ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন বাংলাদেশের সন্তান বিপ্লব

40

সবুজ সিলেট ডেস্ক

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের ছেলে বিপ্লব কুমার দেব। তার পৈত্রিক বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সহদেবপুর পূর্ব ইউনিয়নের মেধদাইর গ্রামে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তার বাবা হিরুধন দেব ও মা মিনা রানি দেব ত্রিপুরায় পাড়ি দেন। সেখানেই জন্ম হয় একমাত্র ছেলে বিপ্লব কুমার দেবের। পরিবার ত্রিপুরা চলে গেলেও তার আত্মীয়স্বজন এখনো চাঁদপুরেই বসবাস করছেন।
বিপ্লব দেবের কাকা প্রাণধন দেব কচুয়া উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি। তিনি বলেন, একাত্তর সালে বিপ্লবকে ওর মা পেটে নিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়েছিলেন। এর পর ত্রিপুরায় তার জন্ম হয়। গেল ১৮ ফেব্রুয়ারি ত্রিপুরা রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বনমালিপুর আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন বিপ্লব। শুধু বিপ্লবই নন তার নেতৃত্বে ৬০টি আসনের মধ্যে ৪৩টিই পেয়েছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অনেকের নাম আলোচনায় থাকলেও রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার দুবছরের মাথায় দলকে ভোটে জেতানো তরুণ নেতা বিপ্লবেই ভরসা রাখা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শনিবার তিন রাজ্যের নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর পরই ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোও তাকেই ত্রিপুরার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখছে।
বিপ্লব রাজ্য বিজেপির দায়িত্ব পান ২০১৬ সালে ৭ জানুয়ারি। সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে দুবছরের মধ্যেই দলটিকে ঐতিহাসিক বিজয় এনে দেন। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারে থাকা দলটির সবচেয়ে কম বয়সী রাজ্য সভাপতিও তিনি। আগে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে তাকে ১৫ বছর দিল্লিতে থাকতে হয়েছে। সেখানে তিনি একটি ব্যায়ামাগারে প্রশিক্ষক ছিলেন। বিয়েও করেছেন দিল্লিতে। অবশ্য স্ত্রী নীতি দেব পাঞ্জাবের মেয়ে, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার বিষয়ে দলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকলেও ভোটে জয়ের পর কিন্তু বিপ্লব পিতৃভূমি বাংলাদেশের কথা ঠিক মনে রেখেছেন। বলেছেন, আমি ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী হতে প্রস্তুত আছি। তবে দলের সিদ্ধান্তই শেষ কথা। মুখ্যমন্ত্রী হলে বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়েই রাজ্যের উন্নয়নে কাজ করব।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে বিজেপি প্রতিনিধি দলের প্রধান হয়েও এসেছিলেন বিপ্লব কুমার দেব। সেবার পৈতৃক ভিটা ঘুরে গিয়েছিলেন, পেয়েছিলেন বিশেষ সংবর্ধনা। সঙ্গে স্ত্রী নীতি দেবও ছিলেন।