বসন্ত উৎসবে মেতেছে সবাই

46

নিউজ ডেস্ক ::
শীতের মৌনতা ভেঙ্গে বাংলার প্রকৃতিতে আজ এসেছে বসন্ত। চারদিকে রঙ্গিন ফুলের সমারোহ। তাই তো কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন ‘আহা, আজি এ বসন্তে এতো ফুল ফোটে/এতো বাঁশি বাজে, এতো পাখি গায়…’।

‘হে কবি! নীরব কেন- ফাগুন যে এসেছে ধরায়, বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়? ‘কবিতা নয়, প্রকৃতিতে ঋতুরাজ বসন্ত এসে গেছে। প্রকৃতিতে শীতের রিক্ততা থাকলেও তা ভুলিয়ে দিয়েছে বসন্তের ছোঁয়া। প্রকৃতি যেন নতুন রূপে, বর্ণে বর্ণিল হয়ে বসন্তকে বরণের অপেক্ষায় ছিল। সেই অপেক্ষা অবসান হয়েছে। আজ মঙ্গলবার মহাসমারোহে নগরজুড়ে চলছে বসন্তবরণ। শহুরে ব্যস্ততার মধ্যেও থেমে নেই বসন্ত উৎসব। রাজধানী বিভিন্ন জায়গায় বসন্ত উৎসব চললেও প্রধান আকর্ষণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) চারুকলার বকুলতলা।

এসো মিলি প্রাণের উৎসবে’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে জাতীয় বসন্তবরণ উৎসব উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হয় বসন্তের এ অনুষ্ঠান। নানা আয়োজন চলছে বকুলতলায়।

সকাল ও বিকেল দুই পর্বে বিভক্ত করা হয়েছে অনুষ্ঠানসূচি। সকালের আয়োজনের মধ্যে রয়েছে সংগীত, দলীয় নৃত্য, বসন্ত কথনপর্ব, প্রীতিবন্ধনী বিনিময়, আবির বিনিময়, দলীয় সংগীত, আবৃত্তি, একক আবৃত্তি ও একক সংগীত।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত আবৃত্তিকার সৈয়দ হাসান ইমাম, উৎসব আয়োজন কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক শফি উদ্দীন আহমেদ, উৎসব কমিটির নাঈম হাসান সুজা, মানজার হাসান সুইট প্রমুখ।

বসন্ত উপলক্ষে চারুকলা সেজেছে বাসন্তী সাজে। বাসন্তী সাজে সজ্জিত বিভিন্ন বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর বকুলতলার চারিপাশ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর অনেকে বিভিন্ন রঙ নিয়ে উৎসবে মেতেছেন। লাল, হলুদ, বাসন্তীসহ নানা রঙের পাঞ্জাবি আর ফতুয়া পড়েছেন ছেলেরা। আর মেয়েরা এসেছেন লাল-হলুদ-বাসন্তী শাড়ি পড়ে, সঙ্গে খোঁপায় গাঁদা ফুল।

বসন্ত উৎসবের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে বিকেল সাড়ে ৩টায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বকুলতলা, বাহাদুর শাহ পার্ক, ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর মঞ্চে একযোগে অনুষ্ঠান চলবে।

আজ থেকে শুরু হবে কোকিলের কুহু কুহু ডাক। আর ডাকের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে কোকিলকে আরও উত্তেজিত করবে বস্ত্রহীন গায়ের বেয়াড়া ছেলেটা। হরেক রঙের শাড়ি, মাথায় নানা রঙের ফুল দিয়ে বকুলতলায় জড়ো হয়েছেন তরুণীরা। শুধু তরুণীরাই নয়, তরুণরাও এসেছেন বসন্তের সাজে। এসেছেন বিদেশিরাও।

উৎসব কেমন লাগছে জানতে চাইলে তরুণী নূর-ই-নিগার বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে। আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলাম তখন থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান খুব পছন্দ করি। পহেলা ফাল্গুন, পহেলা বৈশাখ এসব উৎসব আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির অংশ। এসব উৎসব আমাদের সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশও বটে। এর মধ্য দিয়ে আমরা সবাই একত্র হওয়ার সুযোগ পাই।’

বসন্ত উৎসবে আসা জাপান প্রবাসী সুজন রহমান বলেন, ‘আমি জাপানেও দেখেছি তারা এসব উৎসব পালন করে। আমরা বাঙালি, আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি আছে। এসব উৎসব আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা আসলে বাঙালি।’