স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল

132

স্বল্পোন্নত দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেতে যাচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মান-মর্যাদা অনেকটাই বাড়বে। কিন্তু এর ফলে কিছু চ্যালেঞ্জও আসবে এবং সেগুলো সফলভাবে মোকাবেলা করতে হবে। স্বল্পোন্নত দেশ হওয়ায় বাংলাদেশ বর্তমানে যতটা সহজ শর্তে আন্তর্জাতিক ঋণ পায়, উন্নয়নশীল দেশ হলে ঋণের শর্ত ততটা সহজ থাকবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডার বাজারে যে জিএসপি সুবিধা রয়েছে, ভবিষ্যতে তা না-ও থাকতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় বাংলাদেশ উন্নত বিশ্ব থেকে যে অনুদান পায়, তা বন্ধ হয়ে যাবে। এমনই আরো কিছু সুযোগ-সুবিধা হারাতে হতে পারে। অবশ্য তা অনেকটাই নির্ভর করে বাংলাদেশের সফল কূটনীতির ওপর। বাংলাদেশ যদি উন্নত বিশ্বকে বোঝাতে সক্ষম হয় যে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ধরে রাখার জন্য এসব সুবিধা আরো কিছু সময় অব্যাহত থাকা প্রয়োজন, তাহলে হয়তো তা বিবেচনা করাও হতে পারে। পাশাপাশি জিএসপি প্লাস সুবিধা আদায়, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ সম্পাদন ইত্যাদি বিকল্প উপায়ে লাভবান হওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
বাংলাদেশ এরইমধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। অবকাঠামো খাতে রীতিমতো বিপ্লব সূচিত হয়েছে। পদ্মা সেতু, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো বড় বড় বিনিয়োগ হচ্ছে। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে। জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ওপরে থাকছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। রপ্তানি আয়ও বাড়ছে। কাজেই বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উঠে আসবেÑএটাই স্বাভাবিক। ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’খ্যাত বাংলাদেশের জন্য এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন মর্যাদার আসন তৈরি হচ্ছে। এটি জাঁতি হিসেবে আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও অহংকারের বিষয়। সেই সম্মান ধরে রাখার জন্য আমাদের যা যা করণীয়, তা-ই করতে হবে। সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের (বিডিএফ) দুই দিনব্যাপী বৈঠকে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা তেমনি কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। সেভাবে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। বিশেষজ্ঞরা আমাদের কিছু দুর্বল দিকও চিহ্নিত করেছেন। এসব দুর্বলতা থেকে আমাদের মুক্ত হতে হবে। গণতন্ত্রচর্চা বাড়াতে হবে, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে, রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে হবে, প্রশাসনিক দক্ষতা আরো বাড়াতে হবে এবং সরকারের সব কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাপ্রাপ্তিসহ জনগণের মৌলিক অধিকারগুলো রক্ষায় আরো মনোযোগ দিতে হবে। জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। জনসংখ্যার কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে হবে। বর্তমান সরকারের সময়ই দেশের উন্নয়ন সবচেয়ে বেশি গতি পেয়েছে। আমরা আশা করি, উন্নয়নের এই গতি অব্যাহত রাখতে সরকার আরো বেশি আন্তরিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাবে।