সবজির সঙ্গে বিষ খাচ্ছি আমরা!

51

মাছে ভাতে বাঙালি, এই কথার সঙ্গে একমত হতে পারি না। মাছ খেতে পারে না এমন পরিবার অহরহ খুঁজে পাওয়া যাবে আমাদের দেশে। কিন্তু একবেলা সবজি খায় না এমন পরিবার খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কথা হচ্ছে, সবজি আমরা কোথায় পাই। কৃষক মাঠে ফলায়, সেখান থেকে আমরা সবজি পাই। শুধু সবজি নয়। কৃষকের ওপর নির্ভর করতে হয় চাল-ডাল, ফল-ফলাদি সকলকিছুর জন্যই। কিন্তু এই সকলকিছুর সঙ্গে আমরা বিষ খাচ্ছি না তো! ফসলের খেতে কীটনাশকের প্রভাব তো আমাদের খাবারের ওপর পড়ে।

আমাদের শরীর পরীক্ষা করলে দেখা যাবে, আমাদের অনেক রোগের পেছনে এই কীটনাশকের প্রভাব আছে। কৃষক কীটনাশক ব্যবহার করবেইবা না কেন? ফসল না থাকলে কৃষকও থাকবে না। পোকামাকড় কিংবা রোগব্যাধি যাই আক্রমণ করুক তা থেকে বাঁচতে তো হবে।

বিকল্প কোনো ব্যবস্থা কি আছে? হ্যাঁ, আছে। জৈব বালাইনাশক ব্যবস্থা। কিন্তু এ সমপর্কে কয়জন কৃষক জানে? আর যারাও জানে তারা হয়তো মনে করে এর দ্বারা রোগ বা পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে পুরোপুরি রক্ষা করা যায় না। কিন্তু আসলে জৈব বালাইনাশক যে রাসায়নিক কীটনাশকের চেয়েও কার্যকর তা কৃষকদের জানানোর দায়িত্ব এখন সবার। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এই জৈব বালাইনাশক বাজারজাত করে ইসপাহানী এগ্রো লিমিটেড। ২০০৭ সালে।
জাতীয়ভাবে আমাদের উদ্যোগ নিতে হবে। ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। সরকার এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে। কৃষকদের মধ্যে জৈব বালাইনাশক ছড়িয়ে দিতে হবে। আর কার্যকারিতা তাদের বোঝাতে হবে। এর দ্বারা দেশ ও জাতির উপকার হবে। কীটনাশক ব্যবহার করে মানুষের ক্ষতি করার মানসিকতা থেকে বের হতে হবে। একজন কৃষিবিদ হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করে কৃষকের উপার্জন কমবে না বরং বাড়বে। পরিশেষে একটি কথা বলব, আমাদের সকলের মন্ত্র হোক ‘নিরাপদ খাদ্য, নিরাপদ জীবন’।