনাম ক্যাপ্টেন হামিদের শিষ্য ভক্ত ও পুলিশের মধ্যে গন্ডগোল হলে তাতে পীরের শিষ্য ভক্তসহ ২৯ জন সাধারণ নারী পুরুষ ও তদানীন্তন কিশোরগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল খালেকের গাড়ীচালক আব্দুর রাজ্জাক নিহত হয়। সেই সময় ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি ছিলেন মেজর (অবঃ) আবদুল খালেক ও কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ছিলেন নূরুল আনোয়ার। তখন এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও, পরবর্তী সময় এই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আজো জানা যায়নি। যা নিয়ে রয়েছে জনমনে অনেক অমীমাংসিত প্রশ্ন, আলোচনা ও সমালোচনা। তাই যে কোন স্পর্শকাতর ঘটনা, অপকর্ম ও দুর্নীতির তদন্তের ব্যাপারে বিভাগীয় তদন্ত ব্যতিরেখে বিচার বিভাগীয় তদন্ত বা নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম প্রত্যাশা করা হয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে আরেকটি মর্মস্পশী ঘটনার উদাহরণ টেনে আনা হলো। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পূর্বে ভারতের আসামে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা হলে তদানীন্তন ব্রিটিশ শাসনাধীন ইংরেজ শাসকের নির্দেশে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গাকারীদের উপর বেপরোয়া গুলি চালানোর পর শত শত নারী পুরুষ যেমনিভাবে নিহত হয়, তেমনিভাবে অগনিত নারী পুরুষ, যুবক, যুবতী আহত হয়। পরবর্তী সময় ব্রিটিশ রাজ এ ব্যাপারে ইংরেজ শাসক রবার্ট বাটের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়। কিন্তু এত বড় মর্মান্তিক ঘটনায় অগনিত নারী পুরুষ ইংরেজ পুলিশ ও সৈন্যদের গুলিতে নিহত, আহত হলেও সব কিছুকে পেছনে ফেলে তদন্ত কমিটির কর্ণধার রবার্ট বাট এই মর্মে মন্তব্য করেন যে, এ ঘটনার সাথে কেহই জড়িত নহে। বরং ইংরেজদের গুলিতে যারা নিহত ও আহত হয়েছে বরং তাদেরকেই দোষারোপ করা হয়।

১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সময় পরাজিত হয়ে ৯৩ হাজার পাকহানাদার বাহিনী ও ১৯৫ জন পাক হানাদার বাহিনীর খুনী, ঘৃনিত ও জননিন্দিত অপরাধী কর্মকর্তা সিমলা চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তানে ফেরৎ যাওয়ার পর তদানীন্তন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভূট্টো হামীদুর রহমান তদন্ত কমিটির মাধ্যমে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলে পাকিস্তান ফেরৎ নররাক্ষস, জল্লাদ, হায়েনা ও যুদ্ধাপরাধীর ব্যাপারে ৭৮০ পৃষ্ঠার একটি তদন্ত রিপোর্ট পেশ করা হয়। তাতে জেনারেল নিয়াজি, জেনারেল মিঠঠা খান, জেনারেল রাও ফরমান আলী, জেনারেল টিক্কা খান ও ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীসহ আরো অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেও তাদের বিরুদ্ধে বিচার করাতো দূরের কথা, হামীদুর রহমানের রিপোর্টটিও নাটের গুরু জুলফিকার আলী ভূট্টো থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত কোন সরকারই তা পড়েও দেখেনি। যদিও গোটা বিশ্বসহ বাংলাদেশ সরকার ও এদেশের জনগণকে লোক দেখানো ঢং করার জন্যই এ তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। এসব কিছু তদন্তের নামে ইতিহাসে কলংকের নির্লজ্জ কালিমা ও ইতিহাসের বোঝা হয়ে রয়েছে।

তদন্ত ও তদন্ত কমিটি প্রসঙ্গে একটি গল্পের উদ্ধৃতি না টানলেই নয়। এক সময় কোন এক রাজার জমিদারদের মধ্যে একজন ছিল খুব ধূর্ত, দুর্নীতিবাজ, সকল অপকর্মের হোতা, অপরিনামদর্শী এবং চানক্য বুদ্ধি সম্পন্ন এবং আরেকজন ছিল খুবই সহজ, সরল, ন্যায়নিষ্ঠাবান ও আদর্শবান। যেমনি ছিল প্রজাদের মধ্যমনি তেমনি ছিল রাজার গুণগ্রাহী। উক্ত জমিদার কখনও রাজাকে জমিদারির আয়-বুঝাতে কালক্ষেপন করত না। তদোপরি রাজার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিঘœ ঘটুক তাও কখনও চাইত না। এ কারণে রাজ্যের অন্যান্য জমিদাররা তার প্রতি যেমন ক্ষুদ্ধ ছিল তেমনি এশ্রেণীটা সব সময় রাজার দুকান ভারী করে রাখতো। একদিন রাজা তার উজির নাজির দিয়ে একটি কমিটি করে এর হাল হকিকত জানতে চাইল। দেখা গেলে রাজ্যের যে জমিদার ছিল ন্যায় পরায়ন, রাজার গুণগ্রাহী, কল্যাণকামী, আদর্শিক তার বিরুদ্ধে অযথা অনেক অপবাদ সাজিয়ে রাজার সামনে তুলে ধরা হলো। আর যে জমিদার ছিল নরপিশাচ, ধূর্ত, দুর্নীতিবাজ ও সকল অপকর্মের নাটের গুরু তাকে ন্যায় পরায়ন ও আদর্শবান জমিদার হিসেবে উল্লেখ করা হলো। এতে রাজা ক্ষিপ্ত হয়ে ন্যায় নিষ্ঠাবান ও আদর্শিক জমিদারকে জমিদারি হতে সরিয়ে দিয়ে শূলে ছড়ানোর নির্দেশ দিল এবং অপকর্মের হোতা, গড ফাদার ও নাটের গুরু জমিদারকে পদোন্নতি দিয়ে আরো দুটি পরগনার জমিদারির দায়িত্ব ভার অর্পন করা হলো।

রাজার এ ঘটনা দেখে ন্যায় নিষ্ঠাবান জমিদার রাজার দরবারে কুর্নিশ করে বললো হুজুর জাঁহাপনা আমি দেখছি আপনার আশেপাশে সব দুর্নীতিবাজ ও তোযাজকারীদের ভীড়। তাদের কথা শুনে আমাকে শুলে না দিয়ে আপনি নিজে তদন্ত করে দেখলে আসল রহস্য জানতে পারবেন এবং গোমর ফাঁক হয়ে যাবে। এ কথা শুনে রাজা তদন্ত করলে এবং প্রজাদের সায় সাক্ষী গ্রহন করলে সবকিছু ফাঁস হয়ে যায়। রাজা তার ভুল বুঝতে পেরে অপকর্মের হোতা জমিদারকে জমিদারি হতে বাদ দিয়ে তৎস্থলে পরিক্ষীত জমিদারকে পদোন্নতি দিয়ে ৩টি পরগনার জমিদারির দায়িত্ব অর্পন করলো। এই টানাপোড়নে ভুল বুঝাবুঝির অবসান ও দুর্বীনিত জমিদারের শাস্তি হলেও, ঘটনার নাটের গুরু উজির নাজিরের কিছুই হল না। একটু ভেবে দেখলে বুঝা যায় নাটের গুরুরা সকল যুগ ও সকল সময়েই ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়।

এমনিভাবে ক্লিন ইমেজের লোকগুলো যেমনি ধরাশায়ী হচ্ছে, তেমনিভাবে পর্দার আড়ালে থেকে দুর্বীনিতদের আশ্রয় প্রশ্রয় দাতা ও তদন্তের অন্তরালে থাকা অস্পৃশ্য, অদৃশ্য ও ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকা নাটের গুরুদের কারিশমায় রাঘব বোয়ালরা পার পেয়ে যাচ্ছে। রাজা ভোক্তভোগী জমিদারকে শান্তনা দিয়ে জমিদার হরেকৃষ্ণ বললেন, পাপের শাস্তি কাহাকেও ক্ষমা করে না। ঝরহহবৎ পধহ হবাবৎ মড় ঁহঢ়ঁহরংযবফ. ইতিহাসের পাতায় যেমনি মীরজাফরের পরিণতি ধূর্ত, নরপিশাচ, বিশ্বাসঘাতক ও বেঈমান হিসেবে স্থান হয়ে রয়েছে, তেমনি সময় কাল ও সুযোগে নাটের গুরু, কুশীলব ও দুর্জনরা সাময়িক পার পেয়ে গেলেও সময়, কাল ও সুযোগে ওদের ভয়াবহ পরিণতিই যে অপেক্ষা করছেনা তাও না বলা যাবে না।

গণমাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে কিশোরগঞ্জের জেলা ভূমি অধিগ্রহন কর্মকর্তা সেতাফুলের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্তকালে প্রায় ৮ কোটি টাকার আত্মসাৎ, ব্যাংক থেকে অনিয়মভাবে ভূমি অধিগ্রহণের প্রাপকদের মধ্যে বিতরণের জন্য ৫ কোটি টাকা উত্তোলন ও পরবর্তী সময় ব্যাংক থেকে আরো ১০ কোটি টাকা তুলতে গেলে নাকি জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তা জব্দ করা হয়। এ ব্যাপারে নাকি বিভাগীয় তদন্ত হচ্ছে। অনেকেরই ধারণা এ তদন্ত যদি রাজার জমিদার ও উজির নাজিরের গল্পের মতো হয় তবে তা খুবই দুঃখজনক। আর যদি তদন্তে রাজার নাটের গুরু দুর্নীতি অপকর্মের হোতার মতো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়, তবে তাতে যেমনি দুর্নীতি ও অপকর্মের হোতরা রেহাই পাবে না, তেমনি এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে হয়তোবা অন্যরাও আর সমানে এগুনোর সাহস না পাওয়ারই কথা। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের মন্তব্য থেকে এ বিষয়টিকে জটিল, কঠিন, স্যানসেটিভ ও সিন্ডিকেটের সম্পৃক্ততা বলেও অনেকেই মনে করে আসছে। তবে আন্দাজ ও অনুমানের উপর এ ব্যাপারে কোন মন্তন্য না করে বলা যায় দেখা যাক এ বিষয়টির কোথায় গিয়ে পরিসমাপ্তি ঘটে ইহাই দেখার বিষয়। তবে লক্ষ্য করলে দেখা যায় এ ব্যাপারে উক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা নাগালের বাইরে থাকলেও নিু পর্যায়ের সামান্য বেতনের কোন কর্মকর্তা এ ধরণের বা এ চেয়ে লঘু অপরাধ করেও প্রাথমিক পর্যায়ে বরখাস্ত, জেলে আটকের মতো অজস্র উদাহরণ রয়েছে। তবে কিছু গণমাধ্যমে দেখা যায় সেতাফুল অস্পষ্টভাবে কি যেন বলতে চাচ্ছেন। তাকে সুষ্ঠুভাবে কিছু বলার সুযোগ দিলে হয়তোবা অনেক কিছু জানার সম্ভাবনাকে খাটো করে না দেখারই অনেকেরই মন্তব্য।

সম্প্রতি একটি নিবন্ধে ব্রিটিশ প্রবাসী একজন বড়মাপের লেখক, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট তাঁর নিবন্ধে আমলাতন্ত্রিক জটিলতা (structural interlocking) শাসন, প্রশাসন, সরকার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষনে অভিমত রেখে বলেছেন, জনপ্রতিনিধিদের একটি বড় অংশ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। সবাই ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়। কিন্তু প্রকৃত ক্ষমতা ভোগ করতে পারেনি কেউ। কারণ ক্ষমতার নাটাই থাকে আমলাদের হাতে। এজন্যই একজন ব্রিটিশ সাংবাদিক বাংলাদেশ সম্পর্কে লেখেছেন, In Bangladesh decocracy politicians are in office, not in power অর্থাৎ বাংলাদেশের গণতন্ত্রে রাজনীতিকরা দফতরে বসেন, কিন্তু ক্ষমতা তাদের হাতে নেই। তাছাড়া নিবন্ধটিতে দুর্নীতি ও দুর্বীনিতদের সম্পর্কেও জানার অনেক সুস্পষ্ট বাক্য বিন্যাস রয়েছে। স্বাধীনতার ৪৭ বছর ধরেই প্রতিনিয়ত গণমাধ্যম, অনলাইন, ফেইসবুক ও মিডিয়াতে আসছে বেলাল্লাপনা, অনৈতিকতার কারিশমা, দুর্নীতি, আত্মসাৎ, অনিয়ম ও চেইন অব কমান্ড ভাঙ্গার দৃশ্যপট। এমনিভাবে অহরহ সংগঠিত হচ্ছে একটার পর একটা বেরসিক ঘটনা, নিষ্টুরতা, দানবীয়তা, অপকর্ম, বেপরোয়া দুর্নীতি ও অনাচার। কোন সভ্য স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশে এসব কিছু কল্পনাও ধারণার বাইরেও বলা চলে। বাংলাদেশে ৪৭ বছরে যারাই ক্ষমতায় আসুক, যাক বা থাকুক দেশের মানুষের যেমন ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি তেমনি মুখে বললেও কারো আমলেই গতানুগতিক শাসন, প্রশাসন, আইন, বিচার, রাজনীতিসহ কোন কিছুতেই তেমন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। সব কিছুতেই তোয়াজ, স্বজনপ্রীতি, দলীয় প্রীতি, অনিয়ম দুর্নীতিতে যেন আচ্ছাদিত। তার পেছনে রয়েছে আমরা যা বলি তা করি না এবং যা করি তা করিনার মাঝে হেরফের ও লুকোচুরি। তদোপরি অনেক অযোগ্য ও দুর্নীতিরাও তদবীর, সুপারিশ, তোয়াজ ও চাটুকারিতা করে এমন জায়গায় আসন গেড়ে বসে এবং কলকাটি নারায় তা যেন অনেকেরই ভাবতে গিয়েও অবাক ও বিষ্ময় হতে হয়। অনেকেরই ন্যায়নিষ্ঠা, সততা, যোগ্যতা থাকা স্বত্বেও একই ব্যাচের সহকর্মী ও জুনিয়রদেরকে স্যালুট দিতে হচ্ছে, তেমনি ওদের অসহনশীল কর্মকান্ড, অপকর্ম ও দুর্নীতিকে নীরবে দুফোটা অশ্রু ফেলে নির্বাকের মতো সহ্যও করতে হচ্ছে।

যুগে যুগে তোয়াজ, পায়রুবি, চাটুকারিতা, কেমোফ্ল্যাক্স, হিপক্রেসি, তোষামোদ ও প্রভুদের আশীর্বাদে এ শ্রেণীটা যেমনি পদোন্নতি ভাগিয়ে নিচ্ছে তেমনি ক্লিন ইমেজের লোকদিগকে পেছনে ফেলে তাদের উচ্ছাকাংখাকে তিরোহিত ও পদলিত করতে আদৌ দ্বিধা সংকোচ বোধ করছে না। যদিও তাদের সার্ভিস বুক, যোগ্যতা ও পারফরম্যান্স বিচার বিশ্লেষনে উপরের সিঁড়িকে রহিত করার চিন্তাই করা যায় না।

বিভাগীয় তদন্তের অন্তরালে যে সমস্ত জটিল ও বড় বিষয়কে দেখা হচ্ছে, তা যদি সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যতিরেখে অন্য বিভাগের মাধ্যমে তদন্ত করা হয় তাতে যেমনি জনপ্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে তেমনি স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাকে একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। নারায়নগঞ্জের সেভেন কিলিং উদঘাটন এর বড় প্রমান। কারণ সেখানে বিভাগীয় তদন্ত করা হয়নি। যে কোন বিভাগীয় তদন্তের বাইরে অন্য বিভাগ বা বিচার বিভাগের মাধ্যমে তদন্ত যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়ে থাকার কথা। তা না হলে শুটকির নাও বিলাই চৌকিদারে মতো হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু মনে করা অমূলক নাও হতে পারে। বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করার পূর্বে যথেষ্ট ভেবে দেখার প্রয়োজনীয়তা আছে বলে বিজ্ঞজন ও বিশ্লেষকরা মনে করে থাকে।

এ নিবন্ধের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, উপমা, উদাহরণ, জনঅভিমত ও জনপ্রত্যাশার আলোকে কোন তদন্ত অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বহির্ভূত যে কোন বিভাগের মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রমই হোক প্রত্যাশিত নিরপেক্ষ তদন্তের অভিষেক।

(এ.কে.এম শামছুল হক রেনু)
লেখক কলামিষ্ট