দুর্ঘটনা কবলিত বিমানে ছিলো রাগীব রাবেয়া মেডিকেলের ১৩ শিক্ষার্থী

82

সৈয়দ বাপ্পী ::
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের উদ্দেশ্যে ৬৭ যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যাওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের দেশ কিউ-৪০০ মডেলের বিমানটির অন্তত ৫০ যাত্রী নিহত হয়েছে বলে জানাচ্ছে দেশটির প্রথমসারির সংবাদমাধ্যম মাই রিপাবলিকা। ৬৭ যাত্রীর মধ্যে সিলেটের জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের ১৩ জন শিক্ষার্থী ছিলেন। তারা সবাই নেপালী নাগরিক। সিলেটে থেকে মেডিকেল হাসপাতালের পড়ালেখা করছিলেন তারা। এদের সবারই মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ডা. আবেদ হোসেন। এদের মধ্যে ১১ জন মেয়ে শিক্ষার্থী ও ২ জন ছেলে শিক্ষার্থী রয়েছে। তারা সবাই ১৯ তম ব্যাচের ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থী।
মাত্র ২দিন আগে শেষ হয়েছে এমবিবিএস পরীক্ষা। সবাই একসাথে বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা করে পরীক্ষা শুরুর আগেই। কবে শেষ হবে পরীক্ষা আর কখন যাওয়া হবে বাড়ি। বাবা-মার সান্নিধ্য পেতে অধীর আগ্রহে একসাথে সবাই মিলে ইউএস বাংলা বিমানের টিকিট করেন। একরাশ স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা করে ওরা। বিমানও উড়ল আকাশে। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাসে শেষ হয়ে যায় স্বপ্ন। বাড়ি ফেরা হলো না তাদের। বিমানবন্দরে অবতরণের আগেই বিমান বিধ্বস্ত হয়ে যায়। একরাশ স্বপ্নের সমাধি হয়ে যায়। নেপালে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলার বিমানে ছিল সিলেটের জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৯তম ব্যাচের নেপালি বংশোদ্ভূত ১৩ শিক্ষার্থী। ১৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে কারো সঠিক সন্ধান দিতে পারছে না। কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, এদের সবাই মারা গেছেন। তবে কলেজে অধ্যয়নরত নেপালী বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে, ১৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ১০ জনের এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো সন্ধান মিলছে না। কলেজের ছুটিতে নিজ দেশে বেড়াতে যাচ্ছিলেন ওই ১৩ শিক্ষার্থী।
১৩ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সঞ্জয় পৌডেল, সঞ্জয়া মহারজন, নেগা মহারজন, অঞ্জলি শ্রেষ্ঠ, পূর্ণিমা লোহানি, শ্রেতা থাপা, মিলি মহারজন, শর্মা শ্রেষ্ঠ, তানজিলা বারাল, চারু বারাল, শামিরা বেনজারখার, আশ্রা শখিয়া ও প্রিঞ্চি ধনি।
এদিকে বিমান দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীদের প্রাণহানির শঙ্কায় ৩দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার কলেজের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে বলে জানান রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আবেদ হোসাইন। তিনি আরো বলেন, গতকাল গাইনি ও মেডিসিন বিভাগের এমবিবিএস সমাপনী পরীক্ষা শেষ হয়। এরপর নেপালি ১৩ শিক্ষার্থী দেশের বাড়িতে ছুটি কাটাতে ইউএস-বাংলার ওই ফ্লাইটে করে নেপাল যান। তবে নেপাল দূতাবাসসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা জেনেছি বিমান বিধ্বস্তে ১৩ শিক্ষার্থীর সবাই মারা গেছেন।
এদিকে রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র নেপালী বংশোদ্ভূত নিতেশ গিমারী জানান, আমরা নেপালে যোগাযোগ করেছি ১৩ জনের মধ্যে ২জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এরা হলেন, থিঞ্চি দামী ও সরিমা বেঞ্চাকার। আরেকজনের নাম বলতে পারেননি।
উল্লেখ্য জালালাবাদ রাগীব আলী মেডিকেলের ১৯তম ব্যাচের ১৬০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪০জন ছিল নেপালী। গতকাল সোমবার নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্ত হয়। বিমান বিধ্বস্তের এ ঘটনায় ৪৬ জন প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির গণমাধ্যম।