‘জয় বাংলা বলে যারা মেয়েদের যৌনহেনস্তা করে তাদের দেশে থাকব না’

51

সবুজ সিলেট ডেস্ক
কলেজ থেকে ফেরার পথে মিছিলে একদল উচ্ছৃঙ্খল তরুণের কাছে লাঞ্চিত হয়েছে বলে অদিতী বৈরাগী নামে এক ছাত্রী অভিযোগ তোলেন।ফেসবুক স্টাটাসের মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন ‘জয় বাংলা’জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে তাকে লাঞ্চিত করা হয়েছে । পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওই ছাত্রী বিক্ষুদ্ধ হয়ে লিখেন, ‘জয় বাংলা বলে যারা মেয়ে মলেস্ট (যৌন আক্রমণ) করে তাদের দেশে আমি থাকব না। থাকব না। থাকব না…।’ ফেসবুকে দেয়া এই স্টাটাসটি মুহুর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই শেয়ার দিয়ে বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করছেন। তবে মেয়েটি এই স্ট্যাটাস দেয়ার প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর পোস্টটি ডিলিট করে দেয়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মেয়েটির সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার এক সহপাঠী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অদিতী মানুষিকভাবে বিপর্যস্ত আছে। সে এখন মিডিয়ায় কথা বলতে পারবে না।”

তবে অদিতির জীবনে যা ঘটলো তা আমাদের সমাজকে ক্ষত বিক্ষত করেছে। দেশ যখন উন্নয়নের মহাসড়কে তখন অদিতির শরীরে নোংরা পুরুষের হাত আমাদের লজ্জিত করে, ক্ষুদ্ধ করে তোলে।

৭১ এর নির্যাতিত নারীর আর্তনাদই যেন আমরা শুনতে পাই । আমাদের লাল-সবুজের পতাকাকে বার বার নোংরা করছে স্বধীনতার চাদরে লুকিয়ে হায়েনার দল। কলঙ্কিত করছে সবুজ বাংলাদেশকে। নারী দিবসের আগে শান্তিনগর মোড়ে দাড়িয়ে থাকা অদিতির ঘটনায় প্রতিবাদের ঝড় উঠে ফেসবুক মিডিয়ায়।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ৭ই মার্চের সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে শ্লীলতাহানির ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কথা বলেন।

ফেসবুকে অদিতীর দেয়া স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে দেয়া হলো-
শান্তিনগর মোড়ে এক ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো বাস পাইলাম না। হেটে গেলাম বাংলামটর। বাংলামটর যাইতেই মিছিলের হাতে পড়লাম। প্রায় ১৫-২০ জন আমাকে ঘিরে দাঁড়াইলো। ব্যস! যা হওয়ার থাকে তাই। কলেজ ড্রেস পড়া একটা মেয়েকে হ্যারাস করতেসে এটা কেউ কেউ ভিডিও করার চেষ্টা করতেসে। কেউ ছবি তোলার চেষ্টা করতেসে। আমার কলেজ ড্রেসের বোতাম ছিড়ে গেসে। ওড়নার জায়গাটা খুলে ঝুলতেসে। ওরা আমাকে থাপড়াইসে। আমার শরীরে হাত দিসে। আমার দুইটা হাত এতগুলা হাত থেকে নিজের শরীরটাকে বাঁচাইতে পারে নাই। একটা পুলিশ অফিসার এই মলেস্টিং চক্রে ঢুকে আমাকে বের করে অ্যান্ড একটা বাস থামায়ে বাসে তুলে দেয়। বাকিটা পথ সেইফ্লি আসছি। প্রচন্ড শরীর ব্যথা ছাড়া আর কোনো কাটাছেড়া নাই। মেন্টালি ভয়াবহ বিপর্যস্ত বাট শারীরিক ভাবে ভালো আছি। আমি এই শুয়োরদের দেশে থাকব না। জয় বাংলা বলে যারা মেয়ে মলেস্ট করে তাদের দেশে আমি থাকব না। থাকব না। থাকব না…।’

বিকালে ফেসবুকে অদিতী তার স্টাটাস দেয়ার পরপরই তা ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই শেয়ার দিয়েছেন। বিভিন্ন ব্যাক্তির ফেসবুকে, গ্রুপে পেইজে অদিতী বৈরাগীর স্টাটাসটি শেয়ার করা হয়। চার ঘন্টাতেই ১৪ হাজারের বেশি লাইক পড়ে ও প্রায় ৭ হাজার বার শেয়ার করা হয়।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বাকি বিল্লাহ লিখেছেন, ‘অদিতি বৈরাগী ভিকারুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের যে সংগঠনটির প্রতিনিধিত্ব করতেন তার নাম ‘৭১ অবিনাশী সত্তা’। ৭১ কে অবিনাশী করে তুলতে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছে ৭ই মার্চ। আর আজ ২০১৮ সালের ৭ই মার্চ, মিছিলের মধ্যে পড়ে ভয়ংকর যৌন নিপীড়নের শিকার হলেন অদিতি। এর চেয়ে করুণ, পীড়াদায়ক আর কিছু হতে পারে না।’

আবির ইমতিয়াজ নামের একজন লিখেছেন, ‘জয় বাংলা আর স্বাধীনতার চেতনা মূল্যহীন এই দেশে।’
নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জল আক্ষেপ করে লিখেছেন, আমরা (আম জনতা) দীর্ঘদিন ক্ষমতাহীন। কষ্ট আর হাহাকার ছাড়া আর কিছুই যেন অবশিষ্ট নেই!

পরবর্তীতে অদিতি অপর একটি স্টাটাসে জানায়…
সে ভালো আছে…

অপর এক প্রতিক্রিয়ায় দেখা যায়–
অদিতির কথা আমাদের মনে করিয়ে দেয় তোতা খালার কবিতা।
“তোতা খালা,
পাখির নামে তোমার নাম কে রেখেছিলো জানি না
সবুজ তোমার খুব পছন্দের রঙ ছিলো, আর
পাখির মতোই মিষ্টি ছিলো তোমার কণ্ঠস্বর”
——-
সেই সবুজের ভেতর দেখি লাল রক্তের ছোপ
আজ পতাকার দিকে তাকালে তোমার সবুজ শাড়ি আর
লাল রক্তের কথা মনে না পড়ে যায় না
তোমার সবুজ শাড়ি, তোমার বুকের রক্ত, তোমার সম্ভ্রম দিয়ে বোনা
আমাদের এই জাতীয় পতাকা”