উচ্চ আদালতে খালেদা জিয়া সুবিচার পেতে পারেন: নজরুল

37

নিউজ ডেস্ক:: উচ্চ আদালতে খালেদা জিয়া সুবিচার পেতে পারেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

রোববার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সংস্কৃতিক দল (জাসাস) আয়োজিত এক গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।

‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভুয়া, জাল নথির মাধ্যমে সাজানো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় সাজা প্রদানের প্রতিবাদে এবং নি:শর্ত মুক্তির দাবি’ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, বাংলাদেশের কেউ বিশ্বাস করে না বেগম জিয়া দুর্নীতি করেছেন। কারণ মিথ্যা মামলায় তাকে (খালেদা জিয়া) সাজা দেয়া হয়েছে। কিন্তু আদালতের বিরুদ্ধে আমাদের কোন বক্তব্যে নেই। তবে একথা বলতে পারি, বেগম জিয়া সুচিবার পাননি। আমাদের আশা, উচ্চ আদালতে হয়তো তিনি সুবিচার পাবেন। আর তা না হলেও একজন রাজনীতিবিদের জন্য, কিছু যায় আসে না। রাজনীতিবিদরা জনগণকে তার বিচারক মনে করে। আর জনগণের বিচারে বেগম জিয়া বেকসুর খালাস পেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত না হলে আদালত প্রথম দিকেই এ মামলা বাতিল করতে পারতেন। অথবা বেগম খালেদা জিয়াকে এ মামলা থেকে বাদ দিতে পারতেন। এটাই স্বাভাবিক ছিল। এরপরও অন্যায় বিচারে বেগম জিয়াকে সাজা দেয়া হয়েছে। আর সাজা দেওয়ার পরেও সরকারের প্রতিহিংসার শেষ হয়নি।

খালেদা জিয়া ৩ বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) বিএনপির মত একটি দলের চেয়ারপারসন। ৫টি নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ২৩টি আসনে তিনি অংশগ্রহণ করেছেন। ২৩ বারের জাতীয় সংসদ সদস্য। কারাকর্তৃপক্ষ বা সরকার এসব জানে না? তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছে, দেখে নাই কেউ? তিনি যে বিএনপির চেয়ারপারসন এটা আদালতে আলোচনা হয়নি? এরপরও তিন দিন তাকে ডিভিশন দেয়া হয়নি। একজন সাধারণ কয়েদির মত তাকে রাখা হয়েছে।

‘এটা সরকারের প্রতিহিংসা ছাড়া আর কি হতে পারে। কিন্তু এই প্রতিহিংসায় কি হয়েছে? তিনি ছিলেন, আপসহীন দেশনেত্রী। আজ বাংলাদেশের লক্ষ মানুষের মা হয়ে গেছেন। তিনি (খালেদা জিয়া) এখন সকলের মা হয়েছেন। মা’র চেয়ে বেশি শ্রদ্ধা আর কেউ পায় না। সুতরাং দেশের সবচেয়ে বেশি সংখ্যাক মানুষের শ্রদ্ধার পাত্র দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ।’

মরণকালে না কি সবই ভুল হয়ে যায় মন্তব্য করে নজরুল ইসলাম বলেন, একারণে সরকারের সবই ভুল হয়ে যাচ্ছে। আশা ছিল রায় হওয়ার পড়ে বিএনপির কর্মীরা মনের কষ্টে বাস ভাঙবে। আর সেই সুযোগে তারা মানুষ পুড়িয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেবে। সেটা হয়নি। এটাও আরেকটা মন কষ্টের কারণ। কিন্তু তাদের কষ্ট দূর করার দায়িত্ব বিএনপির নয়। তারা জ্বলে-পুড়ে মরুক।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও খালেদা জিয়া সাজা দেয়া পছন্দ করে নাই জানিয়ে তিনি বলেন, সারাদেশে আলোচনা করে দেখেন। তাদের (আওয়ামী লীগ) নেতাকর্মীরাও বলেছে, এটা খুব অন্যায় হয়েছে। এরকম একজন বয়স্ক মহিলাকে সাজা দেয়া।

বিএনপির এই নেতা বলেন, খালেদা জিয়া কোনো দুর্নীতি করেন নাই এবং তাকে দুর্নীতির আইনে বিচারও করা হয়নি। এতিমের টাকা মারার কথা (সরকার) বলে ওরা। এতিমের টাকায় বেগম জিয়ার স্পর্শও ছিল না। আর আদালতও বলেন নাই যে, তিনি (খালেদা জিয়া) এতিমের টাকা মেরেছে। আওয়ামী লীগ বরাবরই অপপ্রচারে বিশ্বাস করে- বলে মন্তব্য করেন নজরুল ইসলাম।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, সংগঠনের সহ-সভাপতি মীল সানাউল হক, সাধারণ সম্পাদক হেলাল খান প্রমুখ বক্তব্যে রাখেন।