ফিলিস্তিনের সেই ছোট্ট মেয়েটির বিচার শুরু

121

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজ ভূমিতে থেকেও যুগ যুগ ধরে তারা পরাধীন। দখলদার ইসরায়েলের স্বেচ্ছাচারীতা আর দখলদারিত্বের মুখে একপ্রকার অসহায় তারা। এরা ফিলিস্তিনি। প্রিয় মাতৃভূমিকে নিজেদের করে নিতে বার বার বুকের রক্ত ঝরিয়েছে তারা। ইসরায়েলি সেনার গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন অনেক নারীর স্বামী। খালি হয়েছে অনেক ফিলিস্তিনি মায়ের কোল। সহোদরকে হারিয়েছে অনেক শিশু। ইসরায়েলের এই নির্যাতন-অত্যাচারের ক্ষোভ বুকে চেপে রাখতে রাখতে এক সময় তা জ্বালামুখী হয়ে ফেটে পড়ে। এমনটাই হয়েছিল ১৭ বছর বয়সী কিশোরী আহেদ তামিমির ক্ষেত্রে।

বিবিসির খবরে বলা হয়, ইসরায়েলি সেনার গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিল তামিমির ১৫ বছর বয়সী ছোট ভাই। সেই ক্ষোভ জমে ছিল তার বুকে। এর পর গত ১৫ ডিসেম্বর ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের নাবি সালেহ এলাকায় ইসরায়েলি সেনা ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সে সময় দুই সেনাকে চড় মারে তামিমি। পুরো ঘটনার ভিডিও করেন তার মা। পরে সেটি ইন্টারনেটে ফলাও করে প্রচার হয়।

ওই ঘটনার পর তামিমিকে গ্রেপ্তার করে ইসরায়েল। কারাবন্দী করা হয় তার মাকেও। তার জের ধরেই বিচার শুরু হয়েছে তামিমির।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আহেদকে অফার নামে ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটির আদালতে হাজির করা হয় তামিমিকে। এ সময় তার হাত-পা শিকল দিয়ে বাঁধা ছিল এবং পরনে ছিল কয়েদিদের পোশাক।

তামিমির বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা, সহিংসতায় উসকানি দেওয়াসহ ১২টি অভিযোগ আনা হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড হতে পারে ফিলিস্তিনি এই কিশোরীর।

মামলার শুনানি শুরুর পর সাংবাদিকদের আদালতের ভেতর থেকে বাইরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। তামিমির আইনজীবী জাবি ল্যাসকি বলেন, ‘তামিমির জন্য কোনটি ভাল আর কোনটি মন্দ তা সিদ্ধান্ত নেবে আদালত। তাই শুনানির সময় বাইরের কাউকে আদালতে থাকতে দেওয়া হয়নি।’

তবে তামিমির বাবা বাসেম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি তামিমিকে ‘শক্ত’ থাকার পরামর্শ দেন।