প্রেমপত্র লিখে গিনেস রেকর্ডে ‘মিস্টার ভ্যালেন্টাইন’

19

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: পারমিতাকে ভালোবেসেছিল অনুপম। কিন্তু, পারমিতা কি ভালোবেসেছিল অনুপমকে? উত্তর জানা নেই। তবে সেই না-পাওয়া প্রেমের গল্পটাই লিখে চলেছেন অনুপম। দীর্ঘ ৮ বছর ধরে। কালে কালে তা হয়ে উঠেছে ৩২৭ ফুটের দৈর্ঘ্যের এক অন্যন্য প্রেমপত্র। বিশ্বের দীর্ঘতম প্রেমপত্রের স্বীকৃতি চেয়ে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন ব্যর্থ প্রেমিক।

বাঙালির কাছে ব্যর্থ প্রেমিকের চিরকালীন আইকন দেবদাস। পার্বতীকে না পেয়ে নিজেকে তিলে তিলে শেষ করে দিয়েছিলেন তিনি। প্রেমে ব্যর্থ হয়ে সেই পথে হাঁটতে চেয়েছিলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আসানসোলের অনুপম ঘোষালও। কিন্তু, আত্মহত্যা করলে যে ভালবাসার গল্পটা না-বলা থেকে যাবে! অতএব প্রেয়সী পারমিতাকে উদ্দেশ্য করে চিঠি লিখতে শুরু করলেন অনুপম।

চিঠি লেখা শুরু হয়েছিল ২০০০ সাল থেকে। এই প্রেমপত্র লিখতে গিয়ে নাওয়া-খাওয়াও একপ্রকার ভুলে গিয়েছিলেন। শুধু লিখেই গিয়েছেন তিনি। কলমে আঁচড়ে সাদা পাতায় ফুল হয়ে ফুটে উঠেছে প্রেয়সী কাছে না পাওয়ার যন্ত্রণা। গান, কবিতা আর কথায় সৃষ্টি হয়েছে ৩২৭ ফুট দৈর্ঘ্যের এক অনন্য প্রেমপত্র।

এই চিঠির খবর ইতিমধ্যে পৌঁছে গিয়েছে সুদূর সুইজারল্যান্ডে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের দপ্তরে। বিশ্বের দীর্ঘতম প্রেমপত্রের স্বীকৃতি চেয়ে আবেদন করেছেন অনুপম। প্রাপ্তি স্বীকারের চিঠিও এসেছে।

তবে এই দীর্ঘ প্রেমপত্র লেখার নেশায় কখন যে শরীরে বাসা বেঁধেছে রোগ, টেরই পাননি অনুপম। এখন কলকাতায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন তিনি। নার্ভের চিকিৎসা চলছে। আসানসোলে অনুপম ঘোষাল বলেন, ‘প্রেমে সফল হতে না পেরে প্রথমে আত্মহত্যার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু পারমিতার জন্য জমে ছিল অনেক কথা। সেসবের কী হবে? তাই আড়াই কেজির সস্তা রোল পেপারের ওপর শুরু করেছিলাম পারমিতার জন্য আমার কথামালা।’

তবে শুধু ভালবাসার কথাই নয়, বদলে যাওয়া আসানসোল শহরের কথাও উঠে এসেছে চিঠিতে। চিঠিতে পারমিতাকে উদ্দেশ্য করে আটটি গানও লিখেছেন অনুপম। অনেকেই তাকে ‘মিস্টার ভ্যালেন্টাইন’ বলে ডাকেন। সমস্যা বলতে একটাই, সস্তার কাগজে লেখা চিঠি যে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে! তবে তার চিঠি একদিন হয়ত ঠিকই পৌঁছে যাবে পারমিতার কাছে। সেই আশাতেই দিন কাটছে মিস্টার ভ্যালেন্টাইন অনুপম ঘোষালের।