কর্মকৌশল চূড়ান্ত : ২ দল মাঠে নামার অপেক্ষায়

29

প্রতীক ইজাজ ও বদরুল আলম মজুমদার ::
ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। রাজনীতিতে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। নির্বাচনী প্রচারণায় শিগগির মাঠে নামছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা এ মাস থেকেই শুরু করছেন নির্বাচনী প্রচারণা। অন্যদিকে, প্রকাশ্য প্রচারণায় না নামলেও ভেতরে ভেতরে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। খুব শিগগির নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করবে দল। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে বিশেষ নির্বাচনী কৌশল আঁটছে দলটি। উভয় দলেই চলছে ঘর গোছানো ও প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ। এমনকি নির্বাচনী রাজনীতিতে শেষ পর্যন্ত কি হতে পারে—এমন ভবিষ্যৎ ভাবনাও ভেবে রেখেছে দল দুটি।

নির্বাচনী প্রচারণায় নামছে আওয়ামী লীগ

নির্বাচনী নানা সংকট মাথায় রেখেই সামনে এগোচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। বিজয় নিশ্চিত করে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে চায় দলটি। সে লক্ষ্যে বিশেষ কৌশল নিয়েই নামছে নির্বাচনী মাঠে। একদিকে যেমন দল গোছানো ও প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলছে; তেমনি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা নিজে নামছেন নির্বাচনী মাঠে। পাশাপাশি নির্বাচনকালীন সরকারসহ নির্বাচনী সংকট সমাধান ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে বিশেষ রাজনৈতিক কৌশলের কথাও ভাবছেন ক্ষমতাসীনরা।

দলের নীতিনির্ধারণী মহলের মতে, এখনো নির্বাচনী মাঠ আওয়ামী লীগের অনুকূলে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ সন্তুষ্ট। দলের মধ্যেও বড় ধরনের কোনো অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নেই। আন্তর্জাতিক মহলেও সরকারের, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রার্থী বাছাইয়েও নেওয়া হয়েছে সতর্ক পদক্ষেপ। নির্বাচনকালীন সরকারসহ নির্বাচনী নানা সংকট সমাধানের এক ধরনের পথও ভেবে রেখেছে দল। বিএনপি রূপরেখা দিলেই পরবর্তি কৌশল র্নিধারণ করা হবে।

অতীতে সাধারণত তফসিল ঘোষণার পর দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা নির্বাচনী প্রচার শুরু করতেন। এবার শুরু করছেন অনেক আগেই। সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে ১২ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণেও প্রধানমন্ত্রী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কখন হবে ও কীভাবে হবে, সেই বার্তা দিয়েছেন। সংবিধান মেনে তার নেতৃত্বাধীন নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে—তার এমন ঘোষণায় দেশে নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক উত্তাপও ছড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। তার ও দলের অন্য নেতাদের সফরের মধ্য দিয়ে এ উত্তাপ আরো বাড়বে।

ইতোমধ্যেই শেখ হাসিনা নির্বাচনী প্রচারণার দলের কৌশল নির্ধারণ করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলের কয়েক শীর্ষ নেতা। তারা জানান, দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- তুলে ধরতে বলেছেন। আগে কী ছিল আর এখন কী হয়েছে তা মানুষকে জানাতে বলেছেন। বিএনপি-জামাতের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড তুলে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে হরতাল-অবরোধে জ্বালাও-পোড়াও এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পরিবারের দুর্নীতির প্রচারে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। এছাড়া দলের প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগকে সরকারের উন্নয়ন ও বিএনপির নেতিবাচক দিক তুলে ধরে প্রচুর সংখ্যক পুস্তিকা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক বলেন, দলকে জয়ী করতে হলে প্রচারের বিকল্প নেই। সরকার অনেক উন্নয়ন করেছে, সেটা মানুষকে জানাতে পারলে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হবে। প্রধানমন্ত্রী ও দলের কমিটিগুলোর সফর সম্পন্ন হলে দলও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হবে।

সূত্র জানায়, গত ৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সাংগঠনিক সফরে করণীয় নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি সফর নিয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। প্রয়োজনে একই এলাকায় দফায় দফায় সাংগঠনিক সফর করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। মূলত প্রধানমন্ত্রী দলের দ্বন্দ্ব ও সমস্যা সমাধান করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। বর্তমান সংসদ সদস্যদের এলাকায় জনপ্রিয়তা যাচাই করার পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা, দলের মধ্যে অবস্থান ও তাদের কর্মকা- পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া যারা নিজেদের স্বার্থে অপপ্রচার চালাতে গিয়ে দলের ক্ষতি করছেন; তাদের তালিকা করা ও সাবধান করে দেওয়া; কোনো ব্যক্তি নয়, শুধু নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেওয়া; এরই সঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান নিয়েও খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার এসব দিকনির্দেশনা কার্যকর করবেন সাংগঠনিক সফরে যাওয়া কেন্দ্রীয় নেতারা। এর মধ্য দিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের প্রকৃত সাংগঠনিক চিত্র উঠে আসবে বলেও মনে করেন দলের হাইকমান্ড। সাংগঠনিক এ সফর শেষ হওয়ার পর প্রতিটি টিমের প্রধানরা তৃণমূল পর্যায়ে দলের সর্বশেষ অবস্থান তুলে ধরে লিখিত প্রতিবেদন দেবেন।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, আগামী নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্য সামনে রেখে দলকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এজন্য আগে আমরা বিভিন্ন এলাকায় দলের মধ্যে যে বিভাজন রয়েছে; নেতাদের মধ্যে রেষারেষি আছে; এমপি-মন্ত্রীদের সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের দূরত্ব রয়েছে—এগুলো ঠিক করা। এ কাজে আমরা জেলা-উপজেলা এবং এর চেয়েও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের মতামত নেব। তাদের কথা শুনব। এর ভিত্তিতে সমাধানের মাধ্যমে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করব। ৩০০ আসনেই কাজ হবে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, যেসব জায়গায় দলীয় প্রার্থী জয়ের সম্ভাবনা বেশি; আওয়ামী লীগের অবস্থান ভালো; সেসব জায়গায় বেশি নজর দেওয়া হবে।

দলীয় সূত্রমতে, দলীয় প্রার্থী বাছাইয়েও খুবই সতর্ক দল। মনোনয়ন নিয়ে কোথাও কোনো ধরনের অসংগতি বা দ্বন্দ্ব থাকলে সেগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। ব্যক্তির সাংগঠনিক অবস্থান, দলে ত্যাগ ও অবদান, জরিপ রিপোর্ট এবং সর্বোপরি যার জিতে আসার ক্ষমতা আছে—সেসব অবস্থা বিবেচনা করে মনোনয়ন বোর্ড মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মনোনয়নের ব্যাপারে জোটের শরিক দলগুলোর বিষয়টিও হিসেবে রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, বিভিন্ন জরিপের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে বেশকিছু আসনে প্রার্থী বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। প্রথমে আমরা ১৬০টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করব। দুই ধাপে এটি হবে। প্রথম ধাপে ১০০, পরের ধাপে ৬০ প্রার্থী। এর পর যেসব দলের সঙ্গে আমাদের নির্বাচনী জোট রয়েছে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বাকি আসনগুলোয় প্রার্থী ঠিক করা হবে। চূড়ান্ত প্রার্থীদের অনেককেই চুপচাপ জানানো হচ্ছে, এলাকায় গিয়ে কাজ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির সহায়ক সরকারের ফর্মুলা আগামী মাসে

আগামী নির্বাচনের পথে আনুষ্ঠানিকভাবে না নামলেও ভেতর ভেতর ঠিকভাবেই চলছে বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতি। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও মূল ‘ফোকাস’ আগামী নির্বাচনী রাজনীতির কর্মকৌশল থেকে সরেনি বিএনপি। সেই লক্ষ্যে খালেদা জিয়া সামনের মাসের শেষ দিকে সহায়ক সরকার ফমুর্লা উপস্থান করতে পারেন জাতির সামনে। বিএনপির একাধিক সূত্র এমনই বলছে।

দলীয় প্রধানের মামলা ছাড়াও বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতারা প্রায় ৭৮ হাজার ফৌজদারি মামলার আসামি। গত সোমবার জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের এক অনুষ্ঠানে এমন দাবি করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় ৭৮ হাজার মামলা করা হয়েছে বিরোধী দলের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। আর এসব মামলায় প্রায় সাড়ে ৭ লাখ আসামি করা হয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমাদের বক্তব্য খুব পরিষ্কার—এসব মিথ্যা মামলা দিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদেরকে কারাগারে রেখে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে কোনো নির্বাচন এখানে হবে না।’

সূত্র জানায়, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে সমঝোতা অথবা রাজপথের আন্দোলন এমন কৌশল মাথায় রাখছে বিএনপি। দলটির শীর্ষ নেতারা বলছেন, সরকার অনড় হলেও সমঝোতার পথ এখনো ফুরিয়ে যায়নি। বিএনপি সুনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে সমঝোতা কিংবা আলোচনার টেবিলে ক্ষমতাসীন দলকে বসার আহ্বান জানিয়ে যাবে। সরকার সে আহ্বানে সাড়া না দিলে আন্দোলনের পথই বেছে নেওয়া হবে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর অথবা ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে একাদশ সংসদ নির্বাচন। বিএনপি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বয়কট করায় আগামী নির্বাচন নিয়ে নানা শঙ্কা ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে।

অন্য দিকে সরকারের তরফ থেকে বিএনপির আলোচনায় বসার আহ্বান নাকচ করে দেওয়া হচ্ছে বার বার। সরকারের চতুর্থ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেই বলেছেন, নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। অর্থাৎ বর্তমান সরকারই হবে নির্বাচনকালীন সরকার। আর ওই সরকারের প্রধান থাকবেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর বিএনপি আগামী দিনে কী করবে, তা নিয়ে নানামুখী আলোচনা হচ্ছে। বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী নির্বাচন নিয়ে দলটি বেশ সতর্ক। নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে অতি উৎসাহী নয় দলের নেতারাও। কোনোরকম দাবি আদায় না করে নির্বাচনে যাওয়া মানে আত্মহত্যা করা। দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে সকলের এমন ভাবনা থাকলেও ভেতর ভেতর চলছে নির্বাচনী প্রস্ততিও। তবে, সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি পর্যবেক্ষণ করেই কৌশল নির্ধারণ করবে দল। বিএনপি আগামী নির্বাচনের আগে নির্বাকালীন সরকার নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরতে চায়। সেই প্রস্তাবনা তৈরির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে। এখন যে কোনো সময় সেই রূপরেখা ঘোষণা করবে বিএনপি। আর নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে কোনো সমঝোতা না হলে নির্বাচনের ছয় মাস আগে ‘অল আউট’ আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়া হতে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধরীও এমন কথাই বলছেন। তিনি বলেন, বিএনপি যে রূপরেখা দিবে তাতে আলোচনার একটি ক্ষেত্র তৈরির চেষ্টা করা হবে। এতে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন থাকবে। এটিকে ভিত্তি ধরে জাতীয় ঐকমত্যের মাধ্যমে একটি নির্বাচনী ব্যবস্থায় পৌঁছানোও যাবে।

সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এখন চলমান রয়েছে ৩৭টি মামলা। এর মধ্যে চারটি মামলা করা হয় বিগত সেনা-সমর্থিত ১/১১র সরকারের সময়ে। বাকি ৩৩টি মামলা করা হয় বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। হত্যা, সহিংসতা, রাষ্ট্রদ্রোহ, দুর্নীতি, আদালত অবমাননাসহ নানা অভিযোগে এসব মামলা করা হয়। ১৭টি মামলায় ইতোমধ্যে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার গতি অতি দ্রুত।

দলটির নেতারা বলছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়া বেকসুর খালাস পাবেন, এমনই আশা তাদের। তবে সরকার যদি এ মামলাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে বিএনপি চেয়ারপারসনকে সাজা দিয়ে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করে, তাহলে দলীয় কৌশল পাল্টে যাবে নিশ্চিতভাবে।

আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন নয়। এ প্রস্তাবে সরকার রাজি না থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা সব দলকে নিয়ে সংলাপে বসতে বাধ্য হবে। কারণ এবার আর ২০১৪ সালের পরিস্থিতি এক নয়। বিষয়টি ক্ষমতাসীনরাও উপলব্ধি করছেন বলে আমরা মনে করি।

বিএনপির নির্বাচন প্রস্তুতির কার্যক্রমও থেমে নেই। সময় মতো সে প্রস্তুতির বিষয়টি সামনে তুলে আনবে দল। বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা জানান, সময় বুঝে রাজনৈতিক দলকে সিন্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। এসব সিদ্ধান্তের সব কার্যকর হয় বা হয় না। তারই রাজনৈতিক দল হিসেবে বসে থাকার সুযোগ নেই। একটি জনসম্পৃক্ত ও গতিশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির সে সক্ষমতা রয়েছে। বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী, সক্রিয় এবং কোন্দল কমাতে এক নেতা এক পদ নীতিসহ দলের গঠনতন্ত্রে ব্যাপক সংশোধনী আনা হয় কাউন্সিলে। ইতোমধ্যে সেসব নীতির বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে। পাশাপাশি পুনর্গঠন করা হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ চারটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। এসব পুনর্গঠনেও রয়েছে দলটির নির্বাচনমুখী রাজনীতি। যার ধারাবাহিকতায় সামনের কয়েক মাসে মধ্যে ঢাকা মহানগর, সারা দেশে জেলা ও মহানগরসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন পুনর্গঠন সম্পন্নের লক্ষ্যে কাজ চলছে। আগামী নির্বাচনের প্রচারণা বা আন্দোলনে নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখতেই নানা প্রতিকূলতার ভেতর দিয়ে এগিয়ে গেলেও বসে নেই বিএনপি।