ক্ষমা চাইলেই অপুর সঙ্গে সংসার করতেন শাকিব!

45

বিনোদন ডেস্ক:: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে শাকিব খানের করা ডিভোর্সের আবেদনের প্রেক্ষিতে দু’দফা ডাকা হয়েছে সমঝোতা বৈঠক। প্রথমবারের বৈঠকে অপু বিশ্বাস উপস্থিত থাকলেও আসেননি ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান। আর পরের বৈঠকে উপস্থিত হননি শাকিব-অপু কেউই। এর ফলে তাদের নতুন করে সংসার গড়ার সম্ভাবনা মোটামুটি বন্ধ হওয়ার পথে। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি পূর্ণ হবে ডিভোর্স আবেদনের তিন মাস। ওইদিনই এ তারকাজুটির ডিভোর্স কার্যকর হবে।

আলোচিত এ ডিভোর্স প্রসঙ্গে শাকিব খান বলেন, মানুষের সহ্যের তো সীমা থাকে। তার জন্য কী করিনি আমি। অথচ সে আমাকে স্বামী হিসেবে কখনো মানেনি। আমি তো চেয়েছিলাম সুখে শান্তিতে ঘর করতে। তারপরেও সে নানাভাবে আমাকে মানসিক যন্ত্রণা দিয়েছে।

শাকিব বলেন, গত বছরের ১০ এপ্রিল আমার বিরুদ্ধে আমার সন্তানকে নিয়ে টেলিভিশন চ্যানেলে লাইভ অনুষ্ঠানে যাওয়া কি তার উচিত ছিল? তারপরেও আমি তার ও আমার সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বার বার সব ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন, ১০ এপ্রিলের ঘটনার পরেও নিয়মিত তার বাসায় যেতাম, তার ও আমাদের সন্তানের খোঁজখবর নিতাম। মাসে যা ভরণ-পোষণ দরকার সবই দিচ্ছি। এত কিছুর পরেও সে কখনো আমাকে ঘিরে তার করা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের জন্য একবারও ক্ষমা চায়নি। সে শুধু আমাকেই অপমান করেনি। আমার বাবা-মাকেও অসম্মান করেছে। সে যদি একবার সবার সামনে এর জন্য ক্ষমা চাইত আমি অবশ্যই সব ভুলে গিয়ে আবার ঘর সংসার শুরু করতাম।

শাকিব বলেন, সে আমার বাচ্চাকে বাসায় কাজের মানুষের কাছে রেখে ঘর তালাবদ্ধ করে দেশের বাইরে চলে যায়। এমন খবরে সন্তানের জন্য চরম উৎকণ্ঠিত হয়ে দেশে এসে সন্তানকে উদ্ধারে নিকেতনে তার বাসায় ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে জানতে পারলাম, দরজায় তালা দিয়ে অপু চাবি নিয়ে চলে গেছে। এরপর বাবা হিসেবে আমি কেমন মানসিক যাতনায় ছিলাম তা কারও বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

তিনি বলেন, এতকিছু ঘটে যাওয়ার পরেও কিছু বলিনি। অপু ফিরে এসে এর জন্য আমার কাছে ক্ষমা তো চায়নি বরং আমার বিরুদ্ধে আবার বিষোদগার শুরু করে। এই অবস্থায় তাকে ডিভোর্স দেওয়া ছাড়া আমার আর কোনো পথ ছিল না।

তিনি জানান, এসব কারণেই ২২ নভেম্বর আইনজীবী মারফত অপুকে ডিভোর্স লেটার পাঠাতে বাধ্য হই আমি।

২০০৬ সালে পরিচালক এফ আই মানিক পরিচালিত ‘কোটি টাকার কাবিন’ ছবিতে নায়িকা হিসেবে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেন অপু। সেই বছর থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এই জুটি একাধারে ৭০টির মতো ছবিতে অভিনয় করেন। একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে এক সময় প্রেমের সম্পর্ক হয় তাদের। ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল গোপনে বিয়ে করেন এই জুটি।

ভারতের কলকাতার একটি ক্লিনিকে ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জন্ম হয় শাকিব-অপুর ছেলে আব্রাম খান জয়ের। গত বছরের শুরুর দিকে শবনম বুবলীর সঙ্গে ঘরোয়া পরিবেশে একটি স্থির চিত্রে শাকিব খানকে দেখা যায়। ছবিতে ‘ফ্যামিলি টাইম’ ক্যাপশন লিখে নিজের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রকাশ করেন বুবলী। এরপরই অপু বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে শাকিব খানের। এরপর একই বছরের ১০ এপ্রিল বিকেল চারটায় দীর্ঘদিন গোপনে থাকা বিয়ে ও সন্তানের বিষয়টি প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন অপু। দেশের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে সব গোপন কথা ফাঁস করে দেন। এরপর থেকেই তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন দিনকে দিন বাড়তে থাকে।