১০ দিনের রিমান্ডে ফয়জুর : পক্ষে ছিলেন না কোন আইনজীবী

89

নিজস্ব প্রতিবেদক

জনপ্রিয় লেখক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলাকারী ফয়জুর হাসানকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার আদালতের মধ্যমে ফয়জুরকে রিমান্ডে নেওয়া হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ১৫মিনিটে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ফয়জুর হাসানকে সিলেট মহানগর হাকিম ৩য় আদালতে তোলা হয়।

সিলেট মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী বলেন, আদালতে হাজির করে ফয়জুরের ১০ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জালালাবাদ থানার ওসি শফিকুর রহমান। আদালতের বিচারক হরিদাস কুমার ১০ দিনেরই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আজ (বৃহস্পতিবার) থেকেই ফয়জুরকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হবে বলে জানান তিনি।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, রিমান্ড মঞ্জুরের পরই ফয়জুরকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশের একটি বিশেষ ইউনিট।

আদালতে উপস্থিত সিলেট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট রুহুল আমিন বলেন, আদালতে কেউ ফয়জুরের জামিন আবেদন করেননি। তার পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। সিলেটের কোনো আইনজীবী ফয়জুরের পক্ষে লড়বেন না।

গত শনিবার বিকেলে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হামলার শিকার হন অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে ফয়জুরকে হাতেনাতে আটক করে গণপিটুনি দেয় শাবি শিক্ষার্থীরা। ওইদিনই র‌্যাব শাবি ক্যাম্পাস থেকে ফয়জুরকে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে আসে। পরদিন রবিবার র‌্যাব ফয়জুরকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর থেকেই ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলো ফয়জুর। আটকের ছয়দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে হাজির করা হয় এই তরুণকে।

এদিকে, হামলার পর দিন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন বাদী হয়ে ফয়জুরকে আসামী করে জালালাবাদ থানায় মামলা দায়ের করেন। হামলার পর পুলিশ ও র‌্যাব মিলে ফয়জুরের বাবা-মা, মামা-চাচাকে আটক করে। এরমধ্যে মামা ও চাচাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

হামলার পর অধ্যাপক জাফর ইকবালকে প্রথমে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ও পরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সিএমএইচে চিকিৎসাধীন এই শিক্ষাবিদ এখন অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। বুধবার তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়।