নির্লজ্জের ক্রিকেট…

31

নিউজ ডেস্ক:: কথায় বলে, ‘লজ্জাই নারীর ভূষণ।’ অন্তত বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেট সে কথাই প্রমাণ করেছে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যে টেস্ট হয়ে গেল তাতে নির্লজ্জের মতো হারের পরও বাংলাদেশ জাতীয় দলের চোখে-মুখে কোনো অনুশোচনা খুঁজে পাওয়া যায়নি। সম্ভবত লজ্জা পুরুষের ভূষণ নয় বলেই তাদের এ আচরণ। তবে এমন পুরুষের হাতে ক্রিকেটের মান-মর্যাদার ভার অর্পণ করা হলে কিছুদিন পর এই জাতীয় দলকে প্রমীলা ক্রিকেটে যোগ দিতে হতে পারে। তখন লজ্জাটা ভূষণে পরিণত হতেও পারে।

যুদ্ধে অনেক সময় আক্রমণের চেয়ে ভালো রক্ষণ অনেক বেশি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। আবার কারো কারো মতে, অ্যাটাক ইজ দ্য বেস্ট ডিফেন্স। তবে দুটি মত একসঙ্গে সবসময় সবক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হতে পারে না। এখানে সময়ই হচ্ছে মূল বিষয়। সময়ই বলে দেবে তোমাকে কী করতে হবে অথবা কী করা উচিত। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল সময়কে মূল্যায়ন না করে মূল্য দিয়েছে নিজেদের অহংবোধকে। যে বোধ ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে মুহূর্তেই ধ্বংস করতে পারে। এই বোধের পাথর দিয়ে কোনো ইমারত তৈরি করা হলে তা ভেঙে পড়তে বাধ্য। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এখানে জোর করে কিছু পেতে চেয়েছে। অসম্ভবকে সম্ভব করতে চেয়েছে। কিন্তু একবারও ভেবে দেখেনি তাদের শক্তির ভাঁড়ারে কত হর্সপাওয়ার জমা রয়েছে। নিজের শক্তির পরিমাপ না করেই তলোয়ার চালাতে গিয়ে নিজেই নিজের শিরশ্ছেদ করেছে। ম্যাচে বিশেষ করে টেস্টে যার কোনো প্রয়োজনই ছিল না। সাহস থাকা কোনো অন্যায় নয়। তবে সেই সাহসের সঙ্গে মেধার সংমিশ্রণ থাকাটাও খুব জরুরি; যা মাহমুদউল্লাহসহ তার কোনো সহযোগীই দেখাতে পারেননি।

এছাড়া আরও একটি কথা থেকে যায়। বলতে হয় দেশপ্রেমের কথা। এখানেও ঘাটতির পরিমাণ কম নয়। বাংলাদেশ দলকে দেখে মনে হয়েছে বিন্দুমাত্র দেশপ্রেমের ছায়াও তাদের স্পর্শ করতে পারেনি। অথচ শ্রীলঙ্কা দলের প্রত্যেক সদস্যই ছিলেন দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ এবং উদ্ভাসিত। একটি দেশের পক্ষে যেকোনো যুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য প্রয়োজন দেশপ্রেম। ভাড়াটে সৈন্য দিয়ে যেমন কোনো যুদ্ধে জেতা সম্ভব নয়, একইভাবে ভাড়াটে মানসিকতাও কোনো বিজয় এনে দিতে পারে না। খেলায় হার-জিত হতেই পারে, তবে তা যেন কখনো সম্প্রতি মিরপুরে ঘটে যাওয়া টেস্ট ক্রিকেটের মতো না হয়। এটাই দেশ ও জাতির প্রত্যাশা।