সংবাদ সম্মেলনে কী বলবেন অপু বিশ্বাস

287

বিনোদন ডেস্ক:: জনপ্রিয় তারকা দম্পতি শাকিব খান-অপু বিশ্বাস। তাদের ডিভোর্সের বিষয়টি এখন অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় যেন থামছেই না। ইতিমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সালিশি বৈঠকের জন্য শাকিব-অপুকে দুই বার ডেকে পাঠানো হয়েছে। একবার অপু বিশ্বাস সেখানে গেলেও শাকিব খান একবারও যাননি। অপু বিশ্বাস ডিভোর্স মেনে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

নিয়ম অনুযায়ী আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি তাদের ডিভোর্স হয়ে যাচ্ছে। এরপর অপু বিশ্বাস সংবাদ সম্মেলন ডাকবেন বলে জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘২২ ফেব্রুয়ারির পরে আমি সংবাদ সম্মেলন করবো। সেখানে আমি অনেক কথা তুলে ধরবো। সবাইকে পুরো বিষয়টি জানাবো।’

দীর্ঘ আট বছর গোপনে সংসার করার পর অপুর কোলজুড়ে আসে পুত্র আব্রাহাম খান জয়। প্রায় বছরখানেক আগে অপু বিশ্বাস সংবাদমাধ্যমে তাদের বিয়ের খবর জানান। এরপর থেকেই শাকিব-অপুর সম্পর্কটা ভালো যাচ্ছিল না।

শাকিব খান মুঠোফোনে বলেন, একটি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে দুজনের মধ্যে শ্রদ্ধা থাকতে হয়। সেটি এখন আর আমাদের মধ্যে অবশিষ্ট নেই। আমি চাই, এটি শেষ হয়ে যাক। তবে আমার সন্তান আব্রামের ভালোর জন্য সবরকম চেষ্টা থাকবে। ভালো স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ব্যবস্থা করা, ওকে ভালো রাখা, ওকে প্রতিষ্ঠিত করার ব্যাপারে সব ধরনের সাপোর্ট থাকবে।

অপু বিশ্বাস বলেন, শাকিব যা ভালো মনে করেছে, হয়তো সেভাবেই সিদ্বান্তটি নিয়েছে। তার তো স্বাধীনভাবে সিদ্বান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে।

২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর স্ত্রী অপু বিশ্বাসকে তালাক নামা পাঠান স্বামী শাকিব খান। সেই চিঠি নগর ভবনে যায় ৪ ডিসেম্বর। সকল প্রক্রিয়া শেষ করে ১১ ডিসেম্বর চিঠিটি গ্রহণ করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।

নিয়ম অনুযায়ী নব্বই দিনের মধ্যে শেষ হয় বিয়ে বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া। শাকিব-অপু’র বিচ্ছেদ বিষয়ক কার্যক্রম হিসেব হবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের চিঠি গ্রহণের দিন অর্থাৎ ১১ ডিসেম্বর থেকে। সেই হিসেবে বিচ্ছেদ প্রক্রিয়ার নব্বই দিন শেষ হবে ১১ মার্চ। আর সেই দিনেই তৃতীয় ও শেষ সালিশের দিন ধার্য করেছে উত্তর সিটি করপোরেশন।

১১ মার্চ কোনো সমঝোতা না হলে বিচ্ছেদ ঘটবে ঢালিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও আলোচিত জুটি শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের।

গত ১৫ জানুয়ারি ছিল শাকিব অপুকে নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সালিশ। সেদিন একাই উপস্থিত ছিলেন অপু বিশ্বাস। শাকিব খান না থাকায় সালিশের পরবর্তী দিন ধার্য করা হয় ১২ ফেব্রুয়ারি। সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সালিশে উপস্থিত হননি কেউ। শাকিব খান শুটিংয়ে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায়। সঙ্গে আছেন নায়িকা শবনম বুবলী। আগামী ১৪ তারিখ তাদের ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। অপু বিশ্বাস আছেন ঢাকায়। শাকিব খান দেশে না থাকায় অপু আসেননি সালিশে।

নিয়ম অনুযায়ী তালাকনামা পাঠানোর নব্বই দিন পর তা কার্যকর হয়। এই নব্বই দিনের মধ্যে সিটি করপোরেশন দম্পতিকে নিয়ে সমঝোতার আলোচনায় বসেন। কিন্তু প্রথম সালিশে শাকিব এবং দ্বিতীয় সালিশে শাকিব-অপু দুজনেই অনুপস্থিত থাকায় সমঝোতা হবে না বলেই ধারণা করছে সালিশ কমিটি। নব্বই দিন অতিক্রম করলেই বিচ্ছেদের চিঠি ইস্যু করবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।

তবে একটি সুযোগ এখনো রয়েছে অপু বিশ্বাসের। পারিবারিক আদালতে আপিল করে বিচ্ছেদের এই প্রক্রিয়া স্থগিত করতে পারেন তিনি। তারপরেও শাকিব খানকে নিয়ে আলোচনার কোনো সুযোগ না পেলে টিকবে না পারিবারিক আদালতে করা আবেদন।

উত্তর সিটি করপোরেশনের সালিশ কমিটির কর্মকর্তারা জানান, চূড়ান্ত দিন অর্থাৎ ২২ নভেম্বর বা তার আগের দিন ধার্য হতে পারে তৃতীয় ধাপের সালিশ। সেদিন কারো সাড়া না পেলে, বিচ্ছেদের চিটি ইস্যু করবে কর্তৃপক্ষ।